সংবাদ শিরোনাম
নরসিংদীতে প্রথমবারের মতো সর্বাধুনিক কার ওয়াশ ও সার্ভিসিং সেন্টার উদ্বোধন | রাজধানীতে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে ‘ফইন্নি গ্রুপের’ ৬ সদস্য আটক | এবার চমেক চিকিৎসকদের জন্য ‘নোবেল’ চাইলেন মেয়র নাছির | তানোরে অবৈধ এসটিসি ব্যাংক সিলগালা | ফাঁড়িতে আসামির মৃত্যু: পুলিশ-এলাকাবাসীর সংঘর্ষে আহত ৩৩, পাঁচ পুলিশ প্রত্যাহার | লালমনিরহাটে সহকারী পরিচালকের বেত্রাঘাতে স্কুলছাত্রী অজ্ঞান | সাগরে মৎস আহরণে নিষেধাজ্ঞা, ফিশারিঘাট হারিয়েছে চিরাচরিত রুপ | ‘আবরার পানি খাইতে চাইলে পানি দেওয়া হয় নাই’ | নান্দাইলে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ রাখায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা | মাগরিবের আজানের ২০ মিনিটের মধ্যে ছাত্রীদের হলে ঢোকার নির্দেশ! |
  • আজ ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ইয়াবা সিন্ডিকেটে আবদ্ধ রাজশাহী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধির দাবি

৪:৫২ অপরাহ্ণ | বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯ অপরাধ
yaba

ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ শতাধিক ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রনে রাজশাহীর ইয়াবা সিন্ডিকেট। অপ্রতিরোধ্য এ সিন্ডিকেট অভিনব কৌশলে সরাসরি চট্রগ্রামের টেকনাফ এবং পদ্মা নদী পথে ভারত থেকে ইয়াবা আসছে রাজশাহীতে। আরএমপি এবং জেলা পুলিশ এর সকল থানা এবং বিজিবি কর্তৃক ইয়াবা বিরোধী অভিযানে সফলতা না থাকলেও রাজশাহী র‌্যাপিড এ্যকশান ব্যাটালিয়ন, র‌্যাব-৫ এর ইয়াবা নিয়ন্ত্রন অভিযানে জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুল পরিমান ইয়াবা ও হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ীর আটক করেছে। আসমী আটক করলেও তার পরিমান র‌্যাব-৫ এর চেয়ে অনেক কম।

রাজশাহী থেকে চট্রগ্রামগামী মাইক্রো ও ট্রাক, বাস, ড্রাইভারদের মোটা অংকের অর্থের প্রলোভন দিয়ে তাদেরকে ইয়াবা পাচারে প্রলুব্ধ করছে একটি চক্র। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারী এড়াতে নানা কৌশল করে পদ্মা নদী পথে বড় ইয়াবার চালান নিয়ে আসাছে রাজশাহীতে। ইয়াবা সিন্ডিকেট চক্র জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, বগুড়া জয়পুরহাটে ও শান্তাহারে ইয়াবা বিক্রয় করছে। এক শ্রেনীর অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা এবং কথিত কিছু সাংবাদিকদের সঙ্গে গোপন আতাত থাকার কারণে ইয়াবা গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে এবং প্রতিদিন ইয়াবা আসক্তির সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে মতে, ইয়াবা সিন্ডিকেটের চারঘাট উপজেলার চক-মুক্তারপুরের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে জুয়েল, মৃত হারেজের ছেলে তুহিন, মৃত রহিমুদ্দিনের ছেলে শহিদুল, লাবনের ছেলে লালন, আব্দুর ছাত্তারের ছেলে রবি, সিপাইপাড়ার মুসা এবং মাসুম, ইউসুফপুরের মুত হাসেমের ছেলে ইউসুফ, মৃত আজিমের ছেলে মুসা, আফাজ উদ্দিনের ছেলে ইমন্তা এবং তোফাজলের ছেলে মেজাম্মেল, আপরদিকে টাঙ্গনের আলম, লিটন, হলিদাগাছির সাইফুল, মুন্টু, মনির, চামটার বেনজির, খালেক, আব্দুল আলিম কালু, মোক্তার হোসেন, বাদুরিয়ার লিটন, লালন, ইদ্রিস, গোবিন্দপুরের মোকলেস, তাতারপুরের বাসার, ইউনুস, পুঠিয়া নামাজগ্রামের রাজ্জাক, মাজেদুল, সেলিম, সাহাবুর, দীঘলকান্দির বাবু, জামিরার নাহারুল, জয়পুরের মোস্তাক। এরাসহ প্রায় শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী নিয়ন্ত্রন করছে এই সিন্ডিকেট।

এবিষয়ে শিক্ষক, সমাজসেবী, মাদক বিরোধী কমিটি তথ্য মতে জানাযায়, রাজশাহী জেলার তীরবর্তি থানা এলকার মাদকের প্রবণতা অনেক বেশি। বেশির ভাগ ইয়াবা ভারত থেকে নদী পথে রাজশাহীতে আসছে। জেলার গোদাগাড়ী, মতিহার, কাটাখালি, চারঘাট ও বাঘা থানা এলাকায় সকল প্রকার মাদকের প্রবণতা বেশি। বর্তমানে জেলা ও উপজেলায় ইয়াবা ভয়াবহ বিস্তার ধারণ করেছে। জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গ্রামঞ্চলে যেভাবে ইয়াবার আগ্রাসন হচ্ছে তাতে করে সবাই ভয়াবহ হুমকিরে মধ্যে আছে। অর্থের অভাবে ইয়াবা সেবক এবং ব্যবসায়ীরা চুরী, ডাকাতিসহ মানুষকে খুন করছে। মা, বোন, বউ, মেয়েরা যৌন হয়রানীর শিকার হচ্ছে। ক্রমশয় ধর্ষণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ওই সকল অপরাধ স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ করতে হলে নানাভাবে নাজেহাল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পরিশেষে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ইয়াবাসহ সকল প্রকার মাদক নির্মূলের তৎপরতা জোড়দার করার দাবি জানান।

চারঘাট মডেল থানার ওসি সুমিত কুমার কন্ডু বলেন, এটা নিয়ন্ত্রন করতে আমাদের আরো ফোর্স এবং সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে। ছোট জনবল নিয়ে আগের তুলনায় মাদকবিরোধী অভিযান বৃদ্ধি হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারে কোন উদ্যোগ আছে কি না এমন প্রশ্নে জানতে চাইলে বাঘা থানার ওসি নজরুল ইসলাম এবং গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাদের নিয়মিত গ্রেপ্তারে রয়েছে। একই ভাবে কাটাখালি, বেলপুকুর, মতিহারসহ অন্যান্য থানা তাদের বক্তব্য দিয়েছেন।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সহকারী কমিশনার গোলাম রহুল কুদ্দুস এবং জেলা পুলিশ সহকারী পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম জানান, সকল প্রকার মাদক নিয়ন্ত্রনে প্রত্যেক থানার ওসিদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া মাদক ব্যবসায়ী যে হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে কঠর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। পূর্বের তুলনায় বর্তমান পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তা এবং সদস্যরা ভাল কাজ করছে। এছাড়া থানা পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।