• আজ ৩রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নবীগঞ্জে ওসি-এসআইকে কোপানোর ঘটনায় সন্ত্রাসী মুসার মা ও ৩ বোন শ্রীঘরে

১:২১ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯ সিলেট
Habigonj

মতিউর মুন্না, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: নবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) ও এসআইকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি শাহ সোহান আহমেদ মুসার মা এবং ৩ বোনকে আটক করেছে পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধায় ঘটনার সময় ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু মুসাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মুসার মা শামছুন্নাহার (৫০), বোন মৌসুমী আক্তার (২৬), শাম্মী আক্তার (২২) ও তন্নী আক্তার (১৯)। এ সময় মুসার বাড়ি থেকে একটি প্রাইভেটকার ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

শুক্রবার দুপুরে হামরার ঘটনায় এসআই ফিরোজ বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ৭-৮ জনকে আসামি করে পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা দায়ের করেন। মামলাটি রেকর্ড হওয়ার পর মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করা হয় এসআই সামছুল ইসলামকে। এর আগে শুক্রবার সকালে সন্ত্রাসী মুসার গ্রেফতার পূর্বক শাস্তির দাবীতে নবীগঞ্জ-আউশকান্দি সড়কের সিএনজি স্ট্যান্ড এর শ্রমিকদের ব্যানারে নবীগঞ্জ শহরের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তারা মুসা কর্তৃক সিএনজি শ্রমিক ফজলুর উপর সন্ত্রাসী হামলাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

নবীগঞ্জ ওসি মো. ইকবাল হোসেন জানান, দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় জড়িত থাকায় বৃহস্পতিবার রাতেই তাদেরকে আটকের পর রাতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী মুছাকে গ্রেফতারে রাতভর চিরুনী অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। মুসাকে ধরতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। তিনি আরো জানান, সন্ত্রাসী মুসার আক্রমণে পুলিশের দুই কর্মকর্তা আহত হওয়ার ঘটনা জানতে পেরে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্যা গত বৃহস্পতিবার রাতে নবীগঞ্জে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আহত এসআই ফখরুজ্জামানের অবস্থা উন্নতি হলেও এখনো ওসি (তদন্ত) উত্তম কুমার দাশ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তারও অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মুসাকে ধরতে শহরের সালামতপুর এলাকায় ব্র্যাক অফিসের কাছে তার দোকানে যান নবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) উত্তম কুমার ও এসআই ফখরুজ্জামান। তখন মুসা দোকান থেকে বেরিয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান।