‘খালেদা জিয়া গ্রেনেড হামলার দায় এড়াতে পারেন না’

১০:৫৬ অপরাহ্ণ | বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯ জাতীয়
HASINA

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ বুধবার রাজধানীর ফার্মগেট খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে একুশে আগস্ট উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া তার দায় এড়াতে পারেন না। তার যে দায়-দায়িত্ব ছিল তা অস্বীকার করা যায় না।

শেখ হাসিনা বলেন বলেন, ‘বাবর তো স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিল; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খালেদা জিয়া। যদিও খালেদা জিয়াকে এ মামলায় আসামি করা হয়নি। কিন্তু তখন সে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বে ছিলেন।’

হামলায় বিএনপি-জামায়াত সরকার জড়িত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের একটা পরিস্থিতি দিনে-দুপুরে কীভাবে ঘটতে পারে, বিএনপি সরকার ক্ষমতায়- তাদের মদদ ছাড়া এটা হতে পারে না। কাজেই এ ঘটনার পর তাদের তো ধারণা ছিল, আমি মারা গেছি; গ্রেনেড ট্রাকের ওপর পড়তে পারত; কিন্তু সেখান থেকে বাড়ি খেয়ে বাইরে পড়ে যায়। যদি ট্রাকের ওপর পড়ে তখন আমরা সবাই শেষ হয়ে যাই। সেখান থেকে যখন গাড়িতে উঠতে যাই, গাড়িতে ওঠার সময় আবার গুলি করে। মাহবুবের (ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী) গায়ে গুলি লাগে।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে যেখানে সবসময় মঞ্চ করা হয়, এদিন একটু সামনে এগিয়ে যায় ট্রাক। এটা আল্লাহর ইশারা, না হলে ট্রাক আরও সামনে এগিয়ে যাবে কেন!’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘এ হামলার আগে খালেদা জিয়ার প্রতিটি বক্তব্যে একটাই কথা ছিল, শেখ হাসিনা ১০০ বছরেও ক্ষমতায় যেতে পারবে না। যাক আল্লাহর মাইর দুনিয়ার বাইর, মানুষ বোঝে না- আল্লাহর ক্ষমতা কত- সে (খালেদা জিয়া) যে অভিশাপ আমাকে দিয়েছিল, তার জন্যই তা বাস্তব হয়েছে।’

ভয়াল গ্রেনেড হামলার মূল টার্গেটে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি শুধু এটুকুই বলব, আমি বেঁচে আছি। সেদিন একটা নয়, ১৩টি গ্রেনেড ছোড়া হয়। ১২টিই বিস্ফোরিত হয়। বেঁচে থাকার কথা নয়, তারাও ভেবেছিল আমি বেঁচে নাই; যারা হামলা করেছে তারা সেখান থেকে ফোন করেছে, আমি মারা গেছি।’

আলোচনা মঞ্চে উপস্থিত আহত ও নিহতদের স্বজনদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, মঞ্চে যারা রয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন, অনেকে আপনজন হারিয়েছেন। মানুষ একটা শোক সইতে পারে না। আমি সবাইকে হারিয়েছি। দেশের মানুষের আত্মত্যাগের কথা আমরা সবসময় স্মরণ করি।

সভা সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমীন। সভায় সূচনা বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আলোচনায় আরও অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাহারা খাতুন, নির্বাহী সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি আবুল হাসনাত, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।