হঠাৎ কী হলো মিন্নির?

২:১২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর, বরগুনা- কিছুদিন আগে জামিনে মুক্ত হয়েছেন বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও আসামি তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। তিনি এখন বরগুনা পৌরসভার মাইঠা এলাকার বাবার বাড়িতে বাবা মোজ্জাম্মেল হোসেন কিশোরের জিম্মায় রয়েছেন।

পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন ও দীর্ঘদিন কারাভোগের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। স্বামীর নৃশংস খুন নিজ চোখে দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ঘুমের মধ্যে কেঁদে ওঠেন মিন্নি। চিৎকার করে ওঠেন নিজের অজান্তেই।

তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মিন্নির উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। তিনি ভীষণ অসুস্থ। কিন্তু মামলার পরবর্তী তারিখ কাছাকাছি থাকায় তাকে ভালো কোনো হাসপাতালে ভর্তি করা যাচ্ছে না। বাড়িতেই চিকিৎসা চলছে তার।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, মিন্নির দুই হাঁটুতে কালো দাগ রয়েছে। হাঁটুর ব্যথায় হাঁটতে পারে না সে। সদা চঞ্চল ও সদালাপী মিন্নি এখন কারও সঙ্গে কথা বলে না। কিছুই খেতে চায় না। সবসময় নিজের ঘরের মধ্যে চুপচাপ থাকে সে। কখনও কখনও কাঁদে।

মিন্নির বাবা আরও বলেন, মিন্নি এখন যে ঘরে থাকে, সেই ঘরে রিফাতের সঙ্গে তার অনেক স্মৃতি রয়েছে। সেসব স্মৃতি মিন্নিকে আপ্লুত করে। ঘুমের মধ্যেও কেঁদে ওঠে, চিৎকার করে সে।

মিন্নির চাচা মো. আবু সালেহ বলেন, মিন্নির খাওয়া নেই, ঘুম নেই। উদাসীনভাবে একেক সময় একেক দিকে তাকিয়ে থাকে মিন্নি। তার সঙ্গে আমি কথা বলেছি। তার পেটে এবং বুকে ব্যথা। আমরা মিন্নিকে নিয়ে চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন।

এ বিষয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. সোহবার উদ্দীন বলেন, মিন্নির মানসিকভাবে ভেঙে পড়াটা স্বাভাবিক। তার স্বল্প বয়সের জীবনে যা ঘটেছে, গণমাধ্যমে তা দেখে আমরাই ঘাবড়ে গেছি। তার সুন্দর জীবন লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে একটা ঘটনা। যা থেকে ঘটে গেছে আরও অনেক ঘটনা। এসব ঘটনা যখন তার মনে পড়ে, সেসব দৃশ্য যখন তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে তখন তার স্বাভাবিক থাকার কথা নয়। এসব কারণে মূলত মিন্নি উদাসীন, বিষণ্ন ও স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছে।

মিন্নির অসুস্থতার বিষয়ে জানতে তার আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, মিন্নির অসুস্থতার বিষয়টি আমি জানি। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্নার সঙ্গে কথা বলেছি আমি। মিন্নির চিকিৎসার জন্য আমি মিন্নির বাবাকে পারামর্শ দিয়েছি। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর রিফাত হত্যা মামলার ধার্য তারিখ রয়েছে। তার আগেই মিন্নিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় কিংবা অন্যত্র নেয়া যাবে। কারণ ধার্য তারিখে মিন্নিকে আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে।

বরগুনায় চাঞ্চল্যকর রিফাত শাহনেওয়াজ শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার তার স্ত্রী ও মামলার প্রধান সাক্ষী মিন্নি গ্রেফতারের এক মাস ১৮ দিন পর হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে মঙ্গলবার বরগুনা জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান।

মিন্নির মা জিনাত জাহান মনি মেয়েকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেখানে উপস্থিত লোকজন ‘জেলখানায় কেমন ছিলেন’ জানতে চাইলে মিন্নি দ্রুত ঘরে ঢুকে যান। পরে মিন্নির বাবা আগত সবাইকে মিষ্টিমুখ করান।

গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলা ও বাবার জিম্মায় থাকার শর্তে জামিন পেয়েছেন মিন্নি। জেলখানা থেকে বেরিয়ে আসার সময় মিন্নিকে সেই শর্তের কথা মনে করিয়ে দেন তার আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম। এর পর থেকে চুপ হয়ে যান মিন্নি। বাসায় ফিরে বাবা-মা ছাড়া কারও সঙ্গেই কথা বলছেন না তিনি।