লালমনিরহাটে রাস্তা সংস্কারে নিম্নমানের ইট, কাজ বন্ধ করে দিলো স্থানীয়রা

৫:৩২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৯ দেশের খবর, রংপুর

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম পৌরসভায় নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়ে করানো রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে পৌর মেয়র নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইইউডিপি-২ প্রকল্পে অধীনে পাটগ্রাম পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ৩টি প্যাকেজে গত এপ্রিলে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এর একটি প্যাকেজে ছিল রাবার ড্যাম থেকে সুইচ গেটের পশ্চিম পাশ পর্যন্ত ৮৫২ মিটার সড়ক সংস্কার। ৯৮ কোটি ২১ লক্ষ ৫০ হাজার ৫৬৫ টাকা চুক্তি মূল্যে কাজ পায় রংপুরের শেখ ফুল মোহাম্মদের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাফিন এন্টারপ্রাইজ।

কিন্তু কাজ শুরুর পর থেকেই স্থানীয়রা নিম্নমানের ইট, বালু, খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ করে আসছিল। এর মধ্যে বুধবার সকালে স্থানীয়রা দেখতে পান খুবই নিম্নমানের ইট ট্রাকে করে এনে রাস্তা সংস্কারের জন্য ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ করেন। এরপরও নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ শুরুর একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন উপস্থিত স্থানীয় লোকজন।

স্থানীয় বাসিন্দা মনোয়ার, আজাদ, জিয়ারুলসহ অনেকেই জানান, অত্যন্ত নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তার কাজ করা হচ্ছে দেখে আমরা এর প্রদিবাদ স্বরূপ সড়কের কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। দিনে দুপুরে ঠিকাদার আর ইঞ্জিনিয়ারের যোগসাজোসে এমন দুর্নীতি হচ্ছে।

কাজে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারের ব্যবস্থাপক মোস্তাক আহমেদ বলেন, সিডিউল অনুযায়ীই কাজ হচ্ছে। তবে মাঝখানে কিছু সময়ের জন্য আমি এবং পৌরসভার ওয়ার্ক এসিসট্যান্ট না থাকার সুযোগে ভাটার মালিক এই নিম্নমানের ইট পাঠিয়েছিল। আমরা ইটগুলো ফেরত নিতে বলেছি।

পাটগ্রাম পৌর মেয়র শমসের আলী নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কথা স্বীকার বলেন, নিম্নমানের ইটের কথা শুনে আমিই স্থানীয়দের কাজ বন্ধ করে দিতে বলেছি। ঠিকাদারের এখানে কোনো দোষ নেই। মূলত পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার জরুরী কাজে ঢাকায় থাকার সুযোগ নিয়ে ভাটার মালিক এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আর যেসব ইট ব্যবহার করা হয়েছে তা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

তবে এ ব্যাপারে জানতে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।