সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে ১ দিনে লাখো গাছ রোপণ

১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯ প্রজন্মের ভাবনা
BRIKKHO

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ নিজেদের এক দিনের টিফিনের টাকায় ১ লাখ ৫ হাজার গাছ রোপণ করেছেন রাজশাহীর বাঘা ও চারঘাট উপজেলার শিক্ষার্থীরা। ‘বিশ্ব ওজোন দিবস’ উপলক্ষে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। সোমবার সকালে চারঘাট পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ও বাঘা মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আলাদা দুটি অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা একযোগে গাছগুলো রোপণ করে।

২০১৫ সাল থেকে বাঘার উদ্যমী তরুণ জুবায়ের আল মাহমুদ ‘এক দিনের টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে গাছ রোপণ’ আন্দোলন শুরু করেন। গত চার বছরে এই আন্দোলনে সারা দেশের ৭৫০টি স্কুলের লাখো শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীর বাঘা-চারঘাট, পাবনার ঈশ্বরদী, নাটোরের বড়াইগ্রাম, সিলেটের বিয়ানীবাজার এবং খুলনার দিঘলীয়া উপজেলার শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। ২০১৫ থেকে ২০১৯—এই পাঁচ বছরে সাড়ে তিন লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জুবায়ের আল মাহমুদ জানান, আগামী ২ অক্টোবর পাবনার ঈশ্বরদী এবং নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার শিক্ষার্থীরা একযোগে আরও ১ লাখ গাছ রোপণ করবে। এ ছাড়া সিলেটের বিয়ানীবাজার ও খুলনার দিঘলীয়া উপজেলায় বৃক্ষরোপণ চলছে।

জুবায়ের বলেন, প্রতিবছর বিচ্ছিন্নভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হলেও এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্ব ওজোন দিবস উপলক্ষে বাঘা-চারঘাটের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে এত গাছ রোপণ করল। অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য শিক্ষার্থীদের এই লাখো গাছ রোপণের ঘটনা বিশ্বে বিরল। তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশের পাঁচ কোটি শিক্ষার্থীকে নিয়ে যদি বছরের নির্দিষ্ট একটি দিনে বৃক্ষরোপণ করা যায়, তাহলে খুব সহজে বাংলাদেশ সবুজ হবে। এই আন্দোলন যদি জাতিসংঘের উদ্যোগে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে খুব সহজে সারা পৃথিবী বিশাল এক অরণ্যে পরিণত হবে।’ জাতীয়ভাবে বৃক্ষরোপণের জন্য ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ দিবস’ ঘোষণা করে বাংলাদেশের সব শিক্ষার্থীকে নিয়ে বৃক্ষরোপণের দাবিও জানান তিনি।

চারঘাটের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন। বাঘার বৃক্ষরোপণ উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঘা উপজেলা চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন। এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা।