সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শালার চড়ের প্রতিশোধ নিতে ৩ খুন!

৭:১৩ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯ ঢাকা
Sp Harun+Abbass Pic

সৈয়দ সিফাত লিংকন, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: সিদ্ধিরগঞ্জে একটি ফ্ল্যাটে মা ও দুই কন্যা শিশুকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় ঘাতক আব্বাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কয়েকদিন আগে তার শালা হাসান তাকে চড় মেরে আব্বাসের স্ত্রী, সস্তানসহ তার শ্যালিকা নাজমিনের ফ্ল্যাটে চলে আসে। আর তার জের ধরেই ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে আব্বাস এই তিনটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটায়। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাররুন অর রশীদ।

তিনি আরো বলেন, আব্বাস প্রাথমিকভাবে হত্যাকান্ড ঘটানোর কথা স্বীকার করেছেন। সে ইয়াবায় আসক্ত। খুন করার কয়েক ঘন্টা পর আব্বাসকে সিদ্ধিরগঞ্জের পাওয়ার স্টেশনের একটি কমিউনিটি সেন্টারের টেবিলের নিচে পালিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। ঘাতক আব্বাস পটুয়াখালী জেলার পইক্কা গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। সে সিদ্ধিরগঞ্জ বাতেনপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকতো। পেশায় সে একজন বাবুর্চী।  আটক আব্বাস উদ্দিনকে রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হবে এবং তার জবানবন্দি রেকর্ড করার পদক্ষেপ নেয়া হবে।

পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে তিনি আসামিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করতে জেলা আইন শৃংখলা বাহিনীর সব সংস্থাকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খুনিকে দ্রুত গ্রেফতার করার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তিন ঘণ্টার ব্যবধানে আসামিকে গ্রেফতার করে এর বাস্তবায়ন করেছেন। হত্যাকান্ডের ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে প্রচার ও প্রকাশ করায় এজন্য গণমাধ্যমকেও তিনি ধন্যবাদ জানান।

প্রসঙ্গত, ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের সিআইখোলা এলাকার আনোয়ারের বাড়ির ৬তলা ভবনের ৬ তলার সুমন মিয়ার ফ্ল্যাট থেকে গলাকাটা অবস্থায় স্ত্রী নাজমিন (২৮), দুই মেয়ে নুসরাত (৮) ও খাদিজার (২) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় ঘাতক আব্বাসের মেয়ে এবং নিহত নাজমিনের ভাগ্নি সুমাইয়কে (১২) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পর থেকে এই হত্যাকান্ডের হোতা হিসেবে নিহত নাজনিনের দুলাভাই আব্বাসকে সন্দেহ করে আসছিল স্বজন ও পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই  নিহত নাজমিনের ভগ্নিপতি ও আহত সুমাইয়ার বাবা আব্বাস পলাতক  ছিলো।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,  নিহত নাজমিনের স্বামী সুমন সানাড়পাড় এলাকায় জোনাকি পাম্প স্টেশনের চাকরী করে। ডিউটি শেষে সকালে সুমন বাসায় ফিরে দেখে স্ত্রী ও দুই কন্যার লাশ পড়ে আছে। পরে তার ডাক-চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে পুলিশকে খবর দেয়।

নিহতের ছোট ভাই হাসান জানান, আমার বড় বোনের স্বামী আব্বাস প্রায়ই মাদক সেবন করে এসে সকলকে মারধর করতো। ১৮ সেপ্টেম্বর বুধবার রাতে আমার ভাগ্নি আব্বাসের মেয়ে পালিয়ে আমার ছোটবোন নাজমিনের বাড়িতে আসে। তাকে নিতে এসেই সে আমার বোন নাজমিন ও তার দুই মেয়েকে গলাকেটে হত্যা করেছে। এছাড়া তার নিজের মেয়েকেও আহত করে।

এ ঘটনার খবর পেয়ে দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে নিহত নাজমিনের বোনের স্বামী আব্বাস এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। আব্বাসের সাথে তার স্ত্রী ইয়াসমিনের বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জের ধরে আব্বাসের শ্যালিকার বাসায় তার স্ত্রী চলে আসে। সে একটি গার্মেন্টে চাকরি করে। বৃহস্পতিবার সকালে সে কারখানায় চলে যায়। শ্যালিকার সঙ্গে আলাপকালে কোন বিরোধের জের ধরেই শ্যালিকা ও তার দুই মেয়েকে ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যা করে। আর আব্বাস তার প্রতিবন্ধী মেয়েকেও জখম করেছে। আমরা আব্বাসকে ধরতে অভিযান শুরু করি। এর কয়েক ঘন্টা পর আব্বাসকে গ্রেফতার করা হয়।