গাজীপুরে র‌্যাবের হাতে আলোচিত নুরু হত্যায় জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের ৬জন গ্রেপ্তার

১১:৩১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ ঢাকা
Gazipur

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর: গাজীপুর রাজ দিঘীরপাড়ে কিশোর গ্যাং দ্বন্দ্বের জেরে নুরুল ইসলাম ওরফে নুরু (১৬)খুনের ঘটনায় জড়িত মূল হোতাসহ ৬জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১।

বুধবার (১১ ‍সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত সাড়ে ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর রাত সোয়া ৩টা পর্যন্ত র‌্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে ‘ভাই-ব্রাদার্স’ গ্যাংয়ের মূল হোতাসহ তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার হওয়া কিশোররা হলো- কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর থানার সুরাটি এলাকার বাদল মিয়ার সন্তান ও ‘ভাই-ব্রাদার্স’ কিশোর গ্যাং এর লিডার রাসেল মিয়া (১৮), গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নতুনপটকা এলাকার মনু মিয়ার সন্তান সৌরভ (২১), কালীগঞ্জ উপজেলার বনগ্রাম এলাকার মহসিন শিকদারের সন্তান জোবায়ের (১৭), সিরাজগঞ্জের শাহাজাতপুর থানার জুগনিদাই এলাকার শামীম হোসেনের সন্তান আশরাফুল ইসলাম (১৭), জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থানার ডালবাড়ী এলাকার খায়রুল শেখের সন্তান আমির হামজা (১৯) ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জামতলা এলাকার আব্দুল ওয়াদুদ পাটোয়ারীর সন্তান সুজন পাটোয়ারি (১৭)।

র‌্যাব জানায়, বুধবার দিনগত রাত সাড়ে ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর রাত সোয়া ৩টা পর্যন্ত র‌্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল অভিযান চালায়। আসামিদের ধরতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্নস্থানে অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ‘ভাই-ব্রাদার্স’ গ্রুপের লিডার রাসেল মিয়াসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দু’টি চাপাতি ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া তাদের কাছে থাকা পাঁচটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৮ হাজার কুড়ি টাকা জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানায় র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার দিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের রাজদীঘির পাড় এলাকায় ‘ভাই-ব্রাদার্স’ ও ‘দীঘিরপাড়’ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই দুই কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্ব। সংঘর্ষে ‘দীঘিরপাড়’ গ্রুপের সদস্য নুরুল ইসলাম ওরফে নুরু (১৬) নামে এক কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা করে ‘ভাই-ব্রাদার্স’এর সদস্যরা।

এ ঘটনায় নিহতের পিতা মো. ফকির আলমগীর বাদী হয়ে গাজীপুর সদর থানায় মামলা করেন। নিহতের পিতা ফকির আলী পাখি বিক্রেতা ও মাতা গৃহিনী। নুরুল ইসলাম ফেরি করে চা বিক্রি করত।

র‌্যাব আরো জানায়, ঘটনার দু’দিন আগে নুরুল ইসলামের ‘দীঘিরপাড়’ গ্রুপের ৬-৭ জন সদস্য স্থানীয় বালুরমাঠ এলাকায় আড্ডা দিচ্ছিল। সে সময় ‘তুই’ বলা’কে কেন্দ্র করে ‘ভাই-ব্রাদার্স’ গ্রুপের রাসেলের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। জুনিয়র গ্রুপের কাছে লাঞ্চিত হওয়ায় রাসেলের ‘ভাই-ব্রাদার্স’ গ্রুপের সদস্যরা প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।

 জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা জানিয়েছে, তাদের গ্রুপের অধিকাংশ সদস্যই স্থানীয় বিভিন্ন স্কুলে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন আছে যারা পড়ালেখা করে না। একই এলাকায় বসবাসের সূত্রে এসব কিশোর গ্যাং গঠিত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শুধু স্কুল পর্যায়ে ছোট দল করে ঘুরে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে গঠিত হলেও, সময়ের সাথে তারা এলাকা ভিত্তিক গ্যাংয়ে পরিণত হয়। এরপর তারা ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে চেষ্টা করে। পাশাপাশি চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন বেআইনি কাজের সাথে জড়িত হয়। আধিপত্য বিস্তারে সুবিধার জন্য তারা স্থানীয়ভাবে বিশেষ প্রভাব আছে এমন কিশোরদেরও দলে নেয়। তাদের অধিকাংশই পড়াশোনার মাঝ পথে ঝরে পড়েছে।