• আজ ৩রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মধুর ক্যান্টিনে মুখোমুখি ছাত্রলীগ-ছাত্রদল

৯:২০ অপরাহ্ণ | রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ শিক্ষাঙ্গন
modhu

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ দীর্ঘ ৫ বছর পর আজ বাংলাদেশের রাজনীতির আতুর ঘর খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে আসে ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটি। বিগত কয়েক বছর মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের একক প্রাধান্য থাকলেও এখন মধুতে নিয়মিত রাজনৈতিক চর্চা করতে চায় তারা। মধুতে অবস্থানকালে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিয়েছে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

নতুন ছাত্রদলের নির্বাচিত সভাপতি ও সাধান সম্পাদক হিসেবে আজই প্রথম মধুর ক্যান্টিনে আসেন তারা। যদিও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ’ ও ‘পাল্টাপাল্টি স্লোগানে’ নতুন কমিটির প্রথম দিনটি ভালো কাটেনি বলে জানিয়েছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। মধুর ক্যান্টিনে পূর্ব থেকে অবস্থান করা ছাত্রলীগের কর্মীদের সাথে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। যদিও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সকাল ১১টার আগে মধুর ক্যান্টিনে আসে। তারা আসার পরপরই সংগঠনটির নেতাকর্মীরা এসে মধুর ক্যান্টিন দখল করে। এবং বিভিন্ন ধরণের স্লোগান দিতে থাকে।

অন্যদিকে, ১১টায় ১৫ মিনিটের দিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মধুর ক্যান্টিনে আসে। তারা আসার সময় সংগঠনটির দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

এসময় ছাত্রলীগের শীর্ষ চার নেতার সমর্থকরা তাদের দেখে চড়াও হন। তারা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কটুক্তিমূলক স্লোগান দিতে থাকেন। তখন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন স্লোগানে মাতিয়ে রাখেন মধুর ক্যান্টিন। উভয়ের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করলেও কোন ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।

ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন বলেন, ছাত্রদল সবসময় সাধারণ ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলে। তাদের নিয়ে কাজ করেছে। গোপালগঞ্জ বিশ^বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমস্যা হচ্ছে। সেখানে আমরা প্রথম ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কাজ করব। আমরা অলরেডি কাজ শুরু করেছি। আর আপনারা এর বাস্তবায়িত রূপ দেখতে পাবেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ঢাবিতে যেসব ছাত্র সংগঠনগুলো ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু এখানে কোন গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। সহাবস্থান কিছুটা থাকলেও পুরোপুরি নেই। সেকারণে কৌশলগত কারণ হিসেবে আমরা ভিন্ন পথ অবলম্বন করি। যেমন কোটা আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং ভ্যাট আন্দোলনে আমরা সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও আমাদের সাহায্য-সহযোগিতা ছিল।

ছাত্রদলের বর্তমান কমিটি সম্পর্কে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, বর্তমানের ছাত্রদলের কমিটি করা নিয়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ছিল কিন্তু তার হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাতের আধারে ছাত্রদলে কমিটি দেওয়া হয়েছে আমার মনে হয় না সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলের এই কমিটি মেনে নিবে।

তিনি আরো বলেন, তারা আজকে ক্যাম্পাসে এসেছে আমি তাদের একটা কথাই বলেছি তারা যে স্লোগান দেয় ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ এটা যাতে তারা না দেয় কারণ এই ‘জিন্দাবাদ’ শব্দটা অনেক কষ্ট করে এবং অনেক রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে তাড়ানো হয়েছে।