• আজ ১১ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সাঈদীকে নিয়ে ফেসবুকে গোলাম মাওলা রনির আবেগঘন স্ট্যাটাস!

১১:৪৩ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, আগস্ট ২, ২০১৯ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ শুক্রবার (২ আগস্ট) আওয়ামী লীগরে সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান বিএনপি নেতা গোলাম মাওলা রনি আজীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

সময়ের কণ্ঠস্বরের পাঠকদের জন্য রনির ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘আজকের এই পবিত্র দিনে একটি পবিত্র স্থানে বসে আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী সম্পর্কে এই মাত্র আমি যা শুনলাম তাতে আমার অন্তর শীতল হয়ে গেল!

বর্তমানে জীবিত আছেন এমন চারটি প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে ছোট প্রজন্মের মন মস্তিষ্কে জনাব সাঈদী কিভাবে ঢুকে পড়েছেন তার বাস্তব প্রমাণ পাওয়ার পর মনে হলো – জনাব সাঈদী হয়তো এই যুগের মুজাদ্দেদ এবং জমিনে জান্নাতি মানুষের জীবন্ত প্রতিরূপ!

উপরোক্ত বিষয়টি খুলে বলার পূর্বে প্রতি শুক্রবারে আমার জীবন যাত্রা নিয়ে কিছু বলে নেই! দিনটিতে আমি রোজা রাখি এবং সাড়ে এগারোটার মধ্যে মসজিদে চলে আসি! সারাদিন এই পবিত্র গৃহে থাকি এবং মাগরিব অথবা এশা পড়ে বাসায় যাই!

এই আট-নয় ঘন্টা সময়ে আমি সাধারণত কোন ফোন রিসিভ করিনা! কিন্তু আজ একটা ফোন কেন জানি রিসিভ করলাম! ফোনের অপর প্রান্ত থেকে একটি ইতস্তত কণ্ঠ জানতে চাইলেন আমি গোলাম মাওলা রনি কিনা? তারপর ফোনকর্তা তার নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে জানালেন যে, তিনি নবম শেণীতে পড়েন! তার বাবার নাম কাম্বার এবং ফুফার নাম নুরুল হুদা যিনি বর্তমানের সিইসি!

কাম্বার আমার বহু পুরোনো বন্ধু! কিন্তু গত কুড়ি বছর ধরে কোনো যোগাযোগ নেই! কাম্বারদের পুরো পরিবার কট্টর আওয়ামী লীগ এবং তারা বেশ ধনী এবং অভিজাত! কাম্বারের ছেলে জানালেন যে, তিনি ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্র এবং আওয়ামী লীগ করেন! নিয়মিত নামাজ পড়েন – কোরান তেলাওয়াত করেন এবং ইসলামের নিয়ম-কানুন কঠোর ভাবে অনুসরণ করেন!

আমার বন্ধু পুত্র আমাকে জানালেন যে, জনাব দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর ওয়াজ শুনেই তিনি ধর্ম-কর্মে একনিষ্ঠ হয়েছেন! সম্প্রতি সাঈদী সাহেবকে নিয়ে আমার দেয়া একটি বক্তব্য তিনি ইউটিউবে দেখার পর কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য আমাকে ফোন করেছেন!

আল্লাহর দ্বীনের অনুরক্ত সম্মানিত কিশোরটি ফোনে আমার সঙ্গে কথা শেষ করার পূর্বে কান্না জড়িত কণ্ঠে বললেন যে, তিনি বিশ্বাস করেন – সাঈদী হুজুর মুক্তি পাবেন এবং আবার ওয়াজের ময়দানে গিয়ে নাহমাদুহু বলে তার ওয়াজ শুরু করবেন!

ছেলেটির কথা শুনে আমি কিছুক্ষণ বাকরুদ্ধ হয়ে রইলাম! তারপর এই স্ট্যাটাস লিখতে শুরু করলাম! আল্লাহর দরবারে বন্ধু পুত্রের জন্য দো’আ চাই এবং তার মনের আকুতিটি যেন কবুল হয় সেই জন্যও দোআ করছি! আমিন!’