সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৬ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ছাত্রদলের জিএস হতে চান খালেদা জিয়ার সাহসী ‘ডালিয়া’

১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক: ছাত্রী, নারী বা নেত্রী- যে নামেই তাকে ডাকা হোক তিনি সাহসী। এটা নিজেই বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও তার সাহসের প্রশংসা করেছেন।

গায়ে শার্ট, চোখে চশমা ও জিন্সের প্যান্ট। এই আধুনিক পোশাকে স্কুটি চেপে খালেদা জিয়ার গাড়ির ঠিক সামনে যাকে দেখা যেত সেই ডালিয়া রহমান এবার ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন। ছাত্রদলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মহিলা সম্পাদক হতে চান তিনি।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বের হয়ে বলেন, ‘আমার সাহস আছে। আছে এগিয়ে যাবার শক্তি। দুঃসময় পাড়ি দিতে নেতৃত্বে আসতে চাই। তৃণমূলের ভোটাররা আমাকে সমর্থন দিচ্ছেন।’

ডালিয়া রহমান একা স্কুটি নিয়ে খালেদার গাড়িবহরে সঙ্গী হয়ে দৃষ্টি কেড়েছিলেন। খালেদা আদালতে যাওয়ার পথে তার ‘মোটরসাইকেল প্রটোকল রাইড’ দৃষ্টি কাড়তো সবার। গাড়ি বহরের ঠিক সামনে একাই থাকতেন ডালিয়া। লুকিং গ্লাসে পেছনে দেখতেন তার প্রিয় নেত্রীকে।

খালেদা জিয়া যতবার আদালতের পথে গুলশানের বাসা থেকে রওয়ানা দিয়েছেন, ততবার তার গাড়ির সামনে স্কুটি নিয়ে যুক্ত হয়েছেন বহরের একমাত্র নারী বাইকার ডালিয়া। এমনকি বেশ কয়েকবার স্কুটি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করতে হয়েছে তাকে। কিন্তু হাল ছাড়তেন না।

ডালিয়া রহমান জানান, এটা নতুন নয়, যতবার খালেদা জিয়া আদালতের পথে বের হয়েছেন, ততবার তিনি সঙ্গী। কিন্তু এখন দুঃখ লাগে, কারাগারে থাকায় খালেদার সঙ্গী হতে পারেন না তিনি। এ বেদনা তাকে প্রতিদিন পীড়িত করে। আর এ জন্যই খালেদার মুক্তির জন্য তিনি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হতে চান। সারাদেশের ছাত্র সমাজকে নিয়ে রাজপথের আন্দোলন চান।

ডালিয়া এর আগে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সহসম্পাদক ছিলেন। আইনে পড়াশোনা শেষ করেছেন সদ্য।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সূত্র জানায়, এবার দলের নেতৃত্ব নির্বাচনে বড় ধরনের চমক থাকবে। বিশেষ করে দলের নেতৃত্বে তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকবে। সেই ধরনের তারুণ্য খুঁজছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

উল্লেখ্য, কাউন্সিলের মাধ্যমে বিএনপির ছাত্রসংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনে শতাধিক জন মনোনয়ন ফরম কিনলেও মঙ্গলবার সময় শেষ হওয়ার পর দুই পদে মোট ৭৬ জন তা জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে সভাপতি প্রার্থী ২৭ জন এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ৪৯ জন।

প্রার্থীরা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মহড়া দিয়ে ঢাকার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কাছে ফরমসহ কাগজপত্র জমা দেন।

সভাপতি পদে কোনো নারী ফরম কেনেননি। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে যে তিনজন নারী ফরম কিনেছিলেন, তাদের মধ্যে বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের নাদিয়া পাঠান পাপন এবং ‘সাহসী নেত্রী’ ডালিয়া রহমান মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের শীর্ষ এই দুই পদের নেতা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে, যাতে সারাদেশে ১১৭টি সাংগঠনিক ইউনিটের ৫৮০ জন কাউন্সিলর ভোট দেবেন।

ছাত্রদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী বলেন, “সর্বমোট ৭৬টি ফরম জমা পড়েছে। বিক্রি হয়েছিল ১১০টি।”