সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৬ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ট্রেনে ধর্ষণ-হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা প্রেমিকের

৭:৪৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, আগস্ট ২৫, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- রাজধানীর কমলাপুর স্টেশনে ট্রেনের পরিত্যক্ত বগিতে হত্যার আগে কয়েক দফায় ধর্ষণ করা হয় মাদ্রাসাছাত্রী আসমা আক্তারকে (১৭)। ধর্ষণের পর কান্নাকাটি করতে থাকায় এবং বিষয়টি মা-বাবাকে জানানোর কথা বলায় ক্ষুব্ধ হয়ে আসমার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মারুফ হাসান ওরফে বাঁধন (১৮)।

মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আসমার সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা নিয়ে বাসে করে পঞ্চগড় চলে যায় সে। তার ধারণা ছিল আসমার পরিচয় শনাক্ত হবে না এবং লাশ অজ্ঞাত হিসেবে দাফন হবে। কিন্তু পরদিন লাশ শনাক্ত হলে আত্মগোপনে চলে যায়। আসমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার উদ্দেশ্যে প্রায় ৫ বছর ধরে তার সঙ্গে ভালোবাসার অভিনয় চালিয়ে আসছিল বাঁধন।

গ্রেপ্তারের পর ঢাকা রেলওয়ে থানা পুলিশের (কমলাপুর জিআরপি) জিজ্ঞাসাবাদে এবং আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য জানিয়েছে এই তরুণ। একাই আসমাকে হত্যা এবং তার সঙ্গে আর কেউ ছিল না বলেও দাবি করেছে বাঁধন।

গতকাল শনিবার দুপুরে নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে সে। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

এর আগে বৃহস্পতিবার বাঁধনকে পঞ্চগড় থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে রেলওয়ে পুলিশের কাছে হন্তান্তর করা হয় তাকে। শনিবার সকালে পঞ্চগড় থেকে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।

বাঁধনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে আসমা হত্যা মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা রেলওয়ে পুলিশের (পূর্ব) ঢাকা অঞ্চলের সহকারী কমিশনার ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ বাঁধনকে আটকের পর আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। আমরা তাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করি।

জিজ্ঞাসাবাদে বাঁধন জানায়, একই মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় আসমার সঙ্গে তার ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়। আসমা তাকে মনেপ্রাণে ভালোবাসলেও সে ভালোবাসত না। কিন্তু আসমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার উদ্দেশ্যে প্রায় ৫ বছর তার সঙ্গে ভালোবাসার অভিনয় চালিয়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ আগস্ট রবিবার আসমা তার সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসে।’

বিয়ে বা সংসার নয়, বরং শারীরিক সম্পর্ক গড়ার উদ্দেশ্যে আসমাকে বাসে করে বাঁধন ঢাকায় নিয়ে আসে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, গত রবিবার বিকেলে ঢাকায় এসে তারা কয়েকটি আবাসিক হোটেলে ‘স্বামী-স্ত্রী’ পরিচয়ে কক্ষ ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বয়স কম হওয়ায় এবং তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় কোনো আবাসিক হোটেল তাদের কাছে কক্ষ ভাড়া দেয়নি। পরে তারা কমলাপুর স্টেশনের বাইরে একটি রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া করে। সেখান থেকে বিকেল ৫টা ১২ মিনিটের সময় কমলাপুর রেলস্টেশনে প্রবেশ করে। দীর্ঘ সময় তারা প্ল্যাটফরমে যাত্রীদের বিশ্রামের বেঞ্চে শুয়ে থাকে। রাত ১০টার পর তারা সেখান থেকে হেঁটে পশ্চিম দিকে (খিলগাঁও রেলক্রসিং) যেতে থাকে, যা স্টেশনের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় (সিসিটিভি) ধরা পড়েছে।

এ সময় বাঁধন কৌশলে আসমাকে স্টেশনের ওয়াশ ফিল্ড এলাকায় দাঁড় করিয়ে রাখা বলাকা এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিত্যক্ত একটি বগির কাছে নিয়ে যায়। হোটেলে কক্ষ না পাওয়ায় সেখানে রাত কাটানোর কথা বলে বগিতে ওঠায় আসমাকে। পরে রাতে তাকে কয়েক দফায় ধর্ষণ করে বাঁধন। ধর্ষণের পর আসমা কান্নাকাটি করতে থাকে এবং তার মা-বাবাকে ধর্ষণের বিষয়টি জানিয়ে দেবে বলে জানায়। এতে বাঁধন ক্ষিপ্ত হয়ে ওড়না দিয়ে আসমার গলা পেঁচিয়ে ধরে। গলা পেঁচিয়ে ৬-৭ মিনিট টেনে ধরে রাখার পর আসমার শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর বাঁধন আসমার সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা নিয়ে গাবতলী চলে যায়। সেখান থেকে পঞ্চগড়ের বাসে করে চলে যায় পঞ্চগড়। বাঁধনের ধারণা ছিল আসমার পরিচয় কখনো শনাক্ত হবে না এবং লাশ অজ্ঞাত হিসেবেই দাফন হবে। কিন্তু পরদিনই আসমার লাশ উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্ত হলে আত্মগোপনে চলে যায় সে।

গত ১৯ আগস্ট সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পরিত্যক্ত ট্রেনের বগির ভেতরের টয়লেটে আসমার লাশ পাওয়া যায়। আসমা পঞ্চগড় সদর উপজেলার আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে। গত ১৮ আগস্ট সকাল থেকে সে নিখোঁজ ছিল। এ কিশোরী গ্রামের একটি মাদ্রাসা থেকে গত বছর দাখিল পরীক্ষা দেয়।

লাশ উদ্ধারের দিন এসআই আলী আকবর জানিয়েছিলেন, ট্রেনের বগির টয়লেট থেকে কিশোরী আসমার লাশ উদ্ধারের সময় শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ছিল। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

পুলিশের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে ঢাকায় এসে আসমার স্বজনরা তার মরদেহ শনাক্ত করেন। তখন আসমার চাচা রাজু মিয়া বলেন, ‘আমরা শুনেছি গ্রামের একটি ছেলের (বাঁধন) সঙ্গে আসমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আসমা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে ওই ছেলেকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওই ছেলে জড়িত। তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সব বেরিয়ে আসবে।’

এরপর রাজু মিয়া রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, এতে মারুফ হোসেন বাঁধনকে আসামি করা হয়।