‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মানব কল্যাণে সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে’

১১:০১ অপরাহ্ণ | রবিবার, আগস্ট ৪, ২০১৯ শিক্ষাঙ্গন
KRITTIM

যবিপ্রবি প্রতিনিধি- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মানব কল্যাণে সর্বোত্তম ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান যুগটা হচ্ছে রোবট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির যুগ। সুতরাং সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার মাধ্যমে যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগানো যায়, তাহলে আমাদের আর কখনোই পেছনে পড়ে থাকতে হবে না।’

আজ রোববার দুপুরে যবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনের গ্যালারিতে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রোবো সোসাইটি আয়োজিত ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স অ্যান্ড মেশিন লার্নিং’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ কর্মকান্ড-ই ধীরে ধীরে কম্পিউটারভিত্তিক উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পাদিত হচ্ছে। এ সময় আমাদের পেছনে ফিরে তাকানোর কোনো অবকাশ নেই। প্রযুক্তির এ সুবিধা আমাদের গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে দেশে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

প্রকল্প থেকে পণ্য বানানোর উপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেসব গবেষণা হয়, সেগুলোর যৌক্তিক পরিণতি হয় খুবই কম। আমার আহ্বান থাকবে, কোনো গবেষক বা শিক্ষার্থী একটি সুনির্দিষ্ট প্রকল্প নিয়ে কাজ করলে ধৈর্য সহকারে তা শেষ করতে হবে। যেটা নিয়ে গবেষণা করবেন, তা যেন মানুষের কল্যাণে লাগে, এ বিষয়টি খেয়াল করবেন।

আমদানি নির্ভর জনশক্তি দিয়ে কখনোই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘যদি আমদানি নির্ভর জনশক্তি দিয়ে টেকসই উন্নয়ন করা সম্ভব হতো, তাহলে মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের পরাশক্তি হতো, আমেরিকা নয়। প্রযুক্তিভিত্তিক আমাদের যে উন্নয়ন হয়েছে বা হচ্ছে তা অনেকটা আমদানি নির্ভর জনশক্তি দিয়ে। সুতরাং এসব খাতের জন্য আমাদের দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে। তাহলেই কেবল উন্নয়ন টেকসই হবে।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ রোবোটিকস্ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো: হাফিজুল ইমরান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে রোবট কী কী কাজ করছে, বাংলাদেশে এ বিষয়ে কী ধরনের গবেষণা হয়, শিক্ষার্থীরা এটার মাধ্যমে কি ধরনের শিক্ষা লাভ করতে পারে- এসব বিষয়ে ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরেন এবং শিক্ষার্থীদের সাথে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

যবিপ্রবির ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. প্রকৌশলী মোঃ আমজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন ড. এ এস এম মুজাহিদুল হক, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোঃ মীর মোশাররফ হোসেন, কম্পিউটার প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ মোঃ গালিব, ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক আবিদ হোসেন খান, যবিপ্রবি রেবো সোসাইটির সভাপতি আহমেদ নাঈম, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফরিদ আহমেদ।