‘দেশবাসী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্যে আমাদেরকে সাহায্য করবে’-পরিকল্পনামন্ত্রী

৮:৪০ অপরাহ্ণ | শনিবার, আগস্ট ৩১, ২০১৯ সিলেট
porik

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামসি স্কুল এন্ড কলেজে ৩১আগস্ট শ্রীরামসি গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বলেছেন, এই দিনে এই শ্রীরামসী গ্রামে বহু লোকজনকে এখানে গণহত্যা করেছে। এই গণহত্যাকারীদের বর্তমান সরকার খোঁজে বের করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, গণহত্যা যারা করেছে এবং পাকিস্তানিদের সাথে হাত মিলিয়ে নিজের মাতৃভূমির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলো সেই সকল রাজাকার, আলবদর ও স্বাধীনতা বিরুধীশক্তি যুদ্ধপরাধীদের বিচার অভ্যাহত থাকবে। সে বিচার কার্যে সারাদেশবাসী আমাদেরকে সাহায্য করবে।
porik
মন্ত্রী আরোও বলেন,বিচার শেষ হবে অপরাধীদেরকে না ধরা পর্যন্ত, যুদ্ধপরাধীরা দেশে না আশা পর্যন্ত আমাদের এ বিচারে পক্রিয়া যে কোনোভাবে চলতে থাকবে। এদিনে লাখ লাখ বাঙালী নারী-পুরুষ সকল ধর্মের সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে হত্যা করেছে পাকিস্তানী বাহিনীরা। যুদ্ধপরাধীদের বিচার চলছে,বিচার চলবে,বিচার বন্ধ হবে না।

শহীদ স্মৃতি সংসদ শ্রীরামসির সভাপতি নূর মোহাম্মদ জুয়েল এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি’র বক্তব্য রাখেন,সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিদ্দিক আহমদ, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মিজানুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম মাসুম, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আকমল হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু প্রমুখ।

উল্ল্যেখ, ১৯৭১ সালের ৩১ আগষ্ট সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরামসি গ্রামে যে জঘণ্যতম হত্যাকান্ড ঘটেছিল তা আজও সবার মনে শিহরন জাগায়। ৩১ আগষ্ট বেলা ১০টার দিকে কয়েকটি নৌকা সহেযাগে পাক সেনারা শ্রীরামসি বাজারে উঠে আলবদর আল শামসদের এলাকার লোকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত করার জন্য নির্দেশ দেয়।

পাকবাহিনীর নির্দেশে দেশীয় রাজাকাররা এলাকার সচেতন ও শিক্ষিত অশিক্ষিত যুবকদের ডেকে একটি রুমে জড়ো করে। রুমে নিয়ে সবাইকে পেছনের হাত বেঁধে ফেলা হয়। পরে শতাধিক শিক্ষিক, বুদ্ধিজীবি ও যুবককে বেঁধে নৌকায় নিয়ে গিয়ে এক সঙ্গে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়ে হত্যা করে। অন্যান্য দলকেও একইভাবে বেঁধে পার্শ্ববর্তী পুকুর পাড়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে পাষানের মতো নরপিশাচরা হত্যা করে। আহত হয়ে যারা কোন রকমে বাঁচার তাগিদে পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তাদের উপর পুকুর পাড় হতেও গুলি ছুঁড়ে কাপুরুষের মতো হত্যা করে।

শুধু মাত্র বয়সে যারা খুবই বৃদ্ধ তাদের প্রায় অক্ষত অবস্থায় ছেড়ে দেয়। কেউ কেউ নরপশুদের অত্যাচার হতে প্রাণ বাঁচাতে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র পালাতে সক্ষম হয়। পাক হানাদারদের নিষ্ঠুর এই হত্যাকান্ডে শহীদ হন ১২৪জন বিভিন্ন বয়সের ও পেশার লোক। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন শিক্ষক তহসিলদার, পোষ্ট মাষ্টার, ডাক পিয়ন, ইউপি সদস্য, ছাত্র যুবক, বৃদ্ধ, প্রবাসী ও বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ।