দুই এমপি মুখোমুখি, ফজলে হোসেন বাদশাকে ফারুক চৌধুরীর উকিল নোটিশ

৮:০৮ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, আগস্ট ২৬, ২০১৯ রাজশাহী
BADSHA NEWS PHOTO

অসীম কুমার সরকার,তানোর (রাজশাহী)প্রতিনিধি: এবার রাজশাহী-২ (সদর) আসন ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও রাজশাহী-১ আসনের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন।

সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী। গণমাধ্যমকে মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগে বুধবার আইনজীবীর মাধ্যমে এই লিগ্যাল নোটিশ দেন ফারুক চৌধুরী।

ফজলে হোসেন বাদশা বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পাটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক মিত্র বাদশা নৌকা প্রতিক নিয়ে টানা তৃতীয় বারেরমত সংসদ সদস্য হয়েছেন। আর ফারুক চৌধুরী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদে রয়েছেন। তিনিও টানা তিন বারের সংসদ সদস্য।

ফরুক চৌধুরীর পক্ষে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন রাজশাহী জজ কোর্টের এ্যাডভোকেট মোহাঃ এজাজুল হক মানু।

জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘খুনি ফারুক-রশিদের শিষ্যরা এখন কেউ এমপি, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ মানবাধিকারকর্মী, কেউ অন্য দলের নেতা’। এতে সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশার বক্তব্যে বলা হয়, ‘তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় ফারুক চৌধুরীও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। ওই সময় ফারুক চৌধুরী প্রথমে ফ্রিডম পার্টি, পরে ছাত্রদল করে রাকসু নির্বাচনে অংশ নেন। ফ্রিডম পার্টির মিছিলে সামনের সারিতে থাকতেন ফারুক চৌধুরী। ওই সময় ফ্রিডম পার্টির মিছিলে কয়েকবার লাঠি নিয়ে ধাওয়া করেছিলেন ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি ফারুক চৌধুরীকেও ধাওয়া করেছেন।’

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘আমার ফ্রিডম পার্টি বা ছাত্রদল করার তথ্য সত্য নয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বাবা আজিজুল হক চৌধুরী ও চাচা মকবুল হক চৌধুরীকে তুলে বাবলা বনে নিয়ে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী। আমার মামা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমার মামাকে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেলখানায় হত্যা করা হয়। আমরা বরাবরই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ। মূলত আমি ব্যবসায়ী ছিলাম।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায় ২০০০ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে একবার প্রতিমন্ত্রী এবং তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হই। এসব কারণে জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, ফজলে হোসেন বাদশা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার একজোট হয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে ইমেজ নষ্ট করছেন।’ তিনি বলেন, আমার কারণে আগামীতে মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগোতে পারছেন না বাদশা। তাই তিনি এসব বক্তব্য দিয়ে আমাকে ছোট করছেন। কিছুদিন আগে আমার শহীদ বাবাকে রাজাকার বলে বক্তব্য দিয়েছেন আসাদ।’

এ বিষয়ে সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘ফারুক চৌধুরী ফ্রিডম পার্টি করতেন, এটা সবাই জানেন। মামলা করলে হাজার হাজার সাক্ষী দেওয়া যাবে। বিএনপি নেতা কবির হোসেনের গুন্ডা বাহিনীতে ছিলেন ফারুক। তা ছাড়া আমি সংসদ সদস্য। আমাকে আইনি নোটিশ দিতে পারবেন না তিনি। দিলেও আমি রিসিভ করব না। আর মামলা করলে আমি গোয়েন্দা বিভাগকে চিঠি দেব ফারুক চৌধুরীর পরিবারের কে কোন রাজনীতি করতেন, তা তদন্ত করে বের করার জন্য।’