গণধর্ষণের সংবাদ প্রকাশের জেরে থানার ভিতর এক সাংবাদিককে মারধর

১১:৩০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৮, ২০১৯ ঢাকা
san

মোহাম্মদ আরীফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ হাওড় অঞ্চল প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে কিশোরীকে গণধর্ষণের সংবাদ প্রকাশের জের ধরে মুহাম্মদ কাইসার হামিদ নামে এক সাংবাদিককে মারধর করে হত্যার চেষ্ঠা করে গণধর্ষণ মামলার আসামী মেরাজ মিয়া (৫০) ও অজ্ঞাতনামা ৩ ব্যাক্তি। ৭ আগস্ট বুধবার বিকেল সোয়া ৩ টার দিকে কুলিয়ারচর থানার ভিতর এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মুহাম্মদ কাইসার হামিদ বাদী হয়ে কুলিয়ারচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে।

তিনি বলেন, মেরাজ মিয়া কুলিয়ারচর উপজেলাধীন চরকামালপুর ঠুলি মৌলভী বাড়ীর আব্দুল হক মৌলনা পীর সাহেবের মাজারের দায়িত্বে রয়েছেন। সম্প্রতি এক কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগে মেরাজ মিয়া সহ ৫ যুবকের বিরুদ্ধে গত ২৮ জুলাই জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশের খবর, ভৈরব থেকে প্রকাশিত দৈনিক পূর্বকন্ঠ, কিশোরগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের সারাদিন পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় মেরাজ মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে লোকমারফত ও নিজে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।

বুধবার বিকাল সোয়া ৩ টার দিকে তার পেশাগত দ্বায়িত্ব পালন করতে কুলিয়ারচর থানায় গিয়ে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাই তালুকদারের সাথে কথা বলে থানা থেকে বেড়িয়ে আসার সময় অফিসের কেচি গেইট পার হওয়ার সাথে সাথে মেরাজ মিয়া থানা অফিসের সামনে তার উপর অতর্কিত হামলা করে মারধর করে তাকে খুন করার চেষ্ঠা করে। এ সময় থানায় ডিউটিরত কনস্টেবল সুমা আক্তার তাকে মারতে দেখে ডাক চিৎকার করিলে থানা পুলিশ সহ তার সহ কর্মীরা তাকে হামলাকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করে। হামলা কারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় মেরাজ মিয়াকে পুলিশ আটক করে। অন্যরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে তার সহকর্মীরা আহত অবস্থায় তাকে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় ও চিকিৎসা করান। এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাই তালুকদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় মেরাজ মিয়া নামে ১ জনকে আটক করা হয়েছে।

জানা যায়, গত ২৫ জুলাই বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার চরকামালপুর ঠুলি মৌলভীর বাড়ীর মাজার সংলগ্ন একটি পুকুর পারে মাজারের দায়িত্বে থাকা ঠুলি মৌলভীর ছেলে মেরাজ মিয়া সহ অজ্ঞাতনামা ৫ যুবক কর্তৃক পাশ্ববর্তী কটিয়াদী উপজেলার পূর্বচর পাড়াতলা গ্রামের এক বিধবা পিঠা বিক্রেতার কিশোরী (১৬) কন্যা গণধর্ষণের শিকার হয়।

এ ঘটনায় ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে গত ২৬ জুলাই মেরাজ মিয়াকে প্রধান আসামী করে কুলিয়ারচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে কুলিয়ারচর থানার দ্বায়িত্বরত অফিসার এস আই আবুল কালাম আজাদ ও এস আই মোঃ আজহারুল হক ঘটনা পরিদর্শণ সহ তদন্ত করেন।

থানা পুলিশ অভিযোগটি আমলে না নেওয়ায় ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে গত ৩০ জুলাই মাননীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল নং -২, কিশোরগঞ্জে মেরাজ মিয়াকে প্রধান আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং -১৮৮/১৯।