সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৬ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নওগাঁয় পাগলা শিয়ালের তান্ডব: আহত ২০, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক

১১:৫১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২২, ২০১৯ দেশের খবর, রাজশাহী

নাজমুল হক নাহিদ, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বসন্তপুর, ইদ্রশুকনা, পরমানন্দপুর, বেগুন জোয়ারসহ আরো কয়েকটি গ্রামের বিভিন্ন বযসের প্রায় ২০জন পুরুষ ও মহিলাকে একটি পাগলা শিয়াল কামড়ে দিয়েছে। কাউকে পেছন থেকে, কাউকে সামনে থেকে অর্তকিত ভাবে হামলা করে শরীরের বিভিন্ন অংশে কামড়ে দিয়েছে সেই পাগলা শিয়ালটি। এতে করে অনেকেই গুরুত্বর আহত হয়ে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।

শিয়ালের কামড়ে আহত বসন্তপুর গ্রামের আর্জিনা, আমেনা, শহীদুল ইসলাম, শফিসহ আরো অনেকেই বলেন, বুধবার দিনের বেলায় তারা গ্রামের পাশের মাঠে ফসলের ক্ষেতে কাজ করছিলেন। হঠাৎ করে একটি শিয়াল পেছন থেকে এসে পর্যায়ক্রমিক ভাবে প্রত্যককে অতর্কিতভাবে কামড়ে দেয়। কারও হাতে, পায়ে আবার কারও নাকে কামড়ে দেয় শিয়ালটি। এতে করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। এরপর থেকে শিয়ালটি মাঠে ও রাস্তায় যাকে দেখছে তাকেই অতর্কিত ভাবে কামড়ে দিচ্ছে।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ওই অঞ্চলে হঠাৎ করেই শিয়ালটি এই তান্ডব চালিয়ে আসছেন বলে জানান স্থানীয়রা। প্রথম কামড়ে দেয় ইন্দ্রশুকনা গ্রামের কয়েকজন পথচারীকে। এরপর গ্রামবাসীরা শত চেষ্টা করেও পাগলা শিয়ালটিকে মেরে ফেলতে না পারায় ওই দিন সন্ধ্যায় বাজারে আসার সময় আরো কয়েকজন পথচারীকে কামড়ে দেয় শিয়ালটি। গ্রামবাসীরা আশঙ্কা করছেন যে দিনের বেলায় ছোট ছেলে-মেয়েরা একা স্কুলে যায় তখন যদি শিয়ালটি তাদের কামড়ে দেয় তাহলে কি হবে। এছাড়াও শিয়ালের কামড়ে বেশকিছু গরু, ছাগলেরও মৃত্যু হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

বসন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম হাবিব বলেন, পাগলা শিয়ালের কারণে বর্তমানে ওই অঞ্চলের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা রয়েছেন চরম আতঙ্কে। কখন বের হয়ে কাকে কামড়ে দেয় তা বলা খুবই মুশকিল। বর্তমানে দিনে ও রাতে ঘরের বাইরে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। এই শিয়ালটি যদি এখন মেরে ফেলা না যায় তাহলে এই শিয়াল থেকে আরো অনেক শিয়াল এই রোগে আক্রান্ত হয়ে যাবে। তখন সমস্যাটি আরো জটিল আকার ধারন করবে।

আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে শিয়ালটি মেরে ফেলার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নওগাঁর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: রওশন আরা খানম বলেন, আমাদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ ভ্যাকসিন রয়েছে। শিয়াল যাদের কামড়ে দিয়েছে তাদেরকে অতিদ্রুত ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে হবে।