সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৬ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সহকারী কমিশনারের ড্রয়ার ভেঙে ইয়াবা চুরি: কারাগারে কনস্টেবল

১:১৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২২, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- রাজধানীর ডিবি কার্যালয়ে এক সহকারী কমিশনারের ড্রয়ারের তালা ভেঙে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা চুরির অভিযোগে সোহেল রানা নামের এক কনস্টেবল এখন কারাগারে। গত শুক্রবার গভীর রাতের এ ঘটনায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা হয়েছে।

মামলার পর ওই পুলিশ কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

পুলিশ কনস্টেবলের সোহেল রানার বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার কাকনা গ্রামে। তাঁর বাবার নাম জিন্নাত আলী। গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী ও পুলিশের পরিদর্শক মো. শাহাবুদ্দিন খলিফা। ডিবির অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও পেশাদার খুনি দমন টিমে (পশ্চিম বিভাগ) কর্মরত আছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে আসেন কনস্টেবল সোহেল রানা। সেখানে সহকারী কমিশনারের কক্ষের ঢুকে ড্রয়ারে আলামত হিসেবে রাখা পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট হাতিয়ে নেন। পরে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে রিকশাযোগে শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণির দিকে চলে যান। পরদিন শনিবার সকালে ডিবির এএসআই আবু সুফিয়ান ডিউটি শুরুর আগে ডিবির জ্যাকেট নেওয়ার জন্য অফিসে গিয়ে দরজার সামনের বারান্দার সিলিং ও ভেতরে দক্ষিণ কোণের সিলিং খোলা দেখতে পান। ঘটনাটি তিনি সহকারী কমিশনার মজিবর রহমানকে জানান। পরে কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, মজিবর রহমানের কক্ষের থাই অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি দরজা ও তিনটি ড্রয়ারের তালা ভাঙা।

ঘটনার তদন্তে নেমে ডিবি অফিসের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণে এই চুরির ঘটনায় কনস্টেবল সোহেল রানাকে শনাক্ত করা হয়। কনস্টেবল সোহেল রানা জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার দায় স্বীকার করেন। পরে চুরি করা ইয়াবাগুলো তাঁর বাসায় খাটের জাজিমের নিচে থেকে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি স্ক্রু ড্রাইভারও সোহেলের বাসায় পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. শাহাবুদ্দিন খলিফা ইয়াবা চুরির অভিযোগে রমনা থানায় একটি মামলা করেন।

জানা গেছে, গত ৩০ জুলাই গেন্ডারিয়া থানায় ওই মাদক মামলা হয়। চারজন আসামির কাছ থেকে ওই পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। আদালতে আলামত ধ্বংসের আবেদন করা হয়েছে। অনুমতি পেলে ইয়াবাগুলো আদালতে পাঠানো হবে।

শাহাবুদ্দিন খলিফা আরও বলেন, পুলিশ কনস্টেবল সোহেল রানা ডিবি অফিসে কয়েক বছর ধরে কর্মরত আছেন। জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিকে তিনি ইয়াবা চুরির কথা স্বীকার করছিলেন না। একপর্যায়ে ইয়াবা চুরির করার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ীই পরে চুরি করা ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। ১৮ বছর ধরে সোহেল রানা কনস্টেবল হিসেবে চাকরি করছিলেন।