কে আসছেন ডিএমপি কমিশনার পদে?

১২:০৮ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, আগস্ট ৬, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- কে হতে যাচ্ছেন পরবর্তী ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার? ডিএমপি কমিশনারের এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি অলঙ্কৃত করার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে গেছে। পুলিশ প্রশাসনে কান পাতলেই এই পদটি নিয়ে শোনা যায় জল্পনা-কল্পনা।

ডিএমপি কমিশনারের পদটিতে আরোহণের জন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে চলছে প্রতিযোগিতা। তবে বরাবরই প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের কর্মকর্তারাই ডিএমপি কমিশনারের পদে আসীন হন। এজন্য পুলিশ প্রশাসনেরও কেউই হলফ করে বলতে পারছেন না, কে হতে যাচ্ছেন পরবর্তী ডিএমপি কমিশনার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পুলিশের ডিএমপি কমিশনারের পদটি শূন্য হতে যাচ্ছে চলতি মাসেই। ব্যতিক্রম নাহলে বর্তমান কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া আগামী ১৪ আগস্ট অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে যাবেন। আগামী ১৩ আগস্ট হবে তার সর্বশেষ কর্মদিবস।

এদিকে ডিএমপির সর্বোচ্চ এই পদটি পাওয়ার জন্য অনেকেই স্বপ্ন দেখছেন। প্রতিযোগিতায় যারা আছে তাদের কেউ কেউ ইতোমধ্যে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে জোর তদবির শুরু করেছেন। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে কে পেতে যাচ্ছেন ডিএমপি কমিশনারের পদটি।

পুলিশের একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে বদলি ও পদোন্নতি একটি চলমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। আইনশৃঙ্খলা সুষ্ঠু রাখতে এবং সাধারণ মানুষকে আরও বেশি পুলিশী সেবা দেয়া ও প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী মাঝে মধ্যেই এ ধরনের বদলি বা রদবদল করা হয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ২১ কর্মকর্তাকে রদবদল করা হয়। অনেক জেলায় টানা কয়েক বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসা পুলিশ সুপারদের সরিয়ে এসব জায়গায় নতুন মুখ দেয়া হয়েছে। এর আগে গত ১৬ মে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে একজন অতিরিক্ত আইজি ও পাঁচজন ডিআইজি পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাকে রদবদল করা হয়।

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর হাইওয়ে রেঞ্জের ডিআইজি থেকে আছাদুজ্জমান মিয়াকে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেই থেকে প্রায় সাড়ে ৪ বছর ধরে তিনি ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অবশ্য দায়িত্ব পালনকালে তিনি সফলতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হন। তবে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়ার আশা পূরণ না হলে তার শূন্য পদে একজন যোগ্য, সৎ, নিষ্ঠাবান পুলিশ কমিশনার বেছে নিবে সরকার। সে ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ পদে রদবদল আসন্ন। এ ছাড়া ইতোমধ্যেই পুলিশের এডিশনাল আইজি (এডমিন) ও সিআইডি প্রদানের পদের চাকরির মেয়াদ শেষে এলপিআর-এ চলে যাওয়ার পর নতুন নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পুলিশের এডিশনাল (এডমিন) পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ও সিআইডির প্রধান পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে পুলিশের এডিশনাল আইজি শফিকুল ইসলামকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ পদগুলো পূরণে বরাবরাই সরকার প্রধানের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে তার জায়গায় নতুন করে কে হতে পারেন, এ নিয়েও চলছে জল্পনা-কল্পনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সৎ-যোগ্য-দক্ষ কর্মকর্তাদের ভেতর থেকে ডিএমপি কমিশনার নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের ভেতর থেকে বর্তমানে পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি হিসাবে কর্মরত সিআইডির শফিকুল ইসলাম, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, অ্যাডিশনাল আইজি শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, ডিআইজি মনিরুল ইসলাম, ডিআইজি হাবিবুর রহমান প্রমুখের নাম এ পদে নিয়োগের জন্য শোনা যাচ্ছে।

শফিকুল ইসলাম, শেখ মারুফ হাসান ও আবদুল্লাহ আল মামুন ১৯৮৯ সালে পুলিশ সার্ভিসে যোগদান করেন। তারা বিসিএস অষ্টম ব্যাচের কর্মকর্তা। পক্ষান্তরে ডিআইজি মনিরুল ১৫তম বিসিএস এবং হাবিবুর রহমান আঠারো ব্যাচের কর্মকর্তা। তাদের উভয়ের বাড়ি গোপালগঞ্জ। চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন সুনামগঞ্জের এবং শেখ মারুফ হাসান খুলনার অধিবাসী। শফিকুল ইসলাম বৃহত্তর কুষ্টিয়ার অধিবাসী। ডিএমপির কমিশনার পদটি আগে ডিআইজি পদমর্যাদার হলেও এখন এ পদের আপগ্রেড করা হয়েছে। এ পদে এখন অতিরিক্ত আইজিপিদের দায়িত্ব দেয়া হয়।

সম্প্রতি বিদায়ী কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়াকে সচিব হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়। মনিরুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান সরকারের গুডবুকে থাকলেও তারা অপেক্ষাকৃত জুনিয়র হওয়ায় তাদের সম্ভাবনা কম বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে মনিরুল ইসলামকে এ পদে নিয়োগ দেয়া হলে তাকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে।

১৯৭৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের যাত্রা শুরু হয়। তার আগে ঢাকা জেলা পুলিশ এই শহরের নাগরিক শৃঙ্খলার বিষয়টি দেখভাল করত। শুরুতে ডিএমপিতে জনবল ছিলো মাত্র ছয় হাজার। থানা ছিল ১২টি। সময়ের ব্যবধানে এখন থানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০টি। আর ডিএমপি হেডকোয়ার্টারের অধীনে ৪২টি বিভাগে কর্মকর্তাসহ ৩৪ হাজার পুলিশ সদস্য এখন দায়িত্ব পালন করছেন।

এই নগরীতে পুলিশের আকার, পরিধি ও জনবল সবই বেড়েছে। নগর পুলিশে এখন আধুনিকতার ছোঁয়াও লেগেছে।

Loading...