• আজ ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এখনও শরীরে ৪০টি স্প্রিন্টার বয়ে বেড়াচ্ছেন তথ্যমন্ত্রী

১১:১১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, আগস্ট ২০, ২০১৯ ফিচার
tottho

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় এখনও শরীরে ৪০টি গ্রেনেডের স্প্র্রিন্টার বয়ে বেড়াচ্ছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

গ্রেনেড হামলার মুহুর্তে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য অস্থায়ীভাবে ট্রাকের উপর তৈরিকৃত মঞ্চের পাশেই ছিলেন। ঘাতকদের গ্রেনেড হামলা শুরু হওয়ার সাথে সাথে তিনিসহ শেখ হাসিনার পাশে থাকা সিনিয়র আওয়ামীলীগ নেতারা মানব দেয়াল রচনা করে শেখ হাসিনাকে রক্ষার চেষ্ঠা করেন।

এসময় তার শরীরে অসংখ্যা গ্রেনেডের স্প্রিন্টার বিদ্ধ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তৎকালীন দুই নারী নেত্রীর সহযোগীতায় তিনি প্রথমে ঢাকার সিকদার মেডিকেলে ভর্তী হন। সেখানে ৮ দিন থাকার পর ২৯শে আগস্ট তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য বেলজিয়ামে যান। সেখানে কয়েকটি স্প্রিন্টার বের করতে পারলেও এখনও ৪০টি স্প্রিন্টার তিনি বয়ে বেড়াচ্ছেন।

২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার ৪৯১ জন সাক্ষীর মধ্যে তিনি অন্যতম রাজ স্বাক্ষী। রাজ স্বাক্ষী হিসেবে তিনি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষ্য প্রদানকালে তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা এবং আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করাই একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল।

ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেন, সেদিন ঘটনাস্থলে তিনি উপস্থিত ছিলেন। ওইদিন বিষ্ফোরিত আর্জেস গ্রেনেডের অসংখ্য স্প্রিন্টার তার শরীরে ঢুকে যায়। চিকিৎসায় কিছু স্প্রিন্টার বের করা হয়। বাকি অসংখ্য স্প্রিন্টার এখনো তার শরীরে রয়ে গেছে। যেগুলো বের করতে গেলে তার নার্ভ কেটে বের করতে হবে। ফলে তার মৃত্যুও হতে পারে। তাই তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাকি স্প্রিন্টার বের করেননি।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক একাউন্টে ২১ আগস্টের সময় আহত হওয়ার দুর্লভ ১ ছবি জুড়ে দিয়ে ইংরেজিতে স্ট্যাটাস দেন ড. হাছান মাহমুদ। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দৃশ্য এটি, আমি গুরুতর আহত। আমাদের দলের দুই নারী নেত্রীর সহায়তায় কোনোভাবে একটি বাসে উঠেছিলাম। সেদিন আমার জীবন রক্ষা করার জন্য তাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। যখন আমি হাসপাতালের পথে তখন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মনে হচ্ছিল আমার সমস্ত শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। যদি আর এক ঘণ্টা দেরি হতো তাহলে সেদিন অন্যকিছু হয়ে যেতে পারতো। এখনো আমার শরীরের নিচের অংশে ৪০টি স্প্রিন্টার আছে। আমাদের সবার উচিত ঐক্যবদ্ধভাবে সেই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া।