সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জ্ঞানের ফেরিওয়ালা সুনীল কুমার গাঙ্গুলী

১১:২১ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, আগস্ট ২৭, ২০১৯ গুণীজন সংবাদ

এইচ এম মেহেদী হাসানাত, ষ্টাফ রিপোর্টার,গোপালগঞ্জ:  গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার একটি প্রত্যন্ত গ্রাম কুমরিয়া। গ্রামটি উপজেলার কলাবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমানায় অবস্থিত। কলাবাড়ী ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের মধ্যে দিয়ে প্রায় ২ কিলোমিটারের একটি বিধ্বস্ত সড়ক পাড়ি দিয়ে কুমরিয়া গ্রামে যেতে হয়।

এই কুমরিয়া গ্রামে হাজার দুইয়েক লোকের বসবাস। তাদের মধ্যে একজন সুনীল কুমার গাঙ্গুলী। সুনীল কুমার গাঙ্গুলী একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। উপজেলা সদর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৫বছর শিক্ষকতা করেছেন। দীর্ঘ এই শিক্ষা জীবনে অনেক ছাত্র-ছাত্রীর মাঝেই তিনি জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন।

অবসর নেওয়ার পর ২০১৪ সালে নিজ বাড়ীর পাশে একক প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেন চন্দ্রিকা জ্ঞান পাঠাগার। তার এই পাঠাগারে ৬শতাধিক বই রয়েছে। তবে এই বই নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নয়। তার ইচ্ছা পাঠাগারটি বই বইয়ে ভরে উঠুক। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে সেটি পারছেন না বলে জানিয়েছেন এই জ্ঞানের ফেরিওয়ালা।

kotalipara photo-(3)

পাঠাগারটিতে তেমন কোন আসবাবপত্র না থাকার কারণে অনেক মূল্যবান বই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিনই ঝেড়ে মুছে নিজের সন্তানের মতো বইগুলো আগলে রাখেন সুনীল কুমার গাঙ্গুলী। অন্যান্য পাঠাগারের চেয়ে সুনীল কুমার গাঙ্গুলীর এই পাঠাগারটি একটু ব্যতিক্রম। এখানে কোন চেয়ার-টেবিল নেই। পাঠক সমাগমও তেমন নেই। সুনীল কুমার গাঙ্গুলী  তার বইয়ের তালিকা নিয়ে পাঠকদের দ্বারে দ্বারে ছুটে যান। যে পাঠকের যে বইটি পছন্দ হয় সুনীল কুমার গাঙ্গুলী  পরের দিন ওই পাঠকের কাছে পছন্দের বইটি দিয়ে আসেন। আবার ওই ব্যক্তির বই পড়া শেষ হলে তিনি গিয়ে বইটি নিয়ে আসেন। বিনিময়ে তিনি কারো কাজ থেকে কোন টাকা পয়সা নেন না। যদি কেহ খুশি হয়ে পাঁচ- দশটি টাকা দেন তাহা গুছিয়ে পাঠাগারে নতুন বই কিনেন। তবে পাঠকের চাহিদা মতো বই না থাকার কারণে দিন দিন পাঠকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বর্তমানে এই পাঠাগারে সহস্রাধিক পাঠক রয়েছে।

চন্দ্রিকা জ্ঞান পাঠাগারের নিয়মিত পাঠক উপজেলার ঘাঘর বাজারের হোমিও চিকিৎসক প্রেম রঞ্জন মন্ডল বলেন, আমি আজ ৫বছর ধরে চন্দ্রিকা জ্ঞান পাঠাগারের নিয়মিত পাঠক। প্রায় ২০ কিলোমিটার দূর থেকে এসে সুনীল কুমার গাঙ্গুলী আমাকে বই দিয়ে যায়। বই পড়া শেষ হলে আবার নতুন একটি বই দিয়ে পূরাতন বইটি নিয়ে যায়। বিনিময়ে তিনি কোন টাকা-পয়সা নেন না। বর্তমানে তার মতো এ ধরণের ব্যক্তি সমাজে বিরল।

সুনীল কুমার গাঙ্গুলী বলেন, ছাত্র জীবনে বই পড়ার প্রচুর শখ ছিল। কিন্তু তখন অর্থ কষ্টের কারণে বই কিনে পড়তে পারিনি। সেখান থেকেই ইচ্ছা ছিলো একটি পাঠাগার করার। চাকরি জীবনে আমার এই পাঠাগার করার ইচ্ছা পূরণ হয়নি। অবসর নিয়ে সেই ইচ্ছা পূরণ করেছি। কিন্তু এখনো ইচ্ছানুযায়ী বই সংগ্রহ করতে পারিনি। পাঠাগারে বই ও আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু কেউ সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি। আমি চাই এলাকার যারা বিত্তবান আছে তারা এই পাঠাগারটি উন্নয়নে এগিয়ে আসুক। এই পাঠাগারটি নিয়েই আমার এখন সকল স্বপ্ন। আমি মৃত্যুর পরে এই পাঠাগার ও পাঠকের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মাহফুজুর রহমান বলেন, বর্তমান সময় সুনীল কুমার গাঙ্গুলীর কর্মকান্ড নিসন্দেহে প্রশাংসার দাবি রাখে। আমি ব্যক্তিগত ও সরকারি ভাবে চন্দ্রিকা জ্ঞান পাঠাগারে বই সরবরাহ থেকে শুরু করে সকল প্রকার সহযোগিতা করবো