সংবাদ শিরোনাম
  • আজ ৩০শে আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে বন বিভাগের মিথ্যা মামলার অভিযোগ

৯:৩১ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯ ঢাকা
Siraj Uddin

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর: গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের কড়ইতলী এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে জেলার বন আদালতে মামলা হয়েছে। মামলায় মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিনের পুত্র তানভীর আহম্মেদ ও তার ভগ্নিপতি মানু মোল্লাকেও আসামি করা হয়েছে।

বন বিভাগের ওই মামলায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের তিনজনকে আসামি করায় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ক্ষোভ জানিয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের গাজীপুর ভাওয়াল রেঞ্জের পশ্চিম বিট কর্মকর্তা মো.রেজাউল করিম। গত জুলাই মাসে জেলার বন আদালতে তিনি মামলাটি (১৫১/১৯) দায়ের করেন।

কড়ইতলী এলাকাবাসী জানায়, ওই এলাকায় এক একরের ঈদগাহ্ মাঠটি পতিত বনভূমি। এ কারণে মাঠটি ১৯৬৮সাল থেকে কড়ইতলী এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ফলিমারা, রক্ষিতপাড়ার প্রায় ৫ হাজার গ্রামবাসী ঈদগাহ্ মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। এলাকার একমাত্র মাঠ হিসেবে সেখানে ওই তিন গ্রামের বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করে। তা ছাড়া ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও ঈদগাহ্ মাঠটি ব্যবহৃত হচ্ছে। কড়ইতলী সড়কটি বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিনের নামে করা হয়েছে। অথচ তাকেই বন মামলার আসামি করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিন জানান, বন বিভাগের লোকজন হুট করে ঈদগাহ্ মাঠে চারা রোপণের উদ্যোগ নেয়। বন বিভাগের এমন সিদ্ধান্ত জানার পর তিনি এলাকাবাসীর পক্ষে ঈদগাহ্ মাঠ জনস্বার্থে ব্যবহারের জন্য গত ১১ জুন গাজীপুরে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত আবেদন করেন। আবেদনের সাথে সংযুক্ত কাগজে গণস্বাক্ষর দেন ওই এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার দেড় শতাধিক মানুষ। আবেদনটি ‘মানবিক কারণে সদয় বিবেচনার জন্য সুপারিশ করেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ, গাজীপুর সদর উপজেলার তৎকালীন চেয়ারম্যান ইজাদুর রহমান মিলন, ভাওয়ালগড় ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন সরকার।

তিনি অভিযোগ করে  আরো বলেন, তৎকালীন ডিএফও এ,এস,এম জহির উদ্দিন আকনের নির্দেশে বন বিভাগের লোকজন প্রথমে ঈদগাহ্ মাঠের চারিদিকে চারা গাছ রোপণ করে। অথচ পরবর্তীতে রাতের আঁধারে পুরো ঈদগাহ্ মাঠে চারা গাছ রোপণ করে বন বিভাগের লোকজন।

মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিনের পুত্র তানভীর আহম্মেদ জানান, তৎকালীন ডিএফও তাকে বলেছিলেন এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে ঈদগাহ্ মাঠে বাগান সৃজনের সিদ্ধান্ত তিনি নিবেন। অথচ তিনি এলাকার সুশিল সমাজসহ মাননীয় সংসদ সদস্যের অনুরোধ উপেক্ষা করেছেন। সেই সাথে যেই অসুস্থ পিতাকে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিতে হাসপাতালে নিতে হয় তাকেও মামলার আসামি করা হয়েছে। এমনকি তার ভগ্নিপতিকেও মামলার আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ৪ জুলাই সকাল ৭টা দিকে কড়ইতলী ঈদগাহ্ মাঠে বন বিভাগের রোপিত চারা মামলার প্রথম আসামি তানভীর আহম্মেদ ও দ্বিতীয় আসামি জসিম উদ্দিন তুলে ফেলেন। এসময় তৃতীয় আসামি মানু মোল্লা তুলে ফেলা চারা গাছগুলো অপসারণের কাজে এবং মামলার চতুর্থ আসামি মুক্তিযোদ্ধ সিরাজ উদ্দিন এই কাজের পাহারায় ছিলেন। এসময় বন বিভাগের টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা দৌড়ে পালিয়ে যায়।

অনুসন্ধান বলছে, মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিন বয়োবৃদ্ধ এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। স্বাভাবিক চলাফেরায় তিনি একরকম অক্ষম। লাঠিতে ভর করে অন্যের সহযোগিতা নিয়ে তাকে চলাচল করতে হয়। অথচ মামলার বিবরণে তার দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ওই মামলায় ঘটনার সময় গত ৪ জুলাই সকাল ৭টা। একই দিন বিকালে গাজীপুর সদরের মির্জাপুর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল আলীম কড়ইতলী ঈদগাহ্ মাঠ পরিদর্শন শেষে তদন্ত প্রতিবেদনে লেখেন ‘ঈদগাহ্ মাঠসহ আশপাশের জমিতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে ছোট চারা গাছ রোপণ করা হয়েছে। এ ছাড়া কড়ইতলী ঈদগাহ্ মাঠে গত ৫০-৫২ বছর ধরে ওই এলাকাসহ তিনটি গ্রামের মানুষ ঈদের নামাজ, জানাযার নামাজ, ওয়াজ মাহফিলসহ ধর্মীয় সকল প্রকার অনুষ্ঠান হয়ে থাকে এবং মাঠ সংলগ্ন একটি স্কুল ও মাদ্রসার ছাত্র-ছাত্রীরা ওই মাঠে খেলাধুলা করে।’

এ ব্যাপারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’