• আজ ৩রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

এবার নুসরাতের খালাত বোনকে হত্যাচেষ্টা!

৮:৪১ অপরাহ্ণ | রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ দেশের খবর

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক:ফেনীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির খালাত বোন ফারজানা আক্তার ফাহিমাকে হত্যাচেষ্টা চালিয়েছে তার দেবর।

অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার দেবর তাকে হত্যা চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার ফারজানা আক্তারকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর জেলার ফুলগাজির জিএমহাট ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে তাকে নির্যাতন করা হয়।

এর আগে তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তার ঠোঁটে চারটি সেলাই দেয়া হয়েছে। আঘাতে তার দাতের মাড়ি নড়বড়ে হয়ে গেছে।

এ ঘটনায় ফারজানা আক্তার বাদী হয়ে ওইদিন ছাগলনাইয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে কেউ এখনও আটক হয়নি।

ফারজানা আক্তার ছাগলনাইয়ার ঘোপাল ইউনিয়নের দুর্গাপুর সিংহনগর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী মেয়ে। নুসরাত জাহান রাফির খালাত বোন।

ফারজানা আক্তারের মা রুপিয়া আক্তার রোববার জানান, জিএমহাটের লক্ষ্মীপুর গ্রামের আবু তৈয়বের ছেলে আবু বক্কর ছিদ্দিক নয়নের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয় ২০১০ সালের ১০ জুলাই। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। নয়ন চট্টগ্রামে এক্সিম ব্যাংকে কর্মরত রয়েছেন।

বিয়ের পর থেকে তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল তার দেবর মনছুর আলম। তাকে সে প্রায় সময় অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে সাড়া না দেয়ায় নানা ছুতোয় ফারজানাকে জ্বালাতন করত মনছুর। বিষয়টি বারবার তার স্বামীকে জানানোর পরও সে গুরুত্ব দেয়নি।

তিনি জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথাকাটাটির একপর্যায়ে ঘরের ভেতর ফারজানাকে লাথি ও কিলঘুষি মেরে রক্তাক্ত করে ফেলে মনছুর। চুলের মুঠি ধরে ঘরের মেঝেতে আঁছাড় দেয় সে। এতে তার ঠোঁট ফেটে যায়। নড়ে যায় দাতের মাড়ি। ওই সময় তার শাশুড়ি ছেমনা বেগমও তাকে পেটাতে থাকেন। তখন তার স্বামী চট্টগ্রামে ছিলেন।

ফারজানার মা অভিযোগ করেন, তারা (ফারজানার দেবর-শাশুড়ি) আমার মেয়েকে মেরে ঘর থেকে অন্যত্র সরে যায়। প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় ফারজানা সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে চিকিৎসা নিতে ফেনী যাওয়ার পথে মনছুর ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা তার গাড়ি আটকে দেয়। তাকে চিকিৎসা না দিয়ে জোর করে বাড়িতে নিয়ে আসে। খবর পেয়ে তার মা ওই বাড়িতে গিয়ে অচেতন অবস্থায় মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ফারজানা বিয়ের পর থেকে তার ওপর চলা নির্যাতনের বর্ণনা লিখে গেছেন। চার পৃষ্ঠার বর্ণনায় তিনি বলেছেন, দেবর তার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। তার স্বামীও পরকীয়ায় আসক্ত। তাকে স্ত্রী হিসেবে মানতে নারাজ তার স্বামী। তার এতসব অভিযোগ কেউ বিশ্বাস করছেন না।

ফারজানাকে মারধরের ঘটনা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সত্যতা স্বীকার করেছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেলে ফারজানা আক্তারের সঙ্গে থাকা তার ভাই ফারুক হোসেন বলেন, ফারজানা কথা বলতে পারছেন না। দাতের নিচের মাড়ি নড়ে গেছে। শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা। ঠোঁটে সেলাই দেয়া মুখ ফুলে গেছে।

অভিযোগ তদন্তকারী ছাগলনাইয়া থানার এসআই মনির হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল ফুলগাজি থানায়। মামলা করলে ওই থানায় করতে হবে। তারপরও এ থানায় অভিযোগ দেয়ায় আমি ঘটনাস্থলে দু’বার গিয়েছিলাম। তবে বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি।

ফারজানা আক্তারের স্বামী আবু বক্কর ছিদ্দিক নয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রথমে আমার মায়ের হাতে আঘাত করেছিল ফারজানা। তখন আমার ভাই মনছুর ফারজানাকে লাথি মারে। এত কিছু হয়েছে পরিবার থেকে আমাকে জানানো হয়নি।