সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পিরোজপুরে ভাসমান পেয়ারার হাট, ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত চাষীরা

৩:৫২ অপরাহ্ণ | শনিবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯ ফিচার

এস.এম. আকাশ, পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের নেছারাবাদের আটঘর কুড়িয়ানায় জমে উঠেছে ভাসমান পেয়ারার হাট। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পেয়ারা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এশিয়ার অন্যতম কুড়িয়ানায় পেয়ারার বাগানে এ বছর ভালো ফলন হয়েছে। মৌসুমী এই ফল সংরক্ষণ করা গেলে এ থেকে কোটি টাকা আয় করা সম্ভব বলে দাবি পেয়ারা ব্যবসায়ীদের। তবে পেয়ারার ভালো ফলন হলেও ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না চাষীরা বলে অভিযোগ করেন।

প্রায় আড়াই শত বছর পূর্বে পূর্ণ চন্দ্র মন্ডল নামের এক ব্যাক্তি ভারতের গয়া থেকে একটি পেয়ারা এনে পিরোজপুরের নেছারাবাদে রোপন করেন। যা স্থানীয়ভাবে গইয়া হিসেবে পরিচিত। এই উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নে বিভিন্ন জাতের পেয়ারার চাষ হয়ে আসছে। উপজেলার আটঘর, কুড়িয়ানা, জিন্দাকাঠী, কঠুরাকাঠী, আলতা, সৈয়দকাঠি, ইন্দ্রে ও পূর্ব জলাবাড়ীসহ প্রায় ২৬টি গ্রামে পেয়ারা চাষ হয়।

উপজেলার পেয়ারা বাগানের সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছে প্রায় দেড় হাজার পরিবার। চাষীরা, বাগান থেকে বিক্রি করতে নৌকায় করে আনছেন কাঁচাপাকা পেয়ারা। সকাল ৭টায় বসা হাটটি বেলা ১২টার মধ্যে পেয়ারা বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। বাজার জাত করতে পেয়ারা ট্রলার, লঞ্চ, ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় চাষীরা বলছেন, ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় পেয়ারার ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। তাই সরকারের কাছে চাষীদের দাবি, দ্রুত যোগাযোগের ব্যবস্থা উন্নত করে এটি একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার।

আর ব্যবসায়ীরা বলছেন, পেয়ারা সংরক্ষণ ও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানি করতে পারলে এটি হতে পারে লাভজনক ব্যবসা। পেয়ার থেকে কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। যদি উন্নত মানের সংরক্ষণ ও বাজারজাত করণের ব্যবস্থা থাকে তাহলে কুড়িয়ানায় পেয়ারা ভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে উঠতে পারে।

পিরোজপুর জেলা প্রশাসক জানান, নেছারাবাদের ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা সংরক্ষণ ও চাষীদের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

Loading...