মা হলো ১০ বছরের কিশোরী, বাবা হয়নি কেউ!

৬:৫০ অপরাহ্ণ | রবিবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯ দেশের খবর, বরিশাল

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- বরগুনার বেতাগী উপজেলার দক্ষিণ হোসনাবাদ গ্রামের এক কিশোরীকে প্রেম ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের কালাম বেপারীর ছোট ছেলে আক্কাস বেপারীর উপর।

এদিকে ঘটনা জানাজানির পর ১০ বছরের ওই কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা জানায় সে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তাৎক্ষনিক ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে আক্কাসের পরিবারে ওই কিশোরীকে বিয়ে করার জন্য চাপ আসে।

অভিযোগ আছে, সমাজের প্রভাবশালী মহল থেকে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার জন্যও নির্যাতিত ওই কিশোরীর পরিবারেও প্রস্তাব আসে। তবে ওই কিশোরীরর পরিবার এতে অসম্মতি জানিয়ে ন্যায় বিচারের জন্য বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা করে।

মামলার খবর পেয়ে আক্কাস ওই কিশোরীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে গত বুধবার (২৮ আগস্ট) রাতে নির্যাতিত ওই কিশোরী একটি ছেলে সন্তানের মা হয়।

জন্ম নেয়ার চারদিন পার হয়ে গেলেও এখনো নাম রাখা হয়নি নবজাতকটির। এদিকে ওই নবজাতকের বাবা কে তা নিয়ে এলাকায় চলছে টানাহেঁচড়া।

এ বিষয়ে নির্যাতিত ওই কিশোরী গণমাধ্যমকে জানায়, আমি যে আমার পোলার একটা নাম রাখবো সেই সৌভাগ্যও আমার হয়নি। যেদিন আমি প্রসব বেদনায় ছটফট করেছিলাম সেদিনও আমাকে মারার জন্য আমার ঘরের দরজা কুপিয়ে গেছে আক্কাসের বাবা কালাম বেপারী। একটি প্রভাবশালী মহলের দাপটে তারা আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চলছে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই কিশোরী আরও জানায়, স্বামীর মর্যাদা না পেয়েও সন্তানের মা হয়েছি। আমার সন্তানের পরিচয় চাই।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আক্কাসের বাবা কালাম বলেন, ওই নবজাতকের বাবা আমার ছেলে না। আমাদের সম্মানহানি করার জন্য এলাকার একটি কুচক্রী মহল এসব কথা রটিয়েছে। তাদের মিথ্যা মামলার কারণে আমার ছেলে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

জানতে চাইলে হোসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খলিলুর রহমান বলেছেন, শুরু থেকেই আমরা বিষয়টি জানি। বিষয়টি সমাধানের জন্য ধর্ষণের শিকার মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আক্কাস ব্যাপারীকে বলেছি। কিন্তু এতে আক্কাস রাজি হয়নি। পরে নির্যাতিত শিশুটির পরিবারটিকে আইনের আশ্রয় নেয়ার জন্য বলেছি এবং সহযোগিতা করে যাচ্ছি। এরই মধ্যে মামলা হওয়ার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় আক্কাস।