সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ভূঞাপুরে ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌছে দিচ্ছেন ইউএনও

৫:০৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, জুলাই ২৪, ২০১৯ ঢাকা, দেশের খবর

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের ইউএনও ঝোটন চন্দ বর্ন্যাতদের ঘরে ঘরে ত্রাণ সহায়তা পৌছে দেয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। অসহায় বন্যা কবলিতদের ত্রাণ নিশ্চিত করার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করছেন তিনি।

এছাড়া ইউএনও’র উদ্যোগে উপজেলায় ৩০টি ভ্রাম্যমান টয়লেট, ২০টি অস্থায়ী টিউবওয়েল নির্মাণ করা হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

জানা গেছে, উপজেলার পৌরসভাসহ গাবসারা, অজুর্না, গোবিন্দাসী, ফলদা, নিকরাইল ও অলোয়া ইউনিয়নে বন্যার পানি প্রবেশ করায় মানুষ পানি বন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। বন্যায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে গাবসারা, অর্জুনা ও গোবিন্দাসী ইউনিয়নে বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। এসময় মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিদিন মানুষের দুয়ারে যাচ্ছেন ত্রাণ নিয়ে। দেয়া হচ্ছে শুকনো খাবার ও ঔষুধ।

উপজেলা ত্রাণ ও পূর্নবাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বন্যাদূর্গত ২০ হাজার পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বন্যাকবলিত মানুষের পয়নিষ্কাশনের জন্য ৩০টি ভ্রাম্যমান টয়লেট, খাবার পানির জন্য ২০টি অস্থায়ী টিউবওয়েল নির্মাণ, ৯০ হাজার বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়েছে, ১০ হাজার প্যাকেট খাবার স্যালাইন, ৫ হাজার পরিবারকে স্বাস্থ্যসেবা ও অর্ধশতাধিক আশ্রয়কেন্দ্রে কয়েক হাজার পরিবারকে আশ্রয় প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌছানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে প্রশাসন থেকে।

ত্রাণ পাওয়া গাবসারা ইউনিয়নের রুলীপাড়া গ্রামের জিন্নত আলী জানান, বন্যায় বাড়িতে পানি ঢুকেছে। প্রশাসন থেকে আমরা চাল ও শুকনা খাবার পেয়েছি। ত্রাণ না পেলে না খেয়ে থাকতে হতো।

ত্রাণ পাওয়া অনেকেই জানান, টিওনো (ইউএনও) রিলিফ দিছে। ব্যাক বছরই বন্যায় ভাসি রিলিফ পাই কিন্তু বড় স্যারেরা আহে না। এবার বড় স্যারের হাত থিকা রিলিফ পাইছি।

অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী মোল্লা জানান, বন্যার হওয়ার সাথে সাথে বর্ন্যাতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা শুরু হয়েছে। ইউএনও চরাঞ্চলে গিয়ে অসহায় মানুষের হাতে ত্রাণ তুলে দিচ্ছেন। এছাড়া বন্যা পরিবর্তি বিষয়ে তিনি বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম জানান, ইউএনও সর্বক্ষণ বন্যাকবলিতদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছেন। সকল বর্ন্যাতদের ত্রাণ নিশ্চিত করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ জানান, ভাঙন কবলিত ও বন্যার্তদের মাঝে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা পৌছে দেয়া হচ্ছে। ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌছানোসহ মানুষের জন্য ভ্রাম্যমান টয়লেট, অস্থায়ী টিউবওয়েল, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। একটি পরিবারও ত্রানের আওতার বাইরে থাকবে না। উপজেলায় ত্রাণ বিতরণের জন্য ৮টি টিম গঠন করে প্রতিদিন বিতরণ করা হচ্ছে।