• আজ ৩রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

যে ৩ দাবি না মানলে ফিরবে না রোহিঙ্গারা

১০:৫১ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯ আন্তর্জাতিক
ROHINGA

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মিয়ানমারের নাগরিকত্ব, বসতভিটা ফেরত ও চলাফেরার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে রাখাইনে ফিরে না যাওয়ার কথা চীনা প্রতিনিধিদলকে জানিয়েছেন টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা।

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টেকনাফের ২৬ নম্বর শরণার্থী ক্যাম্প ইনচার্জের (সিআইসি) কার্যালয়ে রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে বৈঠককালে ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিংসহ প্রতিনিধি দলকে এসব কথা জানান রোহিঙ্গারা।

মিয়ানমারে ফিরে যেতে কি সমস্যা এমন প্রশ্নের জবাবে রোহিঙ্গারা বলেন, মিয়ানমারে এখনো শান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। সেদেশে বিবাদমান গ্রুপের মধ্যে সংঘাত লেগে আছে। এখনো যেসব রোহিঙ্গা সে দেশে রয়েছে তাদের ওপর নির্যাতন চলছে। তা ছাড়া গত ২০১২ সালে আকিয়াবে এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে কয়েক মাসের জন্য একটি জায়গায় জড়ো করে রাখলেও এখনো পর্যন্ত একই অবস্থায় রয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে মিয়ানমার যাব।

এ বিষয়ে কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতা বলেন, আমাদের তিনটি দাবি পূরণ করলে কালকেই স্বইচছায় নিজ দেশে চলে যাব। দাবিগুলোর মধ্যে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, কেড়ে নেওয়া জমি ফেরত ও নিরাপত্তা নিশ্চিয়তা করন।

এদিকে মতামত শেষে শালবন শিবিরের অশ্রিত রোহিঙ্গাদের তিনটি বাসায় যান লি জিমিং। তাদের বাসা দেখেন, পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং কিছু স্কুল ব্যাগ ও ফুটবল তুলে দেন।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত), নয়াপাড়া শরণার্থী রোহিঙ্গা শিবিরের ইনচার্জ (সিআইসি) আব্দুল হান্নান, জাদিমুরা ও শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরের ইনচার্জ মোহাম্মদ খালিদ হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য ২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন শুরু করে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাসহ উখিয়া-টেকনাফের ৩২টি শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী এই সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭ জন। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।