ঘরেই বানান ডেঙ্গু মশা তাড়ানোর ওষুধ

২:২৭ অপরাহ্ণ | রবিবার, জুলাই ২৮, ২০১৯ জানা-অজানা

জানা অজানা ডেস্ক- দেশজুড়ে এখন আতঙ্কের নাম ডেঙ্গু। এই ভাইরাসের বাহক হলো ’এডিস মশা।’ প্রাণঘাতি এ জ্বর ভয়াবহ মাত্রায় ছড়িয়ে পড়ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।

কেবল বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার একাংশে এবার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ প্রায় মহামারির পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। ডেঙ্গুর প্রচলিত ধরনের সঙ্গে শক সিনড্রোম দেখা দেওয়ায় ঝুঁকি ও মৃত্যুহারও বেড়েছে।

ফিলিপাইন, থাইল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। এডিসের বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ শুরু করেছে ইন্দোনেশিয়া। পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার প্রজাতির মশার মধ্যে এডিস এজিপ্টি ভয়ঙ্কর।

পরিষ্কার পানিতে জন্ম নেয়া স্বল্পায়ুর এই ’অভিজাত’ এডিস মশা ডেঙ্গু ছাড়াও জিকা ও চিকনগুনিয়ার বাহক। সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার প্রাদুর্ভাব বাড়ে।

এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত জনমানুষের জন্য ডেঙ্গু মশা তাড়ানোর ওষুধ বানানোর কথা জানালেন ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলা ভাষার প্রতিষ্ঠিত লেখক ও গবেষক রবিশঙ্কর মৈত্রী।

সম্প্রতি রবিশঙ্কর মৈত্রী নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মশা তাড়ানোর ওষুধ তৈরীর পদ্ধতি তুলে ধরেন। সেই স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো-

‘কীভাবে মশা তাড়ানোর ওষুধ বানাবেন?’

‘গতকাল আলেসের পাখিবাগানে মাদাম ফেদেরিকের কাছ থেকে আমরা মশা তাড়ানোর ওষুধ তৈরি করা শিখলাম। বলা যায়–শিখলাম এবং বানালাম।’

‘ফ্রান্সেও মশা হয়, তবে তা শুধুই জুন থেকে আগস্ট মাসে এবং সেই মশা বাগান ছাড়া খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। তবু এ দেশে সচেতনার শেষ নেই।’

‘এবারে কাজের কথায় আসি। নিম ফল থেকে তেল হয় জানতাম, কিন্তু সেই নিম তেল যে ফ্রান্সেও পাওয়া যায় জানতাম না। যে কোনো ধরনের মশা থেকে রক্ষা পেতে আসুন খুব সহজেই বানিয়ে নিই মশামুক্তির ক্রিম।’

‘ছোট্ট একটি কৌটা বা কাচের বয়াম নিন। একটি মোমবাতি থেকে দুশো গ্রাম মোম গুঁড়ো করে নিয়ে কৌটায় বা কাঁচের বোতল বা বয়ামে রাখুন। এবার ত্রিশ মিলি নিম তেল এবং ত্রিশ মিলি গ্লিসারিন মিশিয়ে নিন, সঙ্গে পঞ্চাশ মিলি জলও পাত্রটিতে ঢেলে দিন। একটি গামলায় এক লিটার পানি দশ মিনিট ধরে গরম করুন। এবার গরম পানিতে নিম তেল মোম ও পানিভর্ত্তি পাত্রটি বসিয়ে রাখুন। লক্ষ করুন পাত্রমধ্যে মোম গলছে কিনা। যদি না গলে তাহলে হামলার পানি আরো একবার গরম করুন।’

‘গরম পানির গামলা থেকে সাবধানে নিম, তেল, গ্লিসারিন, মোম আরো পানি মেশানো পাত্রটি তুলে এনে টেবিলে রাখুন। পাঁচ সাত মিনিট পর পাত্রের মধ্যে লেবুর রস পাঁচ ফোঁটা এবং যে কোনো পারফিউম বা সুগন্ধি পাঁচ ফোঁটা ঢেলে দিন। এবার ছোট্ট একটি চামচ দিয়ে পাত্রের মিশ্রণটি পাঁচ সাত মিনিট নাড়তে থাকুন। দেখুন মশা তাড়ানোর ক্রিম তৈরি হয়ে গেছে। একটু মন্দ গন্ধযুক্ত হলেও সামান্য একটু ক্রিম হাতে পায়ে মেখে নিন, মশা আপনার ধারেকাছেও ভিড়বে না, ডেঙ্গু হবার ভয়ও পেতে হবে না। মশা তাড়ানোর ক্রিম ফ্রিজে অথবা অপেক্ষাকৃত কম তাপমাত্রায় রাখতে হবে। তৈরির দিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত এই ক্রিম ব্যবহার করা যাবে।’

এদিকে তার আর একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে রবিশঙ্কর মৈত্রী জানান, ‘শুধু এডিস মশা নয়, কোনো মশা মাছিই আপনার শরীরে বসবে না যদি আপনি নিম পাতার পেস্ট অথবা নিম সাবান গায়ে মাখেন। যতোক্ষণ পর্যন্ত আপনার শরীরে নিমের গন্ধ থাকবে ততোক্ষণই আপনি মশা মাছি মুক্ত থাকবেন।’

‘কদিন আগে আমি মশা-প্রতিরোধী ক্রিম বানানোর সহজ পদ্ধতি তুলে ধরেছিলাম, খুব অল্প সংখ্যক বন্ধুই তা গ্রহণ করেছিলেন। আমরা খুব সহজে ভালো কিছু গ্রহণ করি না, ভালো জিনিশ নেয়ার ইচ্ছে তখনই জাগে, যখন আমাদের সামনে মৃত্যু এসে দাঁড়ায়।’

‘আমরা জানি, তবুও বলি– জমেথাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা জন্ম নেয়। নিজেদের চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখলে, ভাঙা কৌটা ডাবের খোলা ইত্যাদি যেখানে সেখানে ফেলে না দিলেই তো আমরা এডিস মশার জন্মরোধ করতে পারি।’

‘ঘরের কোণায় কোণায় নিম পাতা ছড়িয়ে রাখুন– মশা মাছি ঘরে ঢুকবে না।’

ঘরের বাইরে গিয়েও তো আপনি মশার কামড় খেতে পারেন। খেতে পারেন কি, আপনাকে তো রোজই কোনো না কোনো জায়গা থেকে মশা কামড়ায়।

তিনি আরো বলেন, ‘সবাই মিলে সচেতন না হলে পুরো দেশই ডাস্টবিন হয়ে যাবে, ফলে মশা মাছি সহ সকল প্রকার পোকামাকড়ের নিরাপদ আবাসন তৈরি করব?’

‘আসুন আমরা নিজেরাই উদ্যোগী হই, কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দিকে চেয়ে না থেকে কাজ শুরু করি। দেশকে প্লাস্টিকমুক্ত করি, দেশকে সকল প্রকার জঞ্জাল ও ময়লামুক্ত করে অকালমৃত্যুকে রুখে দিই।’