নিঃশেষ হচ্ছে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’, মিনিটে পুড়ছে ১০ হাজার বর্গমিটার

২:৫৪ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, আগস্ট ২৩, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- রহস্যে ঘেরা আমাজন অরণ্যের কথা শুনেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। প্রকৃতিপ্রেমী থেকে শুরু করে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে প্রবল আগ্রহের জায়গা এই আমাজন। পৃথিবীতে মানুষের বেঁচে থাকার যে অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ে, তার ২০ শতাংশ যোগান দেয় এই বন। যে কারণে এই আমাজন বনকে বলা হয় ‘পৃথিবীর ফুসফুস’। সেই অরণ্য এখন নিঃশেষ হচ্ছে দাবানলে।

ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্স (আইএনপিই) বলছে, এ বছর এখন পর্যন্ত ব্রাজিলে ৭২,৮৪৩টি অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। এরমধ্যে অর্ধেকের বেশি আগুনের ঘটনা অ্যামাজন জঙ্গলের, যা আগের বছরের তুলনায় ৮০ শতাংশ বেশি। তাদের হিসাব মতে, দাবানলে প্রতি মিনিটে অ্যামাজনের প্রায় ১০,০০০ বর্গমিটার এলাকা পুড়ে যাচ্ছে, যা একটি ফুটবল মাঠের প্রায় দ্বিগুণ আয়তনের সমান (একটি ফুটবল মাঠের আয়তন প্রায় ৫ হাজার ৩৫১ বর্গমিটার)। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এ অবস্থা চলতে থাকলে জলবায়ু পরিবর্তনবিরোধী লড়াইয়ে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে।

৭০ লাখ বর্গ কিলোমিটার অববাহিকা পরিবেষ্টিত এই জঙ্গলের প্রায় ৫৫ লাখ বর্গ কিলোমিটার এলাকাটি মূলত আর্দ্র জলবায়ু দ্বারা প্রভাবিত। ৯টি দেশ জুড়ে এই অরণ্য বিস্তৃত। আমাজন জঙ্গলের ৬০ ভাগ ব্রাজিলে, ১৩ ভাগ পেরুতে এবং বাকি অংশ রয়েছে কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, গায়ানা, সুরিনাম এবং ফরাসি গায়ানায়।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা (নাসা) তাদের সর্বশেষ এক টুইটে জানিয়েছে অ্যামাজন থেকে আসা ধোঁয়ার কারণে ব্রাজিলের বিভিন্ন প্রদেশের আকাশ কালো হতে শুরু করেছে।

এর আগে সোমবার (১৯ আগস্ট) ব্রাজিলের রাজধানী সাও পাওলো দিনের বেলায় এক ঘণ্টা ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিলো। সেই ধোঁয়ার উৎপত্তি ছিলো রাজধানী থেকে ২৭০০ কিলোমিটার দূরের অগ্নিকান্ড।

এমন ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের জন্য সংরক্ষণবাদিরা ব্রাজিল সরকারের নীতিকে দায়ী করছেন। তাদের দাবি সরকারের কৃষি বিষয়ক নতুন নীতির কারণেই পুড়ে উজাড় হচ্ছে অ্যামাজন।

অ্যামাজন জঙ্গলকে পৃথিবীর ফুসফুস বলা হয়ে থাকে। পৃথিবীর মোট অক্সিজেনের ২০ শতাংশই উৎপাদন করে অ্যামাজন। আর সেকারণেই অ্যামাজনে ব্যাপক মাত্রার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ভাবিয়ে তুলেছে পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের। এই মাত্রার অগ্নিকান্ডে বন উজাড় হওয়ার ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম হুমকির মুখে পড়বে বলে দাবি করা হচ্ছে।

অ্যামাজন দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের বিভিন্ন দেশের অংশ রয়েছে তবে এর তিনভাগের দুই ভাগই ব্রাজিলে। তাই ব্রাজিল সরকারের গৃহীত বিভিন্ন নীতিকেই অগ্নিকান্ডের কারণ বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো চলতি বছরের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পরই রেকর্ড সংখ্যক অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে অ্যামাজনে। পরিবেশবাদীদের দাবি, বন সংরক্ষণে অতীতের সরকারগুলোর নীতির বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বলসোনারো।

তবে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো সন্দেহ করছেন বন উজাড় করতে এনজিওগুলো অ্যামাজন জঙ্গলে গিয়ে আগুন ধরাচ্ছে।

অ্যামাজন জঙ্গল ত্রিশ লাখ জাতের উদ্ভিদের আবাসস্থল। এবং দশ লাখ অধিবাসীও বাস করেন জঙ্গলে

এদিকে দেরিতে হলেও এই সংকট নিয়ে মুখ খুলছেন বিশ্বনেতারা।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) এক টুইট বার্তায় এ সংকটকে ‘আন্তর্জাতিক বিপদ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোন।

এক টুইটে তিনি লিখেন, ‘আমাদের আশ্রয়স্থল পুড়ছে। আক্ষরিক অর্থেই। পৃথিবীর ফুসফুসখ্যাত অ্যামাজন ২০ ভাগ অক্সিজেন উৎপাদন করে। এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। দুই দিন পর শুরু হতে যাওয়া জি-৭ সম্মেলনে এটাই আমাদের প্রধান এজেন্ডা হওয়া উচিত।’

Loading...