কুমির শাহ্ মাজার শরীফ অযত্ন,অবহেলায় অস্তিত্ব সংকটে, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

১১:৫২ অপরাহ্ণ | সোমবার, আগস্ট ১৯, ২০১৯ ঢাকা
Mirpur

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রভাবশালী  পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক লাখো ভক্ত-আশেকানদের দানকৃত বিপুল পরিমান  অর্থ আত্মসাৎ,অযত্ন,অবহেলার অভিযোগ ঐতিহাসিক হযরত মুশকিল আহসান শাহ বোগদাদী (রঃ) ওরফে কুমির শাহ্ মাজার শরীফ।  এমনকি নিজের অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি  রাজধানীর মিরপুরের চিড়িয়াখানা রোডস্থ বহুল তাৎপর্য  এ মাজারটি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মাত্র কয়েক বছর আগেও এই মাজার শরীফ প্রাঙ্গণটি বেশ যত্নেই ছিলো। ভক্ত আশেকানদের দানকৃত অর্থে এর ধারাবাহিক উন্নয়ন মুলক কার্যক্রম নিয়মমাফিকই চলছিলো। দেশের দূর-দূরান্ত থেকে লাখো ভক্ত আশেকান ও দর্শনার্থীদের আগমনে মুখরিত ও সদা প্রাণচঞ্চল থাকতো মাজার প্রাঙ্গন। সারারাত আস্তানা গেড়ে নানা কর্মকাণ্ডের ফাঁকে শুয়ে ঘুমিয়ে ক্লান্তি দূর করতেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা ।

তবে মাত্র কয়েকটি বছরের ব্যবধানে এখন আর আগের মতো জমজমাট আয়োজন নেই মাজার শরীফটিকে ঘিরে। বর্তমানে একটি প্রভাবশালী মহল মাজারটির পরিচালনা পরিষদের দায়িত্বভার গ্রহনের বছর কয়েকের মধ্যেই মাজার শরীফের রুপ-সৌন্দর্য,ঐতিহাসিক ঐতিহ্যে ব্যাপক ভাটা পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ মাজার শরীফে ভক্ত আশেকানদের দানকৃত বিপুল পরিমান অর্থের আয় ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো হিসেব না থাকায়  তা চলে যাচ্ছে পরিচালনা পরিষদের প্রভাবশালীদের আত্মসাৎ এর খাতায়। দানের লক্ষ লক্ষ টাকা কোথায় যায়? স্থানীয়দের মনে সর্বদাই এই প্রশ্নটি ঘুরপাক খেলেও বানরের গলায় ঘন্টা বাধবে কে?

মাজার শরীফের নিজস্ব বেশ কিছু জমি সুকৌশলে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে  দখল করে সেখানে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের কারনে বর্তমানে নিজের অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে বহুল ঐতিহ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ এই মুশকিল আহসান শাহ্ (কুমির শাহ) মাজার শরীফ। এখন সেখানে আলাদা আলাদা আস্তানা গেড়ে লাখো ভক্ত আশেকান আর দর্শনার্থীদের আগমনে প্রাণচাঞ্চল্য ও  দূরের কথা মাজার শরীফের নিজস্ব এলাকায় পায়ে হেটে চলাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। পাশেই কামাল হাউসিং সহ বেশ কিছু জনবসতির অপরিকল্পিত ময়লা আবর্জনা ফেলা ও নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে মাজার শরীফ ইতোমধ্যেই তার প্রকৃত রুপ হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি।

বাউল গান করে দর্শক শ্রোতাদের দেয়া উপহারে জীবিকা নির্বাহ করা বেশ কয়েকজন বাউল শিল্পী আক্ষেপের সাথে সাথে অভিযোগ করে বলেন, আমরা প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে কুমিরশাহ মাজার শরীফের সাপ্তাহিক আয়োজনে সারারাত উৎসবমুখর আয়োজনে বাউল গান পরিবেশনে ভক্ত আশেকানদের দেয়া উপঢৌকন দিয়েই সপ্তাহের সংসার খরচ চালাতাম। কিন্ত মাজারের জমি গুলি প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে সুকৌশলে বেদখল হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে মাজার প্রাঙ্গণে আগের মতো বসার কোন স্থানই নেই। উৎসমুখর পরিবেশে নানা আয়োজন তো দূরের কথা! ময়লা আবর্জনায় ঘিরে রয়েছে আশপাশ।

জনশ্রুতি রয়েছে,প্রায়  সাড়ে পাঁচশ বছর আগে হযরত মুশকিল আহসান শাহ (কুমির শাহ্) সুদূর বাগদাদ থেকে এদেশে আসেন ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে। তিনি কুমিরের পিঠে চড়ে এদেশে এসেছিলেন বলেই তাকে কুমির শাহ্ বলে ডাকা হয়। এদেশে এসে তিনি বর্তমান রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরের চিড়িয়াখানা সংলগ্ন এলাকায় আস্তানা গাড়েন। এক পর্যায়ে এখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তখন এই বিস্তর এলাকাজুড়ে নদী ছিলো। এখানেই বসবাসের এক পর্যায়ে তিনি ওফাত গ্রহণ করলে ভক্ত-আশেকানদের উদ্যাগে একটি মাজার শরীফ স্থাপিত হয়। ভক্ত আশেকানদের দানকৃত বেশ কিছু ভূমি মাজার শরীফের আয়ত্বে আসে। ভক্ত আশেকানদের দানকৃত অর্থে মাজার শরীফের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে যায়। প্রতি সপ্তাহের নির্ধারিত বৃহঃপতিবার রাতে হাজারো ভক্ত আশেকান ও দর্শনার্থীদের মিলন মেলায় পরিনত হতো। আলাদা আলাদা আসর বসিয়ে সারারাত বাউল শিল্পীদের সুরের মুর্ছনায় পার হতো রাত।

তাছাড়া প্রতিবছর বাৎসরিক উরস শরীফ উৎযাপন উপলক্ষে দেশের দূর-দূরান্তের জেলাসমুহ থেকে লাখো ভক্ত আশেকানদের সমাগম ঘটতো। সারারাত মাজার প্রাঙ্গণে নানা উৎসব মুখর আয়োজনে মুখরিত থাকতো।

এবিষয়ে স্থানীয় ঢাকা-১৪ আসনের সাংসদ আসলামুল হক আসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী দাবি করে জানান, বহুল তাৎপর্য ও ঐতিহ্যেপূর্ণ  এই মাজার শরীফের উন্নয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলাম একটু সুদৃষ্টি দিলেই হয়তো মাজারটি ফিরে পেতে পারে তার পূর্বরুপ। মাজার শরীফের আয়ের বিপুল পরিমান অর্থ কোথায় যায়?    মাজার শরীফের লাখো ভক্ত আশেকানদের দানকৃত বিপুল এই অর্থ আত্মসাৎ এর খাতায় না গিয়ে যদি মাজারটির উন্নয়ন কার্যে ব্যয় হয়। এমনকি মাজারটির আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসেব রাখার একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম করা হয় তাহলে হয়তো মাজার শরীফটি তার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরে পেলেও পেতে পারে।

ঘটনাটির সত্যতা সম্পর্কে এই কুমিরশাহ মাজারের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক  শেখ আব্দুল মান্নানের নিকট জানতে চাইলে তিনি এবিষয়ে কোনো সদুত্তর না দিয়ে বরং প্রতিবেদকের সাথে অশালীন আচরণ করেন।