সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গাদের নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ‘অত্যন্ত অসম্মানজনক’

১১:৫০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৫, ২০১৯ জাতীয়
rohinga

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ‘ডেঙ্গু: চেঞ্জিং ট্রেন্ডস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক মন্তব্য করেন, ‘এডিস মশার প্রজনন ক্ষমতা রোহিঙ্গাদের মতো, যে কারণে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না’

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এ বক্তব্য ‘অত্যন্ত অসম্মানজনক’ বলে দাবি করেছেন টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা গ্রাম সংলগ্ন অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারে বর্বরতার শিকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে মানববতার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।

এই অবস্থায় একজন মন্ত্রীর এমন মন্তব্য রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য অসম্মানজনক। মশার সঙ্গে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তুলনায় একজন রোহিঙ্গা হিসেবে আমিও মর্মাহত।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বড় কোনও নেতা নেই। ফলে যার যেমন ইচ্ছে ভাষা ব্যবহার করে যাচ্ছে। মিয়ানমারে পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কিছুই জানতো না। এদেশে আসার পর রোহিঙ্গা পরিবারগুলো পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে জেনেছে। সে হিসেবে জনসংখ্যা আগের তুলনায় কমেছে।’

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু নো-ম্যানস ল্যান্ড রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান দিল মোহাম্মদ বলেন, ‘রোহিঙ্গারা বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে নিপীড়িত জাতিগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একটি।

তাদের সম্পর্কে মন্ত্রীর এমন ভাষা মেনে নেওয়া যায় না। মশার সঙ্গে তুলনা করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে অসম্মান করা হয়েছে। এটা ভুল, এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। মন্ত্রী এমন কথা বলতে পারেন না, এই ভাষ্য তুলে নিতে অনুরোধ করছি।’

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে এদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের সম্পর্কে এভাবে মন্তব্য করাটা দুঃখজনক। মন্ত্রী হয়তো মজা করে বলেছেন, কিন্তু এমন মন্তব্য ঠিক হয়নি। তারাও তো মানুষ; মানুষ হিসেবে তাদের এভাবে হেয় করা উচিত নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরাও একসময় শরণার্থী হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। সেসময় যদি আমাদের সম্পর্কে কেউ এমন কথা বলতো, তাহলে আমাদেরও অনেক কষ্ট লাগতো; যেমনটি রোহিঙ্গাদের এখন লাগছে।’