চার বছরেও জমির কাগজ পায়নি বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ার ছড়ার বাসিন্দারা

৩:৩১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, আগস্ট ৬, ২০১৯ রংপুর
CHITMOHOL

অনিল চন্দ্র রায়,ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা- ৬৮ বছরের অন্ধকার জীবন থেকে মুক্তি পেলেও দীর্ঘ চার বছরে জমির মালিকানা সংক্রান্ত খতিয়ান, মাঠ রেকর্ডের পর্চা, খারিজের কাগজ না পাওয়ায় জমির ভাগ-বন্টণ সহ জরুরী প্রয়োজনে জমি ক্রয়-বিক্রয় করতে পারছেনা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা। ফলে প্রতিনিয়ত জমি সংক্রান্ত জটিলতায় পড়তে হচ্ছে তাদের। তবে গেজেট সম্পন্ন হলে এ সমস্যার সমাধান হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জানাগেছে, বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ার ছড়ার আয়তন ৬৬৫ হেক্টর। এর মধ্যে মোট আবাদি জমির পরিমাণ ৫৬৬ হেক্টর। ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্য রাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে মুজিব-ইন্দিরা স্থল সীমান্ত চুক্তি’র বাস্তবায়ন হওয়ায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরের ১১১টি ছিটমহল এবং ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১ টি ছিটমহল দুই-দেশের ভু-খন্ডে যুক্ত হয়। উভয় দেশের নাগরিক হবার সুযোগ পান অবরুদ্ধ ছিটমহলের বাসিন্দারা। বিগত চার বছরে সরকারি-বেসরকারি ভাবে দেশের অভ্যন্তরের ১১১ টি বিলুপ্ত ছিটমহলে সংঘটিত হয় নানা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড। বিদ্যুৎ সংযোগ, কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, রাস্তাঘাট, ব্রীজ কালভার্ট,স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা স্থাপন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানসহ চোখে পড়ার মত উন্নয়ন হলেও জমির মালিকানার কাগজপত্র না পাওয়ায় তাদের জমির সংক্রান্ত মূল সমস্যা এখনো কাটেনি।

বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার বেশিরভাগ মানুষ জমি ও জমির উৎপাদিত ফসলের উপর র্নিভরশীল। তাই জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি জরুরী প্রয়োজনে জমিই তাদের একমাত্র সম্বল। ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা,চাকুরী বিয়ে-শাদী, পরিবারের কোন সদস্যের আকষ্মিক অসুস্থতায় জমি বিক্রি করা ছাড়া অর্থ সংস্থানের অন্যকোন উপায় নেই তাদের। কিন্তু জমির কাগজ পত্র না থাকায় এসব জরুরী প্রয়োজনে জমি বিক্রি করতে না পেরে চরম সমস্যায় রয়েছেন তারা।

ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির দাসিয়ারছড়া ইউনিটের সাবেক সভাপতি আলতাফ হোসেন বলেন,গত চার বছরে বর্তমান সরকার যেভাবে দাসিয়ারছড়ায় উন্নয়ন করেছে তাতেই আমরা সরকারের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। কিন্তু দাসিয়ারছড়াবাসী জমি কেনা-বেচা করা থেকে এখনো বঞ্চিত। জমি কেনা-বেচা করতে না পারায় ছেলে-মেয়েদের বিয়ে, পড়াশুনার খরচ, বৃদ্ধ বাবা-মার চিকিৎসাসহ নানান সমস্যায় আছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাছুমা আরেফিন জানান, দাসিয়ারছড়ার কয়েকটি মৌজার আরএস খতিয়ান পাওয়া গেছে। যাদের খতিয়ান পাওয়া গেছে তারা জমি ক্রয় বিক্রয় করতে পারবেন। বাকি মৌজা গুলোর কাগজ পেলে অধিবাসীদের জমি ক্রয় বিক্রয়ের সমস্যা সমাধান হবে।