• আজ ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঈদের দিনেও মায়ের অপেক্ষায় শিশু তুবা

১:১৬ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, আগস্ট ১৩, ২০১৯ ঢাকা
ma

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ বাড্ডায় ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত তাসলিমা বেগম রেনুর চার বছর বয়সী মেয়ে তাসমিন মাহিরা তুবার এবারের ঈদ কাটছে মাকে ছাড়াই। ২৩ দিন আগে তুবাকে ড্রেস আনার কথা বলে তার মা তাসলিমা বেগম রেনু নিচে গিয়েছিলেন। আসার সময় চিপস, চকলেটও নিয়ে আসবেন বলেছিলেন। কিন্তু ড্রেস, চকলেট ও চিপস কিছুই আনেননি তার মা; উল্টো তুবাকে না বলেই তিনি চলে গিয়েছেন আজানার পথে।

গত ঈদে দুই সেট জামা পেয়েছিল তাসমিন মাহিরা তুবা। তাতেই অনেক খুশি ছিলো; হৈ-হুল্লোড়ে মাতিয়ে রেখেছিল পুরো ঘর। কোরবানির ঈদে সে পেয়েছে ১৯ সেট জামা ও ৯ জোড়া জুতা- কিন্তু খুশি নেই চার বছরের ফুটফুটে শিশু তুবার মনে। কারণ অনেক দিন হলো মায়ের মুখটি দেখে না সে।

ঈদের দিনেও মোবাইলে মায়ের সঙ্গে কথা বলার অনেক চেষ্টা করেছে তুবা। কিন্তু মা তার ফোন ধরেন না। তবুও একদণ্ডের জন্য মায়ের ছবি হাতছাড়া করেনি তুবা। ঘুম ভাঙার পর থেকে রাত পর্যন্ত বুকের মাঝে জামার ফিতের সঙ্গে বেধে রেখেছিলো সে রেনু মায়ের ছবি। নতুন কেউ ঘরে আসলেই তড়িঘড়ি করে টেবিলের ওপর পারিবারিক অ্যালবাম নিয়ে বসে, সেখান থেকে মায়ের ছবি বের করে অন্যদের দেখিয়ে তুবা বলে, ‘এইটা আমার মা। অনেক চকলেট নিয়ে আসবে মা।’

গত ২০ জুলাই রাজধানীর উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছেলেধরা সন্দেহে হত্যা করা হয় তুবার রেনু মাকে। তুবাকে স্কুলে ভর্তির জন্য খোঁজ নিতে গিয়ে স্কুলের ভেতরই গণপিটুনিতে নিহত হন তিনি।

রাজধানীর মহাখালীতে তুবার নানীর বাসায় আজ সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গিয়েও দেখা গেছে মলিন মুখে বসে আছে মাহির। আর খেলনার চুলায় খিঁচুড়ির রান্না বসিয়েছে তুবা। দুষ্টুমিতে পুরো ঘর মাতিয়ে রেখেছে সে।

নিহত রেণুর বড় বোন নাজমা বেগম জানান, তুবা আর মাহির এবার তার নানী সবুরা খাতুন, বড় খালা নাজমা বেগম, খালোতো ভাই সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু, খালোতো ভাই ইরাম ও ইজাজের সঙ্গে কোরবানির ঈদ করেছে। কিন্তু বাসায় ছিলো না ঈদের কোনো আমেজ।

রেনুর কথা ভেবে শয্যাশায়ী প্রায় তুবার নানী সবুরা খাতুন। দুই শিশুকে যারা এতিম করলো, তাদের ফাঁসি দাবি করেন তুবার বড় খালা নাজমা বেগম।

Loading...