টুং টাং শব্দে ব্যস্ত টাঙ্গাইলের কামাররা

৪:৫৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, আগস্ট ৮, ২০১৯ ঢাকা

মোল্লা তোফাজ্জল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: সামনেই পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদকে ঘিরে তাই টাঙ্গাইলে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা।

টাঙ্গাইলের কামাররা এখন লোহা হাতুড়ির টুং টাং শব্দে মুখর। পুড়ছে কয়লা, জ্বলছে লোহা। হাতুড়ির আঘাতে তৈরী হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনে কাজের উপযুক্ত দ্রব্য সামগ্রী, দা, বটি, চাকু, কুড়াল, ছুরি, চাপাতিসহ ধারালো সব যন্ত্রপাতি।

আর কিছুদিন পরই দেশ জুড়ে পালিত হবে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। ঈদকে সামনে রেখে টুং টাং আওয়াজে তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন টাঙ্গাইলের কামাররা। সারা বছর কাজ সীমিত থাকলেও কোরবানির ঈদের এ সময়টাতে বেড়ে যায় তাদের কর্মব্যস্ততা।

টাঙ্গাইল শহরের পার্ক বাজারে দা-ছুরি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাকু প্রতি পিছ ৫০-১৫০ টাকা, দা ৪০০-৬০০ টাকা, চাপাতি ৬০০-৮০০ টাকা, ছুরি ৮০০-১৫০০টাকা এবং বটি ৩০০-৬০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও পুরনো যন্ত্রপাতি শান দিতে গুনতে হচ্ছে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। শহর ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটানা কজ করে যাচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার কামাররা।

কারিগর ঝানু বলেন, স্বাভাবিকভাবে কোরবানি ঈদ এলে আমাদের কাজের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এসময় সকাল ৯ টা থেকে রাত ১২টা-১ টা পর্যন্ত একটানা কাজ করতে হয়। ক্রেতাদেরও কমতি থাকে না। একটু বেশি আয়ের উদ্দেশ্যে দিন-রাত এমন পরিশ্রম করতে হয় বলেও জানান তিনি।

শহরের দা-ছুরি দোকানের কর্মচারি কমল কর্মকার জানান, ঈদ সামনে, তাই অনেক ব্যস্ত। কিন্তু সারাবছর স্বল্প আয়ে আমরা কিভাবে পরিবার নিয়ে চলি, তা জানার কেউ নেই । সারাদিনে মহাজনের পাঁচশত টাকা রুজি হলে আমরা তার থেকে কত টাকাই বা পেয়ে থাকি বলেও দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

গরু কোরবানির জন্য চাকু কিনতে আসা মারুফ সরোয়ার বলেন, কোরবানির জন্য ভালো দেখে একটা চাকু কিনলাম। অন্য সময়ের তুলনায় দাম একটু বেশি রাখছেন কামাররা বলেও তিনি জানান।