সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৬ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দৌলতদিয়া ঘাটে মানুষের ঢল: যানবাহনের দীর্ঘ সারি, ৭কিঃমিঃ যানজট

৫:৫৭ অপরাহ্ণ | শনিবার, আগস্ট ১৭, ২০১৯ ঢাকা
Rajbari

খন্দদকার রবিউল ইসলাম, রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ  স্বজনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে শনিবার সকাল থেকে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রী ও যানবাহনের বাড়তি চাপে দেশের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত দৌলতদিয়ায় বাস টার্মিনাল, লঞ্চ ও ফেরি ঘাট এলাকায় মানুষের ঢল নেমেছে।

ঈদের ছুটি কাটিয়ে জীবিকার তাগিদে আবার ঢাকামুখী হতে শুরু করেছে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। এ কারণে শনিবার সকাল থেকেই রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ঈদ উল আযহা শেষে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে এই ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়।

এতে গাড়ির চাপ বেড়ে গিয়ে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় দুপুরের পর থেকে নদীপারের অপেক্ষায় আটকা পড়া বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকারের সাড়ি দীর্ঘ হতে থাকে। কর্মস্থলগামী মানুষকে বয়ে আনা অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে শনিবার বিকেল নাগাদ দৌলতদিয়ায় ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের গোয়ালন্দ পৌরসভা এলাকা পর্যন্ত ৭কিলোমিটার জুড়ে সৃষ্টি হয় গাড়ির দীর্ঘ যানজট। সিরিয়ালে আটকে থাকা সাধারণ বাসযাত্রীরা এসময় চরম দুর্ভোগ পোহান।

বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ বলছে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে তীব্র ¯্রােতের কারণে ফেরি পারাপারে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগায় যানবাহন আটকা পড়ছে। বিকেল পর্যন্ত ১৯টি ফেরি চলাচল করছে।

সিরিয়ালে আটকা পড়া একাধীক ট্রাক চালকরা জানান, দালাল ছাড়া তো আগে দৌলতদিয়ায় ফেরির টিকিট পেতেন না তারা। বেশি টাকা দিয়ে টিকিট কিনেও ফেরিতে উঠতে পারতে না। কিন্তু এবার কোন ঝামেলা ছাড়াই ট্রাকের টিকিট পেয়েছেন। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিরিয়ালে আটকে রয়েছেন। মহাসড়কে আটকা থেকে নানা ধরনের দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন চালক ও যাত্রীরা।

শনিবার সকাল থেকেই দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-ররুটের রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় এ দৃশ্য লক্ষ করা যায়। এদিকে পথে পথে যানবাহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ে ভোগান্তিতে পড়ার অভিযোগ করেছেন অনেকই। কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীরা জানান, পথে পথে, পরিবহনগুলো অতিরিক্ত ভাড়া নিয়েছে তাদের কাছ থেকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের গোয়ালন্দ পৌরসভা এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার মহাসড়কের একপাশে যাত্রীবাহী পরিবহনের দীর্ঘ সারি। অপরদিকে দৌলতদিয়া বাইপাস সড়কের ১ কিলোমিটার জুড়ে নদী পারের অপেক্ষায় সিরিয়ালে আটকে আছে প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস। সময় বাড়ার সাথে সাথে বড় হচ্ছে যানবাহনের সারি। এদিকে ঘাট থেকে মহাসড়কের ৬ কিলোমিটার দুরে গোয়ালন্দ পৌরসভার পদ্মার মোড় এলাকা থেকে ব্যাক্তিগত গাড়িগুলো বিকল্প সড়ক দিয়ে অন্তত ৮ কিলোমিটার ঘুরিয়ে ঘাটে পাঠাচ্ছে পুলিশ। গ্রামের সরু সড়ক দিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে পৌছাতে এ সকল গাড়িগুলোকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

এদিকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পারাপার হতে আসা সকল যানবাহন সরাসরি ফেরিতে উঠতে পেড়েছে। কর্মস্থল গামী মানুষের চাপ থাকলেও ছিল না যানবাহনের সারি। যানবাহন গুলো সড়কে অপেক্ষা ছাড়াই সরাসরি এসে ফেরিতে উঠছে। তবে সময় বাড়ার সাথে সাথে যানবাহন ও যাত্রীর চাপে সেই চিত্র পাল্টাতে থাকে।

হাজার হাজার যাত্রীবাহী বাস ও কয়েক লাখ যাত্রী পারাপারে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে ১৯টি ছোট-বড় ফেরি ও ২৩টি লঞ্চ চলাচল করছে বলে জানিয়েছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। এ দিকে লঞ্চঘাটে যাত্রী নিরাপত্তায় কাজ করতে দেখা গেছে পুলিশ, র‌্যাব, ব্যাটালিয়ন পুলিশ সদস্যদের।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ম্যানেজার (বানিজ্য) মোঃ আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রীবাহী বাস ও ঈদফেরত যাত্রী পারাপারে সচল রাখা হয়েছে ১৯টি ফেরি। আবহাওয়া অনুকূলে ও ফেরিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা না দিলে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক ভাবেই চলবে। নদীতে প্রচন্ড ¯্রােত তাছাড়ও শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ী নৌরুট থেকেও কিছু যানবাহন এরুটে আসছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপেই কিছুটা যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটের কর্মরত ট্রাফিক সার্জেট মেহেদী হাসান জানান, দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে অতিরিক্ত যানবানের চাপের কারনে কিছু টা যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে যাত্রীরা যাতে ভোগান্তি ছাড়াই নিরাপদে তাদের গন্তেবে পৌঁছতে পারছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, কারো বিরুদ্ধে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ ফোর্স নিয়োজিত রয়েছে। সাদা পোশাকে কাজ করছে গোয়েন্দা পুলিশ। কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়া মানুষ ঢাকায় ফিরছে মানুষ।

ব্যাস্ততম এ সময় রুটে চলাচলকারী ইউটিলিটি ফেরি কুসুম-কলি যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিকল হয়ে পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানায় মেরামতে রয়েছে।