নবীগঞ্জের সেই ‘মনি’ কারাগারে, ৭দিনের রিমান্ডের আবেদন, শতাধিক পর্ণ ভিডিও উদ্ধার

৯:০১ অপরাহ্ণ | সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯ সিলেট
Habigoj

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: নবীগঞ্জে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত ফরজুন আক্তার মনি নামের ওই নারীকে সোমবার সকালে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তাকে জিঞ্জাসাবাদের জন্য ৭দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ।

এর আগে গত রোববার বিকেলে শহরতলীর জে.কে উচ্চ বিদ্যালয় পয়েন্ট থেকে নবীগঞ্জ থানার একদল পুলিশ ডিজিটাল নিরাপত্তা ও তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলায় থানার এসআই শামসুল ইসলাম, এসআই শমীরণ দাশের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ২টি এনআইডি কার্ড, বিভিন্ন সংস্থার বেশ কিছু ভূয়া আইডি কার্ড, ৩টি মোবাইল ফোন, ১০ টি সিম কার্ড, একটি কলম ক্যামেরা এবং মোবাইলে শতাধিক পর্ন ভিডিওসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

এদিকে গতকাল সোমবার নবীগঞ্জ উপজেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী মোঃ শাহনেয়াজ মিলাদ, উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম এর উপস্থিতিতে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগম বহুরুপী ফারজানা আক্তার ফরজুন ওরফে মনির বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব উপস্থাপন করলে, মনির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সর্ব সম্মতিতে সিন্ধান্ত গৃহিত হয় এবং প্রতারক মনি কর্তৃক নবীগঞ্জের সিনিয়র সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও সরকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকের মাধ্যমে মানহানিকর স্ট্যাটাস দেয়ার জন্য নিন্দা প্রস্তাব গৃহিত হয়।

অভিযোগে প্রকাশ, ওই মনি দীর্ঘদিন যাবত নিজেকে সাংবাদিক ও মানবাধীকার কর্মী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজনের সাথে প্রতারণা করে আসছিল। তার টার্গেট ছিল- নারী জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা ও স্কুল-কলেজের ছাত্রী। প্রতি রাতেই নারীদের বিভিন্ন অশালীন ম্যাসেজ দিতো। এসব ম্যাসেজের স্ক্রীণশর্ট প্রকাশ হওয়ায় মনি নারী না পুরুষ এনিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।  মনির এই প্রতারণার ফাঁদে পড়ে কেউ প্রতিবাদ করলেই মনি তার ফেইসবুক আইডিতে বিভিন্ন রকম হুমকি ধামকিমূলক ও মানহানীকর স্ট্যাটাস পোস্ট দিয়ে অপদস্ত করতো বলেও জানান ভূক্তভূগীরা।

অভিযোগ রয়েছে- নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউপির কায়স্থগ্রামের জহুর উদ্দিনের মেয়ে বহু রূপের অধিকারী ফয়জুন আক্তার মনি  বিশেষ করে নিজেকে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আত্মীয় এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের মেয়ে আবার অনেককে ভাতিজি পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করতো। অবশেষে সাংবাদিক এম এ আহমদ আজাদ বাদি হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মনির নাম উল্লেখ করে আরো ৩ জনগং আসামী দিয়ে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় মনিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সমীরণ দাশ , বলেছেন তার রহস্য উদঘাটনের জন্য জিঞ্জাসাবাদের জন্য ৭দিনের রিমান্ডের আবেদন হয়েছে।