সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মুন্সিগঞ্জের আড়িয়ল বিলে রাত-দিন অবৈধভাবে কাটা হচ্ছে মাটি!

১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৫, ২০১৯ ঢাকা
photu rubel

রুবেল ইসলাম তাহমিদ, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মুন্সিগঞ্জের বহু আলোচিত  আড়িয়ল বিলে অবইধ ভাবে  বড় বড় বাল্কহেড বোঝাই করে  দিন রাত সমান তালে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। এখানে প্রতিদিন প্রায় দেড় শতাধিক বাল্কহেড দিয়ে বিলের মাটি কাটছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র। তারা দিনে রাতে সমান তালে লুট করছে বিলের মাটি। এলাকার সিন্ডিকেট ওই  মহলটিকে বিলবাসী এতোই ভয় পান যে, তারা মাটি খোর কারও নাম প্রকাশ করতে চাননি! তবে তারা বিলের মাটি লুটের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আর্কষন করেন।

আড়িয়ল বিলের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় সহ¯্রাধিক বড় বড় মাটির স্তুপ রয়েছে। দুর থেকে মনে হয় বিল জুরে  যেন অসংখ্য পাহাড় ।

শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী মৌজায় মিলন, তাসু, ফয়সাল, আলমপুরে অহিদুল, কাঁঠালবাড়িতে মোকসেদ, হারুন, মাদবর, রুদ্রপাড়ায় মরন, কালা, হানিফা খান, শেখ সবুজ, ছত্রভোগ আবু কালাম, জুয়েল গং এরা এলাকায় মাটি কাটার  প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র ।

তাদের আরেক নামে পরিচিত” এলাকার জলদস্যু হিসেবে । এই চিহ্নিত সিন্ডিকেটের সাথে একটি অদৃশ্য মহল জরিত রয়েছে।তারা দিন রাত সরকারি ও মালিকানা জায়গার মাটি ইচ্ছামতো কেটে অন্যত্র বিক্রি করে থাকে কাউকে তোয়াক্কা করেন  না।

এদের অনেকের বিরুদ্ধে বিলের মালিকানা ডাঙ্গা পুকুরের মাছ লুট করার অভিযোগও রয়েছে,মহলটির ভয়ে প্রতিবাদ তো দুরের কথা, কেউ মুখ খোলতেও সাহস পান না। দুই এক জন মুখ খুললেও পুলিশ ও মামলার ভয় দেখিয়ে হুমকি দেন তারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এখন বর্ষার মৌসুম বিলে পানি থৈথৈ করছে। দুই চোখে শুধু বিলের মধ্যে পাহাড়া আকার মাটির স্তুপ। ওই স্তুপের কাছে বাল্কহেড রেখে শ্রমিকরা মাটি কেটে লোড করছে, আড়িয়ল বিলের প্রতিদিন মাটি কেটে প্রায় কোটি টাকার বাণিজ্য করছে মহলটি।

প্রত্যেকটি বাল্কহেডে প্রায় ২০-৩০ জন করে শ্রমিক রয়েছে, ৮-১০ হাজার বর্গ ফুট মাটি ধারন ক্ষমতা রয়েছে ।বাল্কহেডের মাঝি জয়নাল মাদবর,শ্রমিক সাইফুল ও শান্ত জানান। আমরা প্রতি বাল্কহেড ১৫ হাজার টাকা চুক্তিতে মাটি কিনি। প্রতি ফুট মাটি ১০ টাকায় বিক্রি করি। তবে মালিক পক্ষকে ১৫ হাজার টাকা দেয়ার কথা থাকলেও তারা পান ৮ হাজার টাকা। এবং বাল্কহেড সিন্ডিকেটের যারা অধিনে রয়েছে এদের কে দিতে হয় এক হাজার টাকা প্রতি টিপে।

পাশের এক বাল্কহেডে মালিক ও ” অমর মাঝি বলেন , বাল্কহেড চলাচলে বিভিন্ন স্থানে তাদের কয়েক ধাপে টাকা দিতে হয়। কোথায় কাকে কত টাকা দিতে হয় রহস্যজনক কারণে তা প্রকাশ করতে পারছি না আমরা !সংশ্লিষ্ট স্থানীয়রা জানান, শুষ্ক মৌসুমে বিলের মাটি ভেকু দিয়ে কেটে স্তুপ করে রাখে মাটি  কাটার সিন্ডিকেট মহলটি পরে, বর্ষার মৌসুমে ওই মাটি ফতুল্লা, বকতাবলী, ধর্মগঞ্জ, জাজিরা সহ ঢাকার বিভিন্ন ইট ভাটায় বিক্রি করে। তারা আরো বলেন অন্যন্ন এলাকার চেয়ে আড়িয়ল বিলের মাটির মান ভালো হওয়ায় চাহিদা রয়েছে সর্বত্র।

আম তলা গ্রামের কাউসার আহম্মেদ রনি অনেক কষ্টের সাথে বলেন, সাংবাদিক সাহেব লেইখ্কা কি করবেন আমাদের বাপ-দাদার অনেক জমি রয়েছে এ বিলে। আমাদের জমির পাশের আংশিক মাটি কিনেন এক ভদ্রলোক তার নাম বরতে পারবোন-  সে , কয়েকদিন পরে রাতের আঁধারে আমাদের জমির মাটি সহ কেটে নিয়ে গেল দেইখ্যাও কিছু কইতে পারি  না  কইলে মামলা ও পুলিশের ভয় দেখায়।তবে বিলের মাটি হরি লুটের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আর্কষন করেন এলাকার ভুক্তভোগীরা।শ্রীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানার কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে তো কেউ অভিযোগ করেনি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিচ্ছি।