তাজিয়া মিছিলে মানুষের ঢল

১১:০৭ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- আজ ১০ মহররম, পবিত্র আশুরা। যথাযোগ্য মর্যাদায় ও কর্মসূচিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পবিত্র আশুরা পালিত হচ্ছে।

ধর্মীয় তাৎপর্যপূর্ণ ও শোকাবহ আশুরা উপলক্ষে পুরনো ঢাকার হোসেনী দালানের সামনে থেকে শুরু হয়েছে শিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তাজিয়া মিছিল বের হয়।

কালো-লাল-সবুজের নিশান উড়িয়ে, কারবালার শোকের মাতম উঠেছে হাজার হাজার মানুষের মিছিলে। বুক চাপড়ে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতম ধ্বনি তুলে এগিয়ে যাচ্ছে মিছিল, সবার পা খালি। মিছিলে রয়েছে ‘বৈল দল (ঘণ্টা পড়া তরুণ)’। কেউ বা এগোচ্ছে নওহা (শোকগীতি) পড়তে পড়তে।

এর আগে, তাজিয়া মিছিলে অংশ নিতে সকাল থেকেই হোসেনি দালান এলাকায় জড়ো হতে থাকেন ধর্মপ্রাণ শিয়া মুসলিমরা। তারা জানান, সকাল ১০টার দিকে শুরু হয়ে তাজিয়া মিছিল রাজধানীর জিগাতলা হয়ে ধানমন্ডি লেক এলাকায় শেষ হবে। তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার কিছুটা ভিন্ন হবে তাজিয়া মিছিল।

আয়োজকদের একজন আলামিন হোসেন বলেন, অন্যান্য বছর মিছিলে পাইকরা অংশ নিত। দিনটি উপলক্ষে তারা শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি করত। দিনটির শোকার্ততা স্মরণ করে নিজেদের নিজেরাই আঘাত করে জর্জজরিত করত। কিন্তু এবার সেটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সেই সঙ্গে এবার পাঞ্জাও করা যাবে না। যেটি মিছিলের একটা মূল উপাদান ছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, তাজিয়া মিছিল উপলক্ষে নিরাপত্তার স্বার্থে মিছিলে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে তল্লাশি করে তবেই ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। সে কারণে অনেকেরই ভেতরে ঢুকতে দেরি হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

উল্লেখ্য, আজ ১০ মহররম। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার যুদ্ধে ৬১ হিজরি সনের এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হুসাইন (রা.) কারবালা প্রান্তরে পরিবারের সদস্য ও সঙ্গীসহ শাহাদাত বরণ করেন। আরবিতে আশুরা অর্থ ১০। শোকের এ দিনটি তাই ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে আশুরা নামে পরিচিত।

শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলমানরা বিশেষভাবে পালন করলেও সব মুসলমানের কাছেই এ দিনটি গুরুত্বপূর্ণ। আর ঢাকায় হোসেনী দালান ঘিরে শিয়াদের তাজিয়া মিছিলের ঐতিহ্য কয়েকশ’ বছরের।