• আজ ৩রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

অধ্যাপিকার সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ধরা খেলেন অধ্যক্ষ

৭:২৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯ দেশের খবর, রংপুর

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের ক্যাপ্টেন সামসুল হুদা মৃধা সড়কের (বিমানবন্দর সড়ক) শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ পরিষদের কার্যালয়ে সাখাওয়াত হোসেন খোকন নামে এক অধ্যক্ষ তার কলেজের অধ্যাপিকার সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ধরা পড়ে গণধোলাই খেয়েছেন। গতকাল রোববার বিকেল পাঁচটার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

ওই অধ্যাপক হলেন সম্প্রতি সরকারি হওয়া সৈয়দপুর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও আওয়ামী লীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন খোকন এবং তারই কলেজের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপিকা সুলতানা নওরোজ।

ঘটনার পর পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তাদের আটক ও গণধোলাইয়ের খবর মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

এদিকে জনতার হাতে আটক অধ্যক্ষকে বহিষ্কারের দাবিতে আজ সোমবার সৈয়দপুর সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে এবং অধ্যক্ষের কক্ষের তালা খোলায় বাধা দিয়েছে। এসময় বিক্ষোভে কলেজজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রেক্ষিতে কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের আইসিটি বিষয়ের প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

খবর পেয়ে সৈয়দপুর সরকারী কলেজের সভাপতি ও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম গোলাম কিবরিয়া, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার সরকার ও সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজাহান পাশা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী তদন্তপূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

এসময় কলেজ সভাপতি এস এম গোলাম কিবরিয়া আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। এজন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, সৈয়দপুর থানার তদন্ত অফিসার আবুল হাসনাত ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেহেনা ইয়াসমিন। তার এ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন স্থগিত করেছে।

এলাকাবাসীর বর্ণনায় জানা যায়, স্মৃতিস্তম্ভ পরিষদের অফিসটি প্রায় সময়ই বন্ধ অবস্থায় থাকে। মাঝে মাঝে পরিষদের সদস্যরা সন্ধা রাতে আসেন। কিন্তু খোকন স্যার স্মৃতিস্তম্ভ পরিষদের আহ্বায়ক হওয়ায় অফিস খোলা অবস্থায় নিয়মিত আসেন এই অফিসে। কিন্তু তার বাইরেও তিনি তার কারে করে ওই অধাপিকাকে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভ পরিষদের কার্যালয়ে প্রায়ই নির্জন দুপুর বেলায় আসতেন। এসে তালাবদ্ধ অফিস ঘরটি নিজেই খুলে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়ে অনেক সময় ধরে অবস্থান করতেন। বিষয়টি এলাকাবাসীর মধ্যে বেশ কিছুদিন থেকেই গুঞ্জনের সৃষ্টি করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববার দুপুরেও খোকন তার সহকর্মীকে নিয়ে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ পরিষদের কার্যালয়ের সামনে আসেন। তাদের আসার প্রায় এক ঘণ্টা পর কয়েকজন স্থানীয় যুবক বিষয়টি দেখার জন্য অফিসের জানালা দিয়ে উঁকি মারেন। এ সময় দুইজনকে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে দেখতে পান তারা।

এদের মধ্যে দুই যুবক মোবাইল ফোনে তাদের অন্তরঙ্গ অবস্থার দৃশ্যও ধারণ করেন। একপর্যায়ে যুবকরা অফিসের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন। ততক্ষণে লোকজনের ভিড় জমে যায় অফিস চত্বরে। এরপর অধ্যক্ষকে লোকজন গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আল মামুন সরকার ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

এ সময় অধ্যক্ষ কাউন্সিলরের কাছে অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ায় কাউন্সিলর উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে আটক দুইজনকে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। যা আজ সৈয়দপুর শহরের আলোচিত বিষয় হিসেবে সর্বত্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহজাহান পাশা জানান, অধ্যক্ষ ও অধ্যাপিকার অনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলের কারণে কলেজ চত্বরে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে কলেজে উপস্থিত হয়ে পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।