বাউফলে মাথার উপর ভবন ভেঙ্গে পড়ার  ভয় নিয়ে ক্লাস করেছে শিক্ষার্থীরা!

৮:২৬ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, আগস্ট ২৫, ২০১৯ বরিশাল
BAUPHAL SCHOOL NEWS

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পশ্চিম নূরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষা গ্রহন করছেন। দীর্ঘ বছর ধরে শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁিক নিয়ে ওই ভবনে পাঠদান করলেও তাদের ভাগ্যে মিলছেনা একটি নতুন ভবন।

চলতি বছরে বেশ কয়েকবার ভবনটির ছাদের ও ভীমের পলেস্তার খসে পরলেও অন্য কোন ভবন না থাকায় বাধ্য হয়ে শিক্ষকরা ঝুঁিকপূর্ণ ভবনেই পাঠদান করান শিক্ষার্থীদের।

গত বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া নয়টার দিকে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে বই রেখে বাহিরে ছুটোছুটি করছে। ঠিক ওই সময় বিদ্যালয় ভবনের প্রথম শ্রেণির কক্ষের বিমের বিশাল অংশ ভেঙে পড়ে বিকট শব্দ হয়। ভয়ে চিৎকার শুরু করে শিশু শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ওই কক্ষে পাঠদান করতে অনিহা করলে প্রধান শিক্ষকের আশ্বস্তে শিক্ষার্থীরা পাঠদান করেন।

সরেজমিনে পশ্চিম বাউফল নুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়, চার কক্ষ বিশিষ্ঠ এক তলা ভবনটির সবচেয়ে ছোট কক্ষটি প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকি তিনটি কক্ষ শ্রেণি কক্ষ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ভবনটির অধিকাংশ বিমে ও পিলারে বড় আকারের ফাটল ধরেছে। বিম, পিলার ও ছাদের সুরকি-পলেস্তেরা খসে পড়ে রড বেরিয়ে রয়েছে। তখনও মেঝেতে বৃষ্টির পানি জমে আছে। এরপরেও ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে ভবনটিতে।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোসা. মানসুরা বলে,‘বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। এখন আবার ছাদ ভেঙে পড়ছে। এই ভবনে ক্লাস করতে আমাদের ভয় লাগে। আমাদের নতুন ভবন চাই।’ একই কথা বলে দ্বিতীয় শ্রেণির মো. মুসা, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. বান্না ও কারিমা সুলতানা।

মো. জহির নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘যেকোনো সময় ভবনটির ছাদ ধসে পড়তে পারে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে তাদের সন্তানদের ক্লাস করতে পাঠিয়ে দুচিন্তায় থাকতে হয়।’ তিনি খুব শিগগির নতুন নির্মাণের দাবি করেন।

ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মাধবী রানী বলেন,‘আজকে (বৃহস্পতিবার) অল্পের জন্য শিশু শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। যদি ক্লাস চলাকালীন বিমের ওই বিশাল অংশ ভেঙে পড়তো তাহলে শিশুদের কি অবস্থা হতো তা সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কারো পক্ষে বলা সম্ভব না।’

প্রধান শিক্ষক সারমিন সুলতানা শামিমা বলেন, ‘বিদ্যালয়টিতে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আছে। পুরা বর্ষা মৌসুমেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়েছে। অন্য কোনো ভবন না থাকায় বৃষ্টি হলেই পাঠদান বিঘœত হয়। এখন আবার ভবনের বিম ও ছাদের সুরকি ভেঙে পড়ছে ও পলেস্তেরা খসে পড়ছে। ভয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে চাচ্ছে না। আর অভিভাবকেরাও তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। এ কারণে দিন দিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে।’ তাই শিগগির ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করে বিকল্প টিনসেট ভবন তৈরি করে পাঠদানের ব্যবস্থা করা জরুরী প্রয়োজন।’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রিয়াজুল হক বলেন,‘সরেজমিনে দেখেছি আসলেই বিদ্যালয় দুটির ভবন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।এ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। খুব শিগগির বিকল্প টিনসেট ভবন তৈরি করে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হবে।