• আজ ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ইয়াবা খেয়ে স্কুল শিক্ষিকাকে ধর্ষণ, ধামাচাপা দিতে গলা কেটে হত্যা

৭:২৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৯ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

আশিক বিন রহিম, চাঁদপুর প্রতিনিধি- চাঁদপুরে আলোচিত স্কুল শিক্ষিকা জয়ন্তী চক্রবর্তী (৪৫) হত্যাকান্ডের ২৯ দিনের মাথায় ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিআইবি)। এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে আটক ডিস ব্যবসার দুই লাইনম্যানই হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে বলে জানায় পিআইবি।

১৮ আগস্ট রোববার বিকেল ৩টায় চাঁদপুর পিআইবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হত্যার পুরো ঘটনার রহস্য এবং আটক ব্যাক্তিদের তথ্য জানান চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো, ইকবাল হোসেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, চাঁদপুর শহরের ষোলঘরস্থ পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্টাফ কোয়াটারে ৪তলা বিশিষ্ট একটি ঝরাজীর্ণ ভবনের স্বপরিবারের বসবাস করতো অবসরপ্রাপ্ত উচ্চতর হিবাস করনীক অলক গোস্বামীর স্ত্রী ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা জয়ন্তি চক্রবর্তী (৪৫)। ২১ জুলাই দিনের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা তাকে জবাই করে হত্যা করে।

২২ জুলাই নিহতের স্বামী অজ্ঞাতদের আসামী করে মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং ৪১। হত্যাকান্ডের ঘটনার পর পিআইবি’র একটি টিম চাঁদপুর জেলা পুলিশের পাশাপাশি তদন্তে নামে। এসময় অধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও বিজ্ঞান ভিত্তিক সাক্ষ্য প্রমানাধি সংগ্রহ এবং ঘটনার সাথে জড়িত থাকার ডিস ব্যবসার দুই লাইনম্যানকে সন্দেহ করা হয়।

তারা হলেন, শহরের বিটি রোড় এলাকার মৃত জাবেদ উল্লাহর পুত্র ডিসের লাইনম্যান জামাল হোসেন (২৮) ও ষোলঘর পাকা মসজিদ এলাকার আলী হোসেন গাজীর পুত্র ডিসের মহাজন আনিছুর রহমান। এক পর্যায়ে পিআবি’র সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ তাদের আটক করে আদালতে প্রেরণ করে।

পরবতির্তে চাঞ্চল্যকর একটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্ত কার্যক্রম পিবিআইয়ের হাতে আসে। ৪ আগস্ট মামলার নথি পিবিআই এর তদন্তকারী অফিসারের নিকট হস্তান্তর করা হলে এসএসপি চট্টগ্রাম বিভাগ মোঃ ইকবালের তদারকি ও পিবিআই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শংকর কুমার দাসের সার্বক্ষণিক নির্দেশনায় তদন্তকারী অফিসার মো. কবির আহমেদ এর নেতৃত্বে পিবিআই চাঁদপুর এর একটি টম তদন্ত চালায়। তদন্ত টিমের জিজ্ঞাসাবাদে আসামী জামাল হোসেন ঘটনার সম্পৃক্ততা স্বীকার করে ধর্ষণ ও হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে।

জামাল তার পিতার চাকুরীর সুবাদে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোয়াটারে দীর্ঘদিন বসবাস করেছে। ঘটনার দিন দুপুরে জামালের অপর সহযোগী আনিছুর রহমানকে সাথে নিয়ে অপরাধের পরিকল্পনা নেয় এবং কোয়ার্টারে ভেতরে পরিত্যক্ত স্কুল ঘরে দু’জনে ইয়াবা’ সেবন করে। বাইরে এসে কৌশলে ডিশ লাইন তার নিয়ে নাড়াচাড়া করে যাতে জয়ন্তির বাসায় ডিশ দেখতে অসুবিধা হয়। তাদের পরিকল্পনার ফাঁদে পড়ে যায় জয়ন্তি। বাইরে এসে ডিশ লাইনের সমস্যা হচ্ছে বলে তাদেরকে জানাতেই তারা বাসায় গিয়ে ঠিক করার প্রয়োজনীয়তা জানায় এবং বাসায় প্রবেশ করে। বাসায় ঢুকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে আনিছ জয়ন্তির সাথে ধস্তধস্তি শুরু করলে জামালও সাথে যোগ দেয়।

একপর্যায়ে জয়ন্তির মুখ চেপে ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর ভিকটিম ঘটনাটি সবার কাছে বলে দেয়ার কথা বললে আসামীরা ক্ষীপ্ত হয়ে জয়ন্তীকে পুনরায় ঝাপটে ধরে ঘরের র‌্যাকে থাকা একটা ছোরা দিয়ে জামাল ভিকটিমকে গলায় জবাই করে হত্যা করে। পরে আনিছ বাথরুম থেকে মগে করে পানি এনে রক্তমাখা ছোরাটি লাশের উপর ধুয়ে ফেলে এবং ধর্ষণের আলামত বিনষ্টের উদ্দেশ্যে লাশের গোপনাঙ্গে পানি ঢেলে দেয়। পরে ছোরাটি পূর্বের স্থানে রেখে দিয়ে হত্যাটিকে ক্লু-বিহীন করার চেষ্টা করে।

পিবি আই আরো জানান, আসামী জামাল হোসেনের দেখানো মতে ওই বাসা থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছোরাটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।

আসামী জামাল হোসেন আদালতে তার দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বিষয়টি এখনো তদন্ত চলছে, আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানায় পিবিআই।

এসময় চাঁদপুর পিবিআই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শংকর কুমার দাস, ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) মীর মাহবুবুর রহমান, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কবির আহমেদ, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শহীদ পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক লক্ষণ চন্দ্র সূত্রধরসহ স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ পিবিআইয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে সদর মডেল থানার এসআই অনুপ চক্রবর্তী জানান, ‘মামলা হওয়ার পর স্থানীয়দের মাধ্যমে আমরা খোঁজ খবর নেই। আটককৃত দু’জন ওই এলাকার মাদকাসক্ত হিসেবে তথ্য আমাদের কাছে আগ থেকেই ছিলো। সে হিসেবে ওই দিনে ওখানকার মোবাইল কললিস্ট ট্র্যাকিং করে ১১ টা নাগাদ বাইরের লোক হিসেবে জামাল ও আনিস কোয়ার্টার এলাকা প্রবেশ করেছে এমন তথ্য মিলে। সে সূত্রে আমি তাদেরকে আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে প্রেরণ করি।’