মশা খেয়ে ডেঙ্গু কমাবে ৮ হাজার ‘মশাভুক মাছ’

৬:০৬ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, আগস্ট ৬, ২০১৯ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ড্রেনে প্রায় ৮ হাজার মসকিউটো ফিশ (মশাভুক মাছ) অবমুক্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে বাকৃবি মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের আয়োজনে এর পাশের ড্রেনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ভিসি অধ্যাপক ড. মো. লুৎফুল হাসান। পরবর্তীতে পুরো ক্যাম্পাসের ড্রেনেই এই মাছ অবমুক্ত করা হবে। এছাড়া আগামী বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটুর নেতৃত্বে শহরের ড্রেনে এই মাছ ছাড়া হবে।

গবেষক দলের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ জানান, ২০১৭ সালে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চট্টগ্রামের কিছু ড্রেনে মশার ডিম ভক্ষণে কয়েকটি মাছের দক্ষতা নিয়ে একটি গবেষণা করেছিলাম। গবেষণায় দেখা গেছে, মশার লার্ভা ভক্ষণে দেশীয় খলিশা, দারকিনা, জেব্রা ফিশ মশাভুক মাছের চেয়ে বেশি উপযোগী হলেও এরা নর্দমার নোংরা পানিতে বেশিদিন বাঁচতে পারে না। তাই নর্দমার পানিতে মশার লার্ভা নিধনে মশাভুক মাছ সবচেয়ে বেশি উপযোগী। এই মাছ প্রায় ১০ বছর আগে আমেরিকা থেকে অ্যাকুরিয়াম মাছ হিসেবে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে দেশের বিভিন্ন মুক্ত জলাশয় এবং ড্রেনে এটি ছড়িয়ে পড়ে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করতে বাকৃবির মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের পাশের ড্রেনে প্রায় সাত থেকে আট হাজার মশাভুক মাছ অবমুক্ত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. লুৎফুল হাসান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. লুৎফুল হাসান বলেন, ‘দেশে ডেঙ্গুর এই মারাত্মক পরিস্থিতিতে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে মশা নিধনের নতুন নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগ করতে হবে। তেমনি একটি হলো, মশা নিধনের বায়োলজিক্যাল পদ্ধতি অর্থাৎ মাছ দিয়ে মশার লার্ভাকে ভক্ষণ করানো। তাই দেশের সকল বদ্ধ পানিতে ওই মাছ ছাড়া হলে এই দুর্যোগ অনেকটাই মোকাবিলা সম্ভব।’