সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জাতির পিতার নামে শপথ করেও রক্ষা করেননি শোভন-রাব্বানী

৩:৩১ অপরাহ্ণ | শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯ আলোচিত

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের কাছে চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগের পর এবার দলের ‘আদর্শের কসম’ খেয়েও তা রক্ষা না করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে।

ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৩১ মার্চ ডাকসু নির্বাচনের আগে ছাত্রলীগের শীর্ষ চার নেতা নির্বাচনের কৌশল ঠিক করতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) অডিটরিয়ামে সভা ডাকেন। বেশি রাত হওয়ায় ছাত্রী হলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ছাড়াই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক রাব্বানী হল সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের হল সংসদের প্যানেলে না রাখার জন্য নিজেদের ভুল স্বীকার করেন। পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যোগ্যতা অনুযায়ী সবাইকে মূল্যায়ন করার প্রতিশ্রুতি দেন।

ছাত্রলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সৈয়দ আরিফ হোসেন বলেন, বুয়েট অডিটরিয়ামে বঙ্গবন্ধুর নামে শপথ করে রাব্বানী বলেছিলেন- নির্বাচনের পরে ১৫ দিনের মধ্যে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হবে। কিন্তু কমিটি গঠন করা হলো ১৩ মে। হল সংসদের প্যানেলে না রাখায় তারা অনুতপ্ত হন। আবার মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে বলেন। পাশপাশি পরোক্ষভাবে হুমকি দিয়ে বলা হয়, প্যানেল হারলে সব দায়ভার হল সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের। আমরা তো আদর্শ, দেশরত্ন শেখ হাসিনার কথার প্রতি অবিচল। সবাই কাজও করেছে। কিন্তু কমিটি ঘোষণার সময় অনেক পরিশ্রমীকে কমিটিতে রাখা হলো না, অনেককে উপ-সম্পাদক দেওয়া হলো যারা আমার সমবয়সী। এভাবে লজ্জ্বা দেওয়া হলো। তাহলে জাতির পিতার নামে শপথ করে এই ওয়াদা কেন দিলেন?’

ছাত্রলীগের ঘোষিত কমিটিতে দেখা গেছে, ১৮ টি হলের ৩৬ জন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে ১৫ জনকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। আবার যাদের রাখা হয়েছে তাদের মধ্যে প্রায় পাঁচ জনকে উপ-সম্পাদক করা হয়েছে। বাদ পড়াদের অনেকে অপমানে রাজনীতি ছেড়েছেন, আবার অনেকে পদবঞ্চিতদের ব্যানারে আন্দোলন করে সক্রিয় থেকেছেন।

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ না পাওয়া কবি জসীম উদ্‌দীন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান বলেন, সেদিনের সভায় সভাপতি- সাধারণ সম্পাদক সবাইকে সাক্ষী রেখে দৃঢ়ভাবে বলেছিলেন, হলের সভাপতি-সাধরণ সম্পাদককে প্যানেলে (হল সংসদ) যে মনোনয়ন দেয় নাই তা চরম ভুল ছিল।

‘তারা বলেন, জাতির পিতার নামে শপথ করে বলছি- পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে প্রত্যেককে পদ দেওয়া হবে। প্রত্যেককে বলা মানে হলো- একজনকেও বাদ দেওয়া হবে না।’

অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখার সভাপতি থাকলেও কেন্দ্রীয় কমিটিতে উপ-ছাত্রবৃত্তি সম্পাদকের পদ পেয়েছেন ইউসূফ উল্লাহ খান। জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেদিনের বৈঠক ছিল ইলেকশন পার পাওয়ার টেকনিক মাত্র। দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের আদর্শ ধারণ করে কাজ করলেও আক্ষেপ হতাশা নিয়ে বিদায় নিতে হচ্ছে প্রিয় সংগঠন থেকে।