ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলার প্রস্তুতি

১২:২০ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, জুলাই ২২, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- এবার সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে পৃথক আইনে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আরেক আইনজীবী। হিন্দু আইনজীবী পরিষদের সভাপতি এ আইনজীবীর নাম সুমন কুমার রায়।

রোববার (২১ জুলাই) ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ বিষয়টি জানানোর পর সংবাদমাধ্যমেও মামলার প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।

সুমন কুমার রায় জানান, ব্যারিস্টার সুমনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি ধারায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে একটি এবং মানহানির অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুটি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে দুই ধরনের অভিযোগ আনার সুযোগ আছে। একটি ২৯৫ (ক) ধারায়। অপরটি ফেসবুক লাইভে মানহানি করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংশোধিত ধারায় অভিযোগ আনা হবে।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘মামলা করা একটি সাংবিধানিক অধিকার। যে কেউ কারো বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। এটাই বাংলাদেশের নিয়ম হওয়া উচিত।’

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করায় বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে করা ব্যারিস্টার সুমনের মামলা খারিজ করে দেন আদালত।

রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমানের আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

পেনাল কোডের ১২৩ (এ), ১২৪ (এ) ও ৫০০ ধারায় মামলাটি আমলে নেয়ার জন্য ব্যারিস্টার সুমন আদালতে আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পরে খারিজের আদেশ দেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে ব্যারিস্টার সাইয়েদুল হক সুমন বলেন, নিজের দেশ সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেয়া প্রিয়া সাহার বক্তব্য মিথ্যা, বানোয়ার ও ভিত্তিহীন। তিনি সম্প্রীতির বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন। এটি রাষ্ট্রদ্রোহীতার সামিল। যেখানে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এ দেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ বলেছেন সেখানে এ দেশের নাগরিক হয়ে ট্রাম্পের কাছে গিয়ে প্রিয়া সাহা এমন বক্তব্য দিয়েছেন। এটি রাষ্ট্রদ্রোহীতামূলক অপরাধ ও গভীর ষড়যন্ত্র। এজন্য একজন আইনজীবী হয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আগামী রোববার আদালত খুললেই প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করব।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার ২৭ ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ১৬টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহাও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান।

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেন, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।

এরপর তিনি বলেন, এখন সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি।

ভিডিওতে দেখা গেছে, এক পর্যায়ে ট্রাম্প নিজেই সহানুভূতিশীল হয়ে ওই নারীর সঙ্গে হাত মেলান।

কারা এমন নিপীড়ন চালাচ্ছে? ট্রাম্পের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রিয়া সাহা বলেন, ‘দেশটির মৌলবাদীরা এসব করছে। তারা সবসময় রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছে।’

প্রিয়া সাহার দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির বহু উদাহরণ সোশ্যাল মিডিয়া তুলে ধরছেন নেটিজেনরা।

৭১ এর চেতনায় গঠিত যে দেশে সব ধর্মের নাগরিক সমান অধিকারে সহাবস্থান করে বিশ্বে অসাম্প্রদায়িকতার মডেল হিসেবে পরিণত হয়েছে সেই দেশ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাঠে প্রিয়া সাহার এমন বক্তব্য কখনই মেনে নেয়ার মতো নয় বলেও অভিমত দিচ্ছেন সচেতনরা।