সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বাবা সৎ, মা তো আপন ছিল: মেয়েকে বাধ্য করতেন দৈহিক সম্পর্কে!

৮:৪১ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯ বরিশাল
Jalakhathi

মোঃ নজরুল ইসলাম,ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠিতে জোড় পূর্বক অনৈতিক কাজে বাধ্য হওয়া ষষ্ঠ শ্রেণির সেই স্কুল ছাত্রী  (১৩) মা হয়েছে। বুধবার সকালে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে সে পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়। হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে ওই ছাত্রী। আপন মা সাহেরা আক্তার কাজল এবং সৎ বাবা কাজী আলম ওই স্কুল ছাত্রীকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করে। এমনকি সৎ বাবা নিজেও জোর পূর্বক বিভিন্ন সময় তার সঙ্গে মেলামেশা করতো। এতে এক পর্যায়ে সে গর্ববতী হয়ে পড়ে বলে ওই ছাত্রী  অভিযোগ করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ মামলা নিয়ে তার মা ও সৎ বাবাকে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে জন্ম দেওয়া সন্তানের পিতৃ পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য নবজাতক এবং সৎ বাবা কাজী আলমের শরীর থেকে নমুনা নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকা সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে , ঝালকাঠি সদর উপজেলার মহদীপুর গ্রামের ইউনুস হাওলাদারের সঙ্গে ১৫ বছর আগে বিয়ে হয় একই এলাকার সাহেরা আক্তার কাজলের। তাদের ঘরে জন্ম নেয় একটি কন্যা সন্তান। পারিবারিক কলোহের জেরে সাহেরা ও ইউনুসের সংসার ভেঙে যায়। তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। একমাত্র কন্যা সন্তান নিয়ে সাহেরা আক্তার কাজল ঝালকাঠি শহরের কাঠপট্টি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় চলে আসেন।

২০১৪ সালে কাজল শহরের কালীবাড়ি সড়কের টেলিভিশন মেকার কাজী আলমকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। কাজলের মেয়ে তাদের সঙ্গেই থাকতো। মেয়েটি যখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে, তখন থেকেই তাকে জোর করে মা ও সৎ বাবা অন্য পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক কাজে বাধ্য করতেন। এমনকি সৎ বাবাও তাকে ধর্ষণ করতো। বর্তমানে ওই মেয়েটি ঝালকাঠি উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী বলে দাবি করেন।

অন্তসত্তা হয়ে পড়লে তার মা ও সৎ বাবা শহরের মৌ-মিতা ক্লিনিকে গর্ভপাত করাতে যায়। সেখান থেকে তাদেরকে পরদিন আসতে বলা হয়। খবর পেয়ে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে পুলিশ কাঠপট্টির বাসা থেকে ওই ছাত্রীকে  উদ্ধার করে ঝালকাঠি থানায় নিয়ে আসে। একইদিন রাতে শহরের বাসায় অভিযান চালিয়ে মা সাহেরা আক্তার কাজল ও সৎ বাবা কাজী আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ওই ছাত্রছাত্রী  অভিযোগ করে, আমাকে জোর করে এ কাজে বাধ্য করা হয়েছে। আমার মা ও সৎ বাবা অন্য পুরুষ ঘরের ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে পাহারা দিতো। আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এ ধরনের কাজ করা হয়েছে। এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হত। আমার সৎ বাবাও প্রায়ই আমার সঙ্গে শারীরিক সর্ম্পক করতেন। সৎ বাবার কারনেই আমি অন্তসত্তা হয়েছি।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স নাজনিন বেগম বলেন, ওই ছাত্রীর প্রসব বেদনা শুরু হলে বুধবার সকালে ঝালকাঠি হাসপাতালে আসে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই জরুরী বিভাগে সে স্বাভাবিকভাবে একটি ছেলে সন্তান প্রসব করে। এরপর তাকে গাইনি ওয়ার্ডে আনা হয়। অপরিণত বয়সে মা হওয়ায় সুমাইয়া কিছুটা অসুস্থ। নবজাতক স্বভাবিক ও সুস্থ রয়েছে।

ঝালকাঠি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু তাহের বলেন, ওই ছাত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমারা মামলা নিয়ে তার মা ও সৎ বাবাকে গ্রেপ্তার করেছি। ছাত্রীর জন্ম দেওয়া সন্তানের পিতৃ পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য নবজাতক এবং সৎ বাবা কাজী আলমের শরীর থেকে নমুনা নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকা সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে।