সংবাদ শিরোনাম
১৫ ডিসেম্বর প্রকাশ পাচ্ছে রাজাকারের তালিকা | বড় দিন ও থার্টিফার্স্ট নাইটে উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠান নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | গণধর্ষণের মাধ্যমে কি সন্ত্রাস মোকাবিলা করতে হয়? প্রশ্ন গাম্বিয়ার | পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পর এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর স্থগিত! | নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পুলিশের গুলিতে নিহত ৩ | মিয়ানমারের বক্তব্যকে ‘ফ্রড’ বলল গাম্বিয়া | আশুলিয়ায় চেয়ারম্যান সহযোগী গুলিবিদ্ধের ঘটনায় মুল হোতা বাদে ১০জনের বিরুদ্ধে মামলা! | তানোরে ধর্ষণ মামলার আসামীসহ গ্রেফতার- ২ | ডুয়েটে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস’ উয্যাপিত | টাঙ্গাইলে ট্রাক্টরচাপায় শিশুর মৃত্যু |
  • আজ ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এবার ঢাকার দিকে ধেয়ে আসছে বন্যা

১০:৩১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, জুলাই ২৩, ২০১৯ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১০ দিনের বন্যায় ২১ জেলার ৩০ লাখের বেশি মানুষ এখন ক্ষতিগ্রস্ত। এরমধ্যে কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, সিলেট, গাইবান্ধা, সুনামগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

বৃষ্টি কমার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পানিও কমতে থাকায় পরিস্থিতিও উন্নতির দিকে কোথাও কোথাও। তবে দেশের অভ্যন্তরে ও উজানে বর্ষণ কমলেও কয়েকটি নদীর পানি এখনও বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উত্তরাঞ্চলের নদীসমুহের পানি বিভক্ত হয়ে ঢাকার দিকে আসবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড আগাম সতর্কতা জারি করেছে। চীনের পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে জানা গেছে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আরিফুজ্জামান রোববার রাতে জানিয়েছেন, চীন বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে। এই কারণে বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতিতে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। চীনের পানি বাংলাদেশের নদীতে আসার আগেই এর প্রভাব শেষ হয়ে যাবে। অর্থাৎ বন্যা সৃষ্টির মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারবে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ড অবশ্য আগামী ২৪ ঘন্টায় পদ্মা এবং ঢাকার চারপাশের নদীসমুহ ব্যতিত অন্যান্য সকল প্রধান নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে বলে জানিয়েছে। ঢাকার আশপাশের নদীসমুহে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের উজানে ভারতের প্রদেশসমুহে আগামী ২৪ ঘন্টায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। ফলে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং সুরমা নদীসমুহের পানি হ্রাস পাবে।

অপরদিকে গঙ্গা-পদ্মা ও কুশিয়ারা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে। অপরদিকে মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও মুন্সিগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অপরিবর্তিত থাকতে পারে। বগুড়া, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও সিলেট জেলায় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে এবং আগামী ২৪ ঘন্টায় একই রকম থাকতে পারে।

আগামী ১০ দিনের পূর্বাভাসে বন্যার সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত কমতে পারে। পরবর্তিতে সামান্য বেড়ে স্থিতিশীল হতে পারে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর অববাহিকায় কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে আগামী সাত দিন বন্যা পরিস্থিতি প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এসব এলাকায় নদীর পানি কমে আবার সামান্য বাড়তে পারে। কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রথমে স্থিতিশীল হতে পারে এবং পরে কমতে পারে। আপাতত গঙ্গা নদীর অববাহিকায় গোলালন্দ অববাহিকায় বিপদসীমা অতিক্রমের সম্ভাবনা নেই। পদ্মা নদীর পানি গোয়ালন্দ, আরিচা, ভাগ্যকূলে পানি আগাশী পাঁচ দিনে বিপদসীমার নিচে নেমে যেতে পারে। তবে ঢাকার আশে-পাশে নদীসমুহের পানি এর মধ্যে বৃদ্ধি পেতে পারে। ঢাকার চারপাশের নদীসমুহের অববাহিকায় পানি বিপদসীমা অতিক্রমের সম্ভাবনা নেই।

পানি বিশেষজ্ঞ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক ইএনএসও এপ্লিকেশন ক্লাইমেট সেন্টারের প্রধান বিজ্ঞানী রাশেদ চৌধুরী বন্যা বিষয়ে বলেন, ‘বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে আরো বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তি ২০ বছর পূর্ববর্তী ২০ বছরের চেয়ে খারাপই যেতে পারে। এই শতাব্দীর শেষ ভাগে পরিস্থিতি আরো অবনতি ঘটবে যদি এখন আমরা যা করছি তা অব্যাহত রাখি।

Loading...