নির্বাহী কর্মকর্তার তৎপরতায় পাল্টে যাচ্ছে আত্রাইয়ের দৃশ্যপট

১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, জুলাই ২৬, ২০১৯ রাজশাহী
Atrai Photo

নাজমুল হক নাহিদ, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছানাউল ইসলামের দক্ষতায় প্রতিনিয়ত পাল্টে যাচ্ছে শষ্য ভান্ডার খ্যাত আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের চিত্র। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে আত্রাই উপজেলা পরিষদকে নতুন ভাবে ঢেলে সাজিয়েছেন বর্তমান এই কর্মকর্তা। অবকাঠামো উন্নয়নসহ সার্বিক কর্মকান্ডে ফিরে এসেছে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা। জনসেবার মানও বেড়েছে। প্রশাসনিক কাঠামো হয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী।

জনপ্রতিনিধিদের কর্মকান্ডে বেড়েছে স্বচ্ছতা, গতিশীলতা ও জবাবদিহিতা। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বেড়াজাল ছিন্ন করে উপজেলা পরিষদকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

মো. ছানাউল ইসলাম ৩০তম ব্যাচের বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি এর পূর্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোজেক্টে অত্যন্ত দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও সুনামের সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করেছেন। তার জন্ম জয়পুরহাট জেলায়। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা শেষ করে সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক সন্তানের জনক।তার আন্তরিক নেতৃত্বে আত্রাই উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিয়মিত পরিস্কার-পরিছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। উপজেলা পরিষদের গাছে যে ব্যানার পোস্টার ছিলো তা সরিয়ে আলাদা স্থানে লাগানের জায়গা করা হয়েছে। উপজেলার সকল অফিসের সেবার ব্যাপারে একটি “সেন্টাল হেল্প ডেস্ক” স্থাপন করেছেন তিনি। যার মাধ্যমে একই স্থান থেকে সকল কিছুর পরামর্শ পাচ্ছে উপজেলাবাসী।

এছাড়া, সেবা প্রার্থীদের বসার সুন্দর ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করেছেন এই ইউএনও। তিনি কৃষি জরিপকর্মীদের দিয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ মোবাইল ফোন নম্বর সম্বলিত স্টিকার দরজায় টাঙ্গিয়ে একটি ব্যতিক্রমী কাজ করেছেন। উপজেলা পরিষদ চত্বর ও নিজ অফিসের প্রত্যেকটি ডেস্ক ও সহকারী কমিশনারের কার্যালয় (ভূমি) সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকেছেন উপজেলা পরিষদকে।

উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবনের সামনে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ও গাড়ি পার্কিং এর কাজ এগিয়ে চলছে। তিনি কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে “বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার” এবং মানবতার দেয়াল স্থাপনে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। পরিষদ চত্বরের পতিত জায়গায় বিভিন্ন বৃক্ষ, ফুল, ফল ও সবজি চাষ করা হচ্ছে। আত্রাই উপজেলার সকল অফিসের লে-আউট সম্বলিত সাইনবোর্ড টাঙ্গানো, সৌন্দর্য বর্ধনসহ এক কথায় উপজেলার আমুল পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছানাউল ইসলাম।

সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য এবং উপজেলার উন্নয়ন কাজে সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদানের জন্য তিনি “আইসিটি ডেভেলপমেন্ট ফোরাম”, “সোসাল ইনোভেশন টিম”সহ বিভিন্ন প্লাটফরম তৈরী করেছেন যার মাধ্যমে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গিকার তথা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে উপজেলাবাসীর বিশ্বাস।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও উপজেলা কর্মকর্তা-কর্মচারী সূত্রে জানা গেছে, তার সততা ও নিষ্ঠার কারণে আত্রাই উপজেলা পরিষদে আজ প্রাণ ফিরে পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপ আত্রাই উপজেলা প্রশাসন অক্ষরে অক্ষরে পালন করছে। ফলশ্রুতিতে তার দক্ষতা ও যোগ্যতা সবার নজর কেড়েছে। সভ্য সমাজ সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের ধূমপান, মাদকমুক্ত, যৌতুক, বাল্যবিয়েসহ যৌন হয়রানি রোধে সাফল্যের সঙ্গে বাস্তবায়ন ও দায়িত্ব তদারকি করে থাকেন তিনি। তার উদ্যোগেই নওগাঁর ১১টি উপজেলার মধ্যে সর্বপ্রথম আত্রাই উপজেলা বাল্যবিবাহ মুক্ত উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করতে যাচ্ছেন তিনি। এরই মধ্যে তিনি শতাধিক বাল্যবিবাহ বন্ধ করছেন।

তিনি নিজেই উপস্থিত থেকে বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছেন। এর মধ্য দিয়ে বর্তমানে অনেকাংশই আত্রাই উপজেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ উপজেলায় ১শ টি দরিদ্র পরিবারই ঘর বরাদ্দ পেয়েছে। জমি আছে, ঘর নেই- এমন মানুষকে ঘর তৈরি করে দেওয়ার প্রকল্প ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভিজিডি কার্ডের তালিকা প্রণয়নের কাজে সততার সঙ্গে করে সবার মন জয় করেছেন।

এছাড়াও, তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, মোবাইল ফোন, ই-মেইলের মাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন সমস্যার সমাধানসহ উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করায় কৃষক, শ্রমিক, জেলে, শিক্ষক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকসহ সকল স্তরের মানুষের কাছে জনপ্রিয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হয়ে উঠেছেন।

এই উপজেলায় জনসেবার মান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি ২০১৮ সালের মাঝামঝির দিকে আত্রাই উপজেলায় যোগদানের পর উপজেলা পরিষদের দুর্বল প্রশাসনকে একেবারেই চাঙ্গা করে তোলেন। যেখানে এসে মানুষ হয়রানির বদলে দ্রুত কাজ সমাধান করতে পারছেন। ইউএনও’র কঠোর তৎপরতার মুখে এখানকার অফিসগুলোতে যেমন জনসেবার মান বেড়েছে তেমনি তাদের নানা কর্মকান্ডে ফিরে এসেছে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, ইউএনও স্যার সরকারি আইনের বাইরে কোন কাজ করেন না। তারন প্রচেষ্টায় আজ উপজেলা পরিষদ একটি মডেল উপজেলায় রূপ নিয়েছে। তিনি সরকারি নীতিমালার আলোকে জনকল্যাণে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

আত্রাই প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক নাজমুল হক নাহিদ জানান, সরকারি দায়িত্বের বাইরেও বর্তমান ইউএনও মহোদয় বিভিন্ন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তার অফিসে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ নির্ভয়ে যাতায়াত করে সমস্যার সমাধান পাচ্ছেন যা অত্যন্ত আশাব্যাঞ্জক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার জনবান্ধব প্রশাসনের উৎকৃষ্ট উদাহরণ বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছানাউল ইসলাম।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছানাউল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে দরিদ্র মানুষকে ঘর করে দিচ্ছেন। তার মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করাই আমার প্রধান কাজ। আমি নিজেকে জনগণের সেবক মনে করি। আমার দপ্তর মানুষের সেবায় নিয়োজিত সব সময়। আমি হয়তো একদিন থাকব না, মানুষ আমার ভালো কাজটাকে সারা জীবন মনে রাখবে এবং ভালো কাজ করার উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা পাবেন। তিনি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।