শাহজাদপুরে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিলো অবহেলিত গ্রামবাসী

১০:৫২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ রাজশাহী
Sirajgonj

রাজিব আহমেদ, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার চির অবহেলিত এক গ্রামের নাম চর কাদাই। জনসংখ্যা ও ভৌগলিক দিকে থেকেও উপজেলার অন্যতম বৃহত্তম গ্রাম এটি। গ্রামের উত্তরাংশ থেকে দক্ষিণ পূর্বাংশ পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ কিলোমিটার। চরকাদাই গ্রামটির সিংহভাগ বেলতৈল ইউনিয়ন আর কিছু অংশ পোরজনা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই গ্রামের প্রায় ১৬ হাজার মানুষ বসবাস করেন।

এই গ্রামে ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,১টি কিন্ডারগার্টেন একটি হাট ও বাজার, একটি দুগ্ধ সমবায় সমিতি, ২টি হাফেজিয়া মাদ্রাসা আর ৫টি বড় মসজিদ রয়েছে। বিল আর নদীবেষ্টিত চর কাদাই গ্রামের নামের সঙ্গে আদর্শ এলাকার তকমা লেগেছে ২ যুগ আগে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। নাগরিকরা ও মৌলিক সেবাবঞ্চিত চরকাদাই গ্রামের মানুষ। আধুনিকতার ছোঁয়া ও নগরায়ণের যুগেও যোগাযোগের জন্য কাচা-পাকা ভাল সড়ক নেই এই গ্রামে। ফলে পায়ে হেটেই গ্রামের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত যেতে হয় মানুষকে।

কাদাইবাদলা বাজার থেকে চর কাদাইপূর্বপাড়া বরফ মিল পর্যন্ত দীর্ঘপথ পায়ে হেটে যেতে হচ্ছে। বর্ষার সময় মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা নৌকা। বছরের পর বছর ধরে গ্রামের একপাশ বেয়ে ক্যানেলের মত একটি কাচা সড়ক চলে গেলেও সামান্য বৃষ্টিতেই তা ডুবে যায়। ফলে মানুষের বাড়ীর উপর দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এমন সড়ক যেখানে বাই সাইকেল ও রিকশাও চলতে পারে না। ভারি মালামাল নিয়ে চলাচল কঠিন হয়ে পরে। যেন জনদূর্ভোগের শেষ নেই। তবুও এলাকার নামের সঙ্গে আদর্শ তকমা নিয়ে বেরাইদের জনপ্রতিনিধিদের তুষ্টির অন্ত নেই। সম্প্রতি গ্রামের সিংহভাগ বিদ্যুতের আলো পৌছলেও যোগাযোগের সড়ক না থাকায় আলোর নীচে অন্ধকার থেকে যাচ্ছে।

এছাড়াও এ গ্রামের স্বাস্থ্যসেবা অত্যন্ত করুণ। জরুরী ভিত্তি মুমুর্ষ রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে মাঝ পথেই প্রাণ হারিয়েছে অনেকেই। ফলে প্রাকৃতিক বৈরি আবহাওয়ার সাথে যুদ্ধ করে অনেকটা প্রকৃতির উপর নির্ভর করে বেঁচে আছেন এই গ্রামের বাসিন্দারা। সরেজমিনে গিয়ে গত মঙ্গলবার দেখা যায়, শাহজাদপুর উপজেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চরকাদাই গ্রামটি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ্য ৫ কিলোমিটার কাচা সড়ক স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে শতাধিক কিশোর,যুবক, বৃদ্ধ সংস্কার করছেন। কারো হাতে টুপরি ,কোদাল, কেউ দাঁড়িয়ে উৎসাহ যোগাচ্ছেন। শ্রমিকের সামনের সাঁরিতে উপ-সহকারি প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।

কথা হলো তার সঙ্গে জানালেন, তিনিই স্বেচ্ছাশ্রমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ্য সড়ক সংস্কারের উদ্যোক্তা।  স্বাধীনতার পর থেকেই চির অবহেলিত গ্রামটির ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন, মেম্বর,চেয়ারম্যান, এম,পি সবাই। ভোটের সময় ভোট কাছে গেলে ফোট। ওই গ্রামের মাঝখানেই তার বাড়ী। অনূন্যত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কয়েক বছর আগে অসুস্থ্য বাবাকে চিকিৎসা দিতে না পেরে পথেই মৃত্যু হয়েছে । সে কষ্ট এখনও বয়ে বেড়ান তিনি, তাই ঢাকায় বসবাস করলেও গ্রামের মানুষকে সাথে নিয়ে পাকা সড়ক না হলেও একটি মজবুত কাচা সড়ক নির্মাণের প্রচেষ্টা করছেন তিনি। তার বিশ্বাস এবার এগিয়ে আসবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে, বেলতৈল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফেরদৌস হোসেন ফুল বলেন, গ্রামটি সত্যিই অবহেলিত। এবং পাকা সড়ক তৈরী করা জরুরী। কাচা সড়কের ক্ষতিগ্রস্থ্য অংশ মাঝে মধ্যে ইউপি সদস্যের মাধ্যমে মাটি ফেলে দেয়া হয়।

অপরাংশের পোরজনা ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, চর কাদাই ২নং ওয়ার্ড আমার ইউনিয়নের আওতায়। বড় সড়ক তৈরী আমাদের বাজেট নেই তবুও কর্মসূচীর কিছু প্রকল্প দিয়ে প্রতিবছর কিছুটা মাটি ভরাট করা হয়। যাতায়াতে যাতে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমে সে জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।