আট গোষ্ঠীর ১৩৫ সন্ত্রাসী মদদ দিচ্ছে রোহিঙ্গা শিবিরে

৪:৩২ অপরাহ্ণ | সোমবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

তাহজীবুল আনাম, কক্সবাজার প্রতিনিধি- কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে মদদ দিচ্ছে অন্তত আটটি সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদী গোষ্ঠী। সশস্ত্র মহড়া দিয়ে উখিয়া, টেকনাফে ত্রাস ছড়াচ্ছে এসব দলের প্রায় সাড়ে তিনশ সদস্য।

হত্যা, ধর্ষণ, মানব পাচার, অপহরণ, ডাকাতির মত অপরাধে জড়িত সন্ত্রাসী দলগুলো। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণ রোহিঙ্গাদের অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দিয়ে দল ভারির চেষ্টাও করছে তারা।

দুবছর আগে মিয়ানমারের আরাকানে সেনা অভিযানের মুখে বাংলাদেশ অভিমুখে ছোটে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। সে সময় আশ্রয় নেয়া সাড়ে আট লাখসহ মোট প্রায় বারো লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে কক্সবাজারের উখিয়া, টেকনাফের বত্রিশটি শিবিরে।

শরণার্থী ঢলের দুবছর পূর্তিতে রোহিঙ্গা শিবিরে সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদী আটটি গোষ্ঠীর উত্থানের খবর উঠে এসেছে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। এরমধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা। মৌলভী আয়াছ, মোহাম্মদ মুছা ও আরমান নামে তিন কমান্ডারের নেতৃত্বে চলছে সংগঠনটি।

তাদের সক্রিয় সদস্য ১৩৫ রোহিঙ্গা। এরপরেই আছে মৌলভী শহীদুল গ্রুপ, এই গোষ্ঠীটির সদস্য ৭৬ জন। নবী হোসেন গ্রুপের সদস্য ৭২, দীল মোহাম্মদ ওরফে মার্স গ্রুপের সদস্য ২৯, হিট পয়েন্ট গ্রুপের সদস্য ২০। এছাড়াও আলম গ্রুপ, মৌলভী আইয়াছ গ্রুপ ও হাসিম গ্রুপের সদস্যরাও সক্রিয়।

হত্যা, অপহরণ, মাদক চোরাচালনসহ নানা ধরনের অপরাধে জড়িত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো।

পুলিশের তথ্য বলছে, গত দুই বছরে নানা অপরাধে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৪৭১টি। এসব মামলায় আসামি হয়েছে ১০৮৮জন রোহিঙ্গা। এরমধ্যে হত্যা মামলা ৪৩টি, অস্ত্র মামলা ৩৬টি, মাদক মামলা ২০৮টি, ধর্ষণ ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে ৩১টি, ফরেনার্স অ্যাক্টে ৩৭টি, অপহরণ মামলা ১৫টি, বিশেষ ক্ষমতা আইনে ২১টি, পুলিশের ওপর হামলায় ১টি, ডাকাতি ও ডাকাতি চেষ্টার অভিযোগে ৯টি, মানবপাচার মামলা ২৪টি ও অন্যান্য অভিযোগে ৪৬টি মামলা হয়েছে।

ইউএনএইচসিআরের এই সাবেক বাংলাদেশ প্রতিনিধি এম গোলাম আব্বাস বলেন, শরণার্থী হলেও অপরাধ করে রোহিঙ্গাদের পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন জানান, রোহিঙ্গা শিবিরের অনেক স্থানে আলোর অভাব এবং গাড়ি চলাচলের উপযুক্ত সড়ক না থাকায় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা খুবই চ্যালেঞ্জের।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সুরাহা না হলে রোহিঙ্গা শিবিরে অস্থিরতা আরও বাড়ার শঙ্কা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর।