• আজ ৩রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আটক করে মুসলিম নারীদের বন্ধ্যা করে দিচ্ছে চীন সরকার!

৩:০২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- চীনে মুসলিম নারীদের জোরপূর্বক ইনজেকশনের মাধ্যমে বন্ধ্যা করে দেওয়া হচ্ছে। দেশটির বন্দি শিবিরে উইঘুর মুসলমান নারীদেরকে এমনটা করা হচ্ছে। বন্দিশিবিরে একসময় থাকা নারীদের বরাত দিয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও জাপানের নিক্কেই এশিয়ান রিভিউ।

গুলবাহার জলিলভা নামে একজন যিনি এক বছরের বেশি সময় ধরে চীনের পশ্চিম জিনজিয়াং অঞ্চলে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নামে এই আটক রাখার ক্যাম্পগুলোতে বন্দি ছিলেন। তিনি বলেন, আমাদের শরীরে প্রায়ই ইনজেকশন পুশ করত তারা।

গুলবাহার বলেন, দরজার একটি ছোট্ট ফাঁক দিয়ে আমাদের হাত বাইরে বের করে দিতে হয়েছে। ইনজেকশন দেয়ার পর শীঘ্রই বুঝতে পারলাম যে আমাদের পিরিয়ড বন্ধ হয়ে গেছে।

আটক হওয়ার পর অধিকাংশ সময় ১০ থেকে ২০ ফুটের একটি ছোট্ট ঘরে অর্ধশতাধিক নারীর সঙ্গে কাটাতে হয়েছে ৫০ বছর বয়সী এই নারীকে। এতে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে তাদের দিন যাপন করতে হয়েছে।

জাপানের টোকিওতে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একটি অনুষ্ঠানে ভিডিও কলে ৩০ বছর বয়সী এক যুবতীও এই তথ্য দিয়েছেন।

মেহেরগুল তুরসুন নামের ওই উইঘুর নারী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। ২০১৭ সালে তিনি যখন ক্যাম্পে অন্তরীণ ছিলেন, তখন তাকে অজ্ঞাত ওষুধ ও ইনজেকশন দেয়া হয়েছে।

মেহেরগুল বলেন, আমি সপ্তাহখানেক ধরে ক্লান্ত বোধ করেছি। স্মৃতি হারিয়ে ফেলেছি এবং বিষণ্ণ হয়ে পড়েছিলাম। মানসিক রোগী হিসেবে শনাক্ত হলে চার মাস পর আমাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি বন্ধ্যা হয়ে গেছেন।

ক্যাম্পগুলোতে ১০ লাখের মতো উইঘুর, কাজাখ ও অন্যান্য সংখ্যালঘুকে জোরপূর্বক আটক রেখেছে চীন বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে।

গবেষকদের দাবি, এসব স্থাপনা যুদ্ধকালীন বন্দীশিবিরের মতো। সাংস্কৃতিক গণহত্যা ও সামাজিক পরিবর্তনের জন্য পরিকল্পিত অভিযানের অংশ হিসেবে ডিটেনশন ক্যাম্পে লোকজনকে আটকে রাখা হয়েছে।

এসব ক্যাম্পকে বোর্ডিং স্কুল হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে চীন সরকার। যেখানে আটকদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। আর নির্যাতনের খবরকে ভুয়া বলে উল্লেখ করছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি।